টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা, বৌলাই, রক্তি, যাদুকাটা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি সতর্ক সীমা ও বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টায় ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ে সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে উজানের ঢল নেমে এসে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিতে পানি প্রবেশ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি সীমান্ত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টির মধ্যে ভিজে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
