আমরাই আমাদের শক্তি

আমরাই আমাদের শক্তি

ফন্ট সাইজ:

ঢাকাসহ সারা দেশে কয়েকদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট মহাসড়ক ও রেললাইন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। মহাসংকটে পড়ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই অতিবৃষ্টির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চলসহ বাংলাদেশের একাংশ আজ বন্যায় ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা এখন বন্যাদুর্গত। পানিতে ভেসে গেছে গবাদিপশু, পুকুরের মাছ, কাঁচাপাকা বাড়ি। হাহাকার চারদিকে। ঘরে খাবার নেই। চলাচলের রাস্তা নেই।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট। জনপদ বিপন্ন। মানুষের এখন প্রয়োজন খাদ্য। বাসস্থানে থাকার উপযোগী অবস্থা নেই। অনেকের কাঁচাবাড়ি ভেঙে গেছে। বন্যা চলে গেলে এসব বাড়ি মেরামত করতে হবে। তখন প্রয়োজন হবে সাহায্যের। আকাশ যেন উপুড় হয়ে আছে। চারদিকে থইথই পানি। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে মানুষ মারা যাচ্ছে। বানের জলে হারিয়ে যাচ্ছে কোলের শিশু। তবে আমরা কি অসহায়? কখনোই না। এরকম উপদ্রুত এলাকায় আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষে তখন সবাই এগিয়ে এসেছি। আমরা নিজেদের এই বিপদ থেকে মুক্ত করেছি। যার যা আছে তাই নিয়ে অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানুষের খাদ্য সংকটকে কাটানোর চেষ্টা করেছি। সেই সত্তর সালেও আমাদের এই দেশপ্রেম ছিল তীব্রভাবে। আমরা গিয়েছিলাম বরিশাল, ভোলায়। কাজ করেছিলাম সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। সেই বন্যা থেকেও আমরা পরিত্রাণ পেয়েছিলাম।

১৯৮৮ সালের বন্যার কথা মনে পড়ে। পুরো ঢাকা শহর ডুবে গিয়ে পানিবন্দি ছিল মানুষ। ঢাকায় তখন রাস্তার উপরে নৌকা চলছে। মানুষের সে কী হাহাকার। সেই জলও সরে গেল মাথা তুলে দাঁড়ালো ঢাকা শহর। পত্র- পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সারাক্ষণ পানিবন্দি মানুষের দুর্গতির কথা। আমি মনে করি আমরা যেহেতু আমাদের দেশকে ভালোবাসি তাই সবাই মিলে দেশকে বিপদ থেকে মুক্ত করবোই। সচ্ছল মানুষের উচিত হবে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দেশের প্রধানমন্ত্রীও বারবার অনুরোধ করছেন আমরা যেন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। অর্থনৈতিক সাহায্য ছাড়াও শুকনো খাবার, ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এলাকার তরুণরা এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে।

প্রতি বছরই আমরা দেখি পাহাড় ধসে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণ কি মিলছে? ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পরই আমরা তৎপরতা দেখাই এরপর আবার ভুলে যাই। ঘটনা ঘটার আগে কেন আমরা এর প্রতিকার করি না! এই যে অতিবৃষ্টির ফলে যখন পাহাড় ধস হচ্ছে এর থেকে মুক্তি পেতে হলে পাহাড়ের কোলঘেঁষে যে বসতি তৈরি হয় সেগুলো থেকে মানুষকে বিরত রাখা গেলে অবশ্যই এই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। পাহাড়ের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে পাহাড়ে জনবসতি বন্ধ করা প্রয়োজন। পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠার কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। মানুষের ভেতর সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি। পাহাড়ি ঢলকে মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করতে হবে। এই পানিকে নির্বিঘ্নে খালে প্রবেশ করিয়ে নদীতে দিতে পারলে সমতলে পানির চাপ কমে যাবে বলে বিশ্বাস করি।

বছর বছর বন্যা এসে যেন আমাদের নিঃস্ব করতে না পারে সেজন্য বন্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু সরকারই নয় বেসরকারিভাবে ব্যক্তি উদ্যোগেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হতে পারে।
আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জেগে উঠি। এটাই বাংলাদেশ। এটাই বাঙালির চরিত্র। বন্যায় আমরা বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবো- এই হোক আমাদের শপথ। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল দেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চল ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময়ে অনেক প্রাণহানি হয়েছিল। তারপরও আবার আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। এভাবেই বারবার আমরা বিপদ থেকে জেগে উঠি, বাংলাদেশ জেগে ওঠে। আমাদের দেশে আইলা আসে, সিডর আসে, ঝড় জলোচ্ছ্বাস আসে- এসব মোকাবিলা করেই আমরা টিকে থাকি। আমাদের একতাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয় আমরা যেকোনো কাজে হাতে হাত রেখে সবাই মোকাবিলা করি। বাংলাদেশ বারবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমরাই আমাদের শক্তি হয়ে কাজ করি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন