কালাইয়ে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টিতেই ঘরে হাঁটুসমান পানি, দুর্ভোগে ৩০ পরিবার

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘদিনের তীব্র খরার পর সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হয় স্বস্তির বৃষ্টি। কিন্তু সেই বৃষ্টি কালাই পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লার অন্তত ৩০টি পরিবারের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মহল্লার বিভিন্ন বাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়, ঘরবন্দি হয়ে পড়েন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো মহল্লা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে প্রথম শ্রেণির কালাই পৌরসভার নাগরিকরা উন্নত সেবার পরিবর্তে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানা গেছে, কাজীপাড়া মহল্লাটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে বাড়িঘর তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সেই পানি আটকে থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়ে। বাসিন্দাদের দাবি, পৌরসভার নির্মিত একটি সরু ড্রেন দিয়েই এতদিন বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু মহল্লার ছফির উদ্দিন, কালাম ও আবু সাঈদ নামে তিন ব্যক্তি নিজেদের জমির উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ফারজানা, রজুফা, রেজিয়া, তমেজসহ অন্তত ৩০টি পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী রজুফা বেগম বলেন, এটা আজকের সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে একই কষ্ট ভোগ করছি। বারবার পৌরসভায় জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আজ চুলার উপরও পানি উঠে গেছে। রান্না করতে পারিনি। পরিবারের সবাই না খেয়ে আছে। আরেক বাসিন্দা ফারজানা বলেন, দিন দিন এ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে যায়। চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। অনেকবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে ছফির উদ্দিন বলেন, নকশা অনুসরণ না করে আমাদের ব্যক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

দুই সীমানার মাঝখানে ড্রেন না করে আমাদের জমির উপর নির্মাণ করায় আমরা ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছি। আগে জমির বিষয়টির সমাধান করতে হবে। এ বিষয়ে কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। কয়েকবার ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সোমবারও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনের মুখ খুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন