পেনাল্টি মিস তাতে কী! এমবাপ্পে কি থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি তো দমবার পাত্র নন। তার নান্দনিক খেলা অপেক্ষা করছিল। এবং ঠিকই গোল বের করলেন অত্যন্ত দর্শনীয় এক শটে। বোস্টন স্টেডিয়ামে এমবাপ্পের শুরুটা বলছিল- খেলার ভাগ্য এভাবেই গড়াবে। মরক্কোর মাজরাউয়ি তাকে ফাউল করলে নাটকীয়ভাবে পেনাল্টির সুযোগটা আসে। কিন্তু এমবাপ্পে নিজেই শট নেন। আসলে এক ভয়ঙ্কর পেনাল্টি। দুর্বল শট। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু অতি সহজেই বল রুখে দেন। ৬০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করতে হয়। গোল আসে এমবাপ্পের কাছ থেকেই। এর মাত্র ছয় মিনিট পরেই উসমান দেম্বেলে আরেক গোল করে মরক্কোর হৃদয় ভেঙে দেন। তাদের স্বপ্ন উবে যায়।
প্রথমার্ধে মরক্কোর খেলা দেখে মনে হয়েছিল, তারা আগে থেকেই হেরে বসে আছে। অথবা তাদের ভুল ট্যাকটিক্সে খেলার ছন্দ ছিল অনুপস্থিত। তারা কি ভেবেছিল ফ্রান্সকে রুখে দিতে পারবে এভাবে খেলে! কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি তাদেরকে বারবারই তাড়া করছিল। সেদিনও তারা হেরেছিল ২-০ গোলে, তাও ফরাসিদের কাছেই। ইতিহাস কখনো কখনো পাল্টায়। মরক্কানদের ইতিহাস আর পাল্টালো না। লড়াইও তেমন জমলো না। কাতারে যেমনটা জমেছিল। এমবাপ্পে এবং হাকিমি দু’জনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একই ক্লাবে খেলেছেন। খেলার আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো দুই বন্ধুর লড়াই কেমন হবেÑ তা নিয়ে এক ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি সামনে এনে বলাবলি হচ্ছিল, যে কেউ জিততে পারেন। কিন্তু এমবাপ্পে কি এই সুযোগ দেবেন? সবমিলিয়ে তিনি সুযোগ পেলেন তিনটি। একটি গোল, একটি পেনাল্টি মিস। আর দেম্বেলের গোলটির কারিগরও তিনি। এমবাপ্পের পা থেকে আসা বলেই দেম্বেলে চমৎকার গোল করেন। এটা যেন দেম্বেলের স্বভাবসুলভ ছন্দ। এই বিশ্বকাপে ৮ গোল নিয়ে মেসির সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলেছেন অসাধারণ গতিসম্পন্ন এমবাপ্পে।
কাউন্টার-অ্যাটাকে তার গতি প্রতিপক্ষের জন্য বরাবরই হুমকি। ফুটবলভক্তরা অঙ্ক মেলাচ্ছেন। বলছেন, শেষ পর্যন্ত কি মেসির মুখোমুখি হবেন এমবাপ্পে? যেমনটা হয়েছিলেন কাতারে। হ্যাটট্রিক করেও পেনাল্টি শুটআউটে তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল। মেসির আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন। বোস্টনের মাঠে হতাশায় ডুবিয়েছিলেন এমবাপ্পে পেনাল্টি মিস করে। পরের ইতিহাস সবার জানা। খেলাটি শাসন করেছেন তিনি দীর্ঘসময়। কেমন যেন ফ্রান্সের সামনে এলেই মরক্কো একেবারে গুটিয়ে যায়। জেনে রাখা ভালোÑ এই লড়াইয়ে নামা মরক্কোর ছয় ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনেক কথাই বলে। আসলে খেলা খেলাই। জন্মভূমি কোনো বিষয় নয়। আগের লেখায় প্রশ্ন রেখেছিলামÑ বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে? শেষ পর্যন্ত ফরাসির নীলেই রঙিন হলো বিশ্বকাপের আসর। বদলা নেয়ার আগুন নিভে গেল মরক্কোর।
