চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না দেয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কলেজ কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির শিকদারসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে খবর পেয়ে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজে (এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে) এ ঘটনা ঘটে।
ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীরা ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষার প্রশ্ন অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতির সঙ্গে না মেলায় এবং কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক সহযোগিতা না পাওয়ায় পরীক্ষা শেষে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের একদল পরীক্ষার্থী কলেজে হামলা চালায়। তারা কলেজের দু’টি গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভবনের জানালা-কপাট ভাঙচুর করে। তবে এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেই।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, একদল পরীক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে- এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব না হওয়ায় কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ বা মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
