বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানে টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সাত উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’মিল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকা, ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

প্লাবিত এলাকার লোকজন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষিত বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে খিচুড়ি এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক এবং বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টানা ভারি বর্ষণের ফলে জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে সড়কের ওপর পড়ে। সংযোগ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণকে সতর্ক করতে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য বিদ্যালয়গুলোসহ সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। যারা আশ্রয় নিয়েছে সবাইকে খিচুড়ি ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন