বিজেপিতে যোগ দেয়ার কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইককে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনজনের নাম ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির টিকিটে তারা রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন। আগামী ২৪ জুলাই এই তিনজনের পদত্যাগের ফলে শূন্য আসনে ভোট নেয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে শূন্য তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নানা জল্পনা চলছিল। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এবার তিনটি আসনই বিজেপির দখলে যাওয়ার কথা। কারণ, বিধায়ক সংখ্যা এবং তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে ভাঙনের জেরে ঘাসফুল শিবির প্রার্থীই দিতে পারবে না। তার ভিত্তিতেই তিনটি আসনে বিজেপি কাদের প্রার্থী করবে, তা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক কলকাতার নিউটাউনে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। এই যোগদানের পরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এই তিনজন। বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্য কোনও অভিযোগ না থাকায় ভালো তৃণমূল বলে অভিহিত করেছিলেন। তখনই স্পষ্ট হয়েছিল বিজেপি এদের নিয়ে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। ফলে তিনজনের যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে তিনজনকেই প্রার্থী করা হয়েছে।
তবে সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সাংসদকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপিতে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর শমীকই বলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ থাকবে। কোনও নেতাকে দলে নেয়া হবে না। সুখেন্দুশেখরদের দলে নেয়া নিয়ে শমীক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এটি ‘ব্যতিক্রমী’ ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের যোগদানের বিষয়ে যে নীতি তাদের ছিল, তা থেকে কোনও বিচ্যুতি ঘটেনি। বরং তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যারা দুর্নীতি করেননি, তাদের পাশে চায় বিজেপি। আগেই সে কথা জানানো হয়েছিল।
