টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীকরণে শিক্ষকদের অসন্তোষ

ফন্ট সাইজ:

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব গবেষণা তহবিল বণ্টনের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অধীনে তা কেন্দ্রীভূত করার নতুন নিয়মে বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফলে একাডেমিক স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকরা এখন থেকে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে সরাসরি ইউজিসি’র কাছে গবেষণার অনুদানের জন্য আবেদন করবেন, যা আগে ইউজিসি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাজেট আকারে বরাদ্দ দিতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব বিবেচনায় তা বণ্টন করতো।

যদিও সরকার ও ইউজিসি দাবি করেছে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি এবং এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার ফলে গবেষণার মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় শিল্প খাতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে গবেষণার সমন্বয় করা সহজ হবে, তবে দেশের শিক্ষাবিদরা এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া টাইমস হায়ার এডুকেশনকে বলেন, ইউজিসি’র এই সিদ্ধান্তের কারণে স্পষ্টতই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন হ্রাস পেয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন এই প্রক্রিয়ার ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ধীরগতি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে, কারণ ইউজিসি এখন গবেষণা ও বাজেট পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও অনেক বেশি নথিপত্র ও তথ্য দাবি করবে। ফলে তহবিল ছাড় করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আগের বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোতে অনেক সহজ ও কার্যকর ছিল। একই বিভাগের অধ্যাপক শান্তানু মজুমদার প্রশাসনিক জটিলতার চেয়েও বড় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, এই নতুন ব্যবস্থায় তহবিল বণ্টন কতোটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে, কারণ কোনোভাবেই রাজনৈতিক পরিচয় তহবিল পাওয়ার মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল (স্টেম) খাতের গবেষণাকে অতিরিক্ত অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান কিংবা ব্যবসায় শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষদগুলোকে যেন অবহেলা বা বৈষম্যের শিকার করা না হয়, কারণ মহাসমুদ্রবিদ্যা বা বিজ্ঞান যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি মানবাধিকার বা সমাজবিজ্ঞানের গবেষণাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল হক সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই পরিবর্তনে কেউই খুশি নয়। তিনি ইউজিসি’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন যে, সারা বাংলাদেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষকের গবেষণার প্রস্তাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করার মতো পর্যাপ্ত জনবল বা সক্ষমতা ইউজিসি’র নেই, যা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি বড়সড় সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। এই তীব্র বিতর্কের মধ্যেই ইউজিসি জুলাইয়ের শুরুতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত তাদের গবেষণা পরিকল্পনা ও বাজেটের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, তবে এই বিষয়ে মন্তব্য নেয়ার জন্য ইউজিসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন