জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামধরপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষকের কাঁচা মরিচের ক্ষেত কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কৃষক মো. জুবায়ের আহমেদের মরিচ ক্ষেতের কিছু অংশে এলোপাতাড়িভাবে অসংখ্য গাছ কেটে নষ্ট করে দেয়। সকালে জমিতে গিয়ে ক্ষেতের এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন জুবায়ের ও তার স্বজনরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, প্রতিটি গাছেই পর্যাপ্ত ফলন ছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে মরিচ বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। ভালো দামের আশায় তারা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু রাতারাতি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের সব আশা ভেঙে গেছে। কৃষক মো. জুবায়ের আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ধারদেনা করে অনেক কষ্টে মরিচ চাষ করেছি। রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে দেয়া হয়েছে। এখন আমরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হবে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী একই গ্রামের আজিজল হক ও তার ভাইয়েরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে বহু পরিবার মরিচ চাষের ওপর নির্ভরশীল। এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ঘটনাটি দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. আজিজল হক বলেন, আমরাও কৃষক মানুষ। একজন কৃষক হয়ে অন্য কৃষকের এমন ক্ষতি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পূর্ব বিরোধ থাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে, তারা শিগগিরই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আঁধারে মরিচ ক্ষেত নিধন
জামালগঞ্জে শত্রুতার আগুনে কৃষকের সর্বনাশ
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
