চলতি বছরের মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার একটি থাই মালবাহী জাহাজের তিন সাবেক ক্রু সদস্য শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বরখাস্তের অভিযোগে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আজ শুক্রবার ব্যাংককের সেন্ট্রাল লেবার কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১১ই মার্চ ওমানের উত্তরাঞ্চলে ‘ময়ূরী নারি’ নামক থাই জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে ৩ জন নাবিক নিহত হন।
পরবর্তীতে অবশিষ্ট ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে থাইল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। অক্ষত ফিরে আসা তিন নাবিক পানিতি তুমকাউ, নোপ্পাদোন ওংজুভান এবং সুরাদেস মানপুয়েন আজ ‘প্রেশাস শিপিং কোম্পানি’ এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। নাবিকদের আইনজীবী কুনপাত সিংহাথং জানান, তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির মতো বিপজ্জনক জলপথ দিয়ে জাহাজটি পরিচালনা করে আসামিরা নাবিকদের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন।
এছাড়া হামলার পর জাহাজটি অকেজো হয়ে পড়লে তাদের ৯ মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র দুই মাসের বেতন দেওয়া হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল। কারণ, এই ভয়াবহ হামলার পর থেকে তিন নাবিকই ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে’ আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের আর জাহাজে কাজ করার কোনো মানসিক বা শারীরিক সক্ষমতা নেই।
তারা প্রত্যেকেই ১০ লাখ বাথের (প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার) বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আক্রান্ত নাবিক পানিতি, যিনি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন, তিনি বলেন, যেকোনো জোরে শব্দ হলেই আমি এখন প্রচণ্ড চমকে উঠি। আমি এখন কোনো কাজই করতে পারছি না, নিয়মিত ওষুধ খেতে হচ্ছে। তবে এই মামলার বিষয়ে প্রেশাস শিপিং কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডের মতো এশীয় দেশগুলোর হাজার হাজার নাবিক ও তাদের পরিবার এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য চড়াভাবে দিচ্ছে। গত বুধবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল শিপিংয়ের কোনো পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এই সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছেন জীবন্ত কিছু নাবিক এবং তাদের পরিবার, যারা এই সংঘাতের নির্মম শিকার হচ্ছেন।
