পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আমলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ জানিয়েছেন এই সম্প্রদায়ের নেতারা। বলা হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিভিন্ন চার্চ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থনা সভায় হামলা চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বঙ্গীয় খ্রিস্টান পরিষেবা সংস্থা আগামী ১৪ই জুলাই মধ্য কলকাতার স্টেটসম্যান হাউসের বাইরে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা একাধিক লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এই সম্প্রদায়টি রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে গত ৫ই জুলাই সোনারপুরের সুভাষগ্রামে একটি নির্মাণাধীন গির্জায় ভাঙচুরের ঘটনাও।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক খোলা চিঠিতে আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং পশ্চিমবঙ্গে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, মোদী জি, এই দেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই? সিং বলেছেন, বাংলায় গির্জা এবং খ্রিস্টানদের সমাবেশে হামলার ঘটনাগুলো সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করতে সংগঠিত ভীতি প্রদর্শন, ভাঙচুর, উপাসনায় বিঘ্ন ঘটানো এবং ধর্মান্তরের অভিযোগের অপব্যবহারের এক উদ্বেগজনক ধারা প্রতিফলিত করছে।
তিনি কলকাতার নিকটবর্তী সোনারপুরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে অবৈধ ধর্মান্তরের অভিযোগে গত ৫ই জুলাই সুভাষগ্রামে একদল উন্মত্ত জনতা একটি নির্মাণাধীন গির্জাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, গির্জার চত্বর ভাঙচুর করে এবং ভবনের উপরে স্থাপিত তিনটি ক্রশ ভেঙে ফেলে। তিনি জানান, অন্যান্য অংশ থেকেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের প্রার্থনা সভা এবং এক খ্রিষ্টান দম্পতির বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি নারীদের উপর হামলা এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী বৈবাহিক প্রতীকগুলো জোর করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব বর্ধমানেও রবিবারের উপাসনার সময় গ্রেস চার্চে কথিত হামলা চালানো হয়, যেখানে প্রার্থনা কক্ষটি ভাঙচুর করা হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। সিং অভিযোগ করেছেন, এই সব ক্ষেত্রে পুলিশের কোনও পদক্ষেপ ছিল না। বরং কিছু ক্ষেত্রে ভাঙচুরের অভিযুক্তদের পরিবর্তে গির্জার নেতা ও যাজকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
