আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কর্মকর্তাদের তহবিল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদানকারী একমাত্র স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা ‘ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশন’ (ইএসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে সরাসরি ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইএসি-এর কমিশনারদের কাছে পাঠানো ইমেইলে লেখেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড জে. ট্রাম্পের পক্ষে আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, নির্বাচন সহায়তা কমিশনের কমিশনার হিসেবে আপনার পদের মেয়াদ অবিলম্বে অবসান বা অবলুপ্ত করা হলো।
আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ। এই আদেশের মাধ্যমে সংস্থাটির দুই ডেমোক্রেটিক কমিশনার থমাস হিকস ও বেঞ্জামিন হভল্যান্ডকে বরখাস্ত করা হয় এবং এর পরপরই একমাত্র রিপাবলিকান কমিশনার ক্রিস্টি ম্যাককরমিক পদত্যাগ করেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) ক্ষমতাও ব্যাপকভাবে খবর করেছিল। ফলে রাজ্যগুলোতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইএসি-ই ছিল অন্যতম প্রধান স্বাধীন ফেডারেল রক্ষাকবচ।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক ‘স্লটার সিদ্ধান্ত’ ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত ২৯শে জুন দেওয়া ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতাকে বৈধতা দেয় এবং ৯১ বছরের পুরোনো ‘হামফ্রিস এক্সিকিউটর’ নজির বাতিল করে দেয়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে যারা প্রশাসনের নীতির সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নন, তাদের সরিয়ে দেওয়ার পূর্ণ অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
এই বরখাস্তের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যারিজোনার ডেমোক্রেটিক সেক্রেটারি অব স্টেট আদ্রিয়ান ফন্টেস। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রশাসন দেশজুড়ে আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। এই পদক্ষেপটি একটি নির্দলীয় নির্বাচন ব্যবস্থার সততাকে সম্পূর্ণ ক্ষুণ্ণ করে। এছাড়া নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রগতিশীল থিংক-ট্যাংক ‘ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস’-এর প্রেসিডেন্ট মাইকেল ওয়াল্ডম্যান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরলস প্রচেষ্টারই এটি একটি অংশ। এই গণছাঁটাইয়ের ফলে সংস্থাটি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে এবং এর প্রধান দায়িত্বগুলো পালন করার ক্ষমতা হারিয়েছে।
ওদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ২০২৫ সালে সই করা তার সেই নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা এবং ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর সময়সীমা কঠোর করার জন্য ইএসি-কে চাপ দিচ্ছিলেন।
