বান্দরবানে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকট রয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে তারা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সকাল থেকে হালকা যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এছাড়া বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় সেতুর পাশের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
টানা বর্ষণের ফলে জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। রোববার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসায় বন্যার পানি নামতে শুরু করে। তবে জেলার অনেক নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি এখনো পানির নিচে রয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, টানা বৃষ্টিপাতজনিত এ দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ভেসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলায় ২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
