প্রকাশিত হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল

প্রকাশিত হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এই ফল জানতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৫ দিন। এ বছর মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।

রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন; ৫৪.৭১ শতাংশ, ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন; ৪৫.২৯ শতাংশ।

ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে বৃত্তি (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়।

ফলে আরও দেখা যায়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন এবং ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন। পরীক্ষায় মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন; ৬৫.১১ শতাংশ। যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭জন; ৬২.০১ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন; ৮৪.১৬ শতাংশ। উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থীর ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন; ৬০.৩২ শতাংশ ছাত্রী। ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন ছাত্র; ৩৯.৬৮ শতাংশ ছাত্র।

জেলাভিত্তিক ফলে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৫০ জন বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ১৩৯ এবং সাধারণ গ্রেডে ১ হাজার ৭১১ জন। অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলায় সবচেয়ে কম ১২ জন বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫ এবং সাধারণ গ্রেডে ৭ জন। খুলনা জেলায় সবচেয়ে বেশি কৃতকার্য হয়েছে; ৬৫.৬১ শতাংশ। ১ হাজার ৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২০ জন কৃতকার্য হয়েছে। নোয়াখালী জেলায় অকৃতকার্যের হার সবচেয়ে বেশি; ৫৯.৬৫ শতাংশ। জেলায় মোট ১ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি। মোট ৫১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা ৯১ দশমিক ৮৪ শতাংশ উপস্থিতির হার। আর ভোলা জেলায় ৭৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫১ জন অনুপস্থিত ছিল, যা ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসী ঘোষণা দেন, প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-উভয় ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে এ বাড়তি হারে টাকা পাবে আগামীতে (২০২৬ সাল) যারা বৃত্তি পরীক্ষা দেবে তারা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ৩০০ টাকা করে পেয়ে থাকে। আর সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসিক ২২৫ টাকা পাচ্ছে। ২০২৬ সাল অর্থাৎ আগামীতে যারা বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হবে, তাদের জন্য বৃত্তির টাকার হার দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আগামীতে যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে, তাদের এককালীন ৪৫০ টাকা এবং মাসিক ৬০০ টাকা দেয়া হবে। আর যারা সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাবে, তারা এককালীন ৪৫০ টাকা এবং মাসিক ৪৫০ টাকা করে পাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন