শঙ্কা বাড়ছে পলাতক জঙ্গিতে

সহযোগীদের খবর

শঙ্কা বাড়ছে পলাতক জঙ্গিতে

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘শঙ্কা বাড়ছে পলাতক জঙ্গিতে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চলতি জুলাই মাসে ছয়জনকে গ্রেপ্তার , সিঙ্গাপুরে আটক দুজনকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে । এর আগে গত ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরও বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল । ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত নিষিদ্ধঘোষিত নয়টি জঙ্গি সংগঠনের ৩৭০ সদস্য এবং কারাগার থেকে পালানো ৯ জঙ্গির হদিস না থাকায় তাদের একাংশের আবার পুরোনো তৎপরতায় সক্রিয় হওয়ার একটি আশঙ্কা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ছিল । কেরানীগঞ্জ , যাত্রাবাড়ী , সিঙ্গাপুরের ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই জোরালো করেছে । এই শঙ্কা বাড়ছে ৩৭৯ জঙ্গি পলাতক থাকায় ।

একাধিক সূত্র বলেছে , সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার , ছোট ছোট প্রশিক্ষণদানকারী চক্র গড়ে তোলা এবং অনলাইনে নতুন সদস্য আকৃষ্ট করার চেষ্টার বিষয়ে তথ্য যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী । তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন । পুলিশ বলেছে , যাত্রাবাড়ীর ঘটনাটিকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে । মানুষের উদ্বেগের কিছু নেই । দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না । জেল পলাতক ও জামিনে মুক্তির পর লাপাত্তা জঙ্গিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । যাত্রাবাড়ী থেকে জুলাই উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণের অভিযোগে পুলিশের গ্রেপ্তার করা ছয়জনের মধ্যে দুজন রিমান্ডে রয়েছেন । বাকি চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে । জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে আটক দুজনকে গত বুধবার দেশে ফেরত পাঠানোর পর গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ।

পুলিশের সূত্র জানায় , যাত্রাবাড়ীর একটি বালুর মাঠ থেকে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে একজন হলেন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম ( এফসিএস ) নামের একটি সংগঠনের প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির । মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের গ্রেপ্তার করা এই ছয়জনের বাকি পাঁচজন হলেন হোসাইন তানিম , মো . জুনায়েদ , আতাউল্লাহ শাহ , মো . আবিদুর রহমান ও মো . বায়েজিত । ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিন করে রিমান্ডে নেয় থানার পুলিশ । ওই রিমান্ড শেষে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সাবির ও তানিমকে বুধবার আবার তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে ওই থানার পুলিশ । তবে তাদের মূল জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ( ডিএমপি ) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ( সিটিটিসি ) ইউনিট ।

সিটিটিসির তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন , কারাগারে পাঠানো চারজনের উগ্রবাদে জড়ানোর বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি । তবে সাবির ও তানিমের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে জড়িত হওয়ার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে । তবে এখন পর্যন্ত সাবির বা অন্যদের সঙ্গে দেশি কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি । সাবির উগ্রবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে শারীরিক কসরত ও বিস্ফোরণের দৃশ্য তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে ছড়িয়েছেন বলে পুলিশকে বলেছেন ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিস্ফোরণের ওই ভিডিওটির বিষয়ে সিটিটিসি বলেছে , সেটি আইইডি ছিল না , পটকার উপকরণ দিয়ে তৈরি । ‘ ম্যাক ইউরি ’ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় ও সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এটি কোনো উগ্রবাদী ব্যক্তির ছদ্মনাম হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা । দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ যাত্রাবাড়ীতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি । আরও যাচাই - বাছাই করে দেখছি । তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কিছু নেই । উগ্রবাদ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না । ”

জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর পুলিশের হাতে আটক দুই বাংলাদেশি সাহেদুল ইসলাম ও রিশাদ তায়ানীকে বুধবার দেশে ফেরত পাঠানো হয় । হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশ তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে । গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয় । সিটিটিসি এ বিষয়টিও তদন্ত করছে । পুলিশ বলেছে , সিঙ্গাপুরে বসে এ দুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী মতামত ছড়াতেন এবং উগ্রবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে সিঙ্গাপুর পুলিশ তথ্য পেয়ে আটক করে । তাদের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ , অর্থায়ন ও বাংলাদেশে কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না , তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন , সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত ছিলেন । লেখালেখি করতেন । সেসব তথ্য যাচাই - বাছাই করা হচ্ছে । গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় । ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও মূল অভিযুক্ত আল আমিন শেখ ও তার সহযোগী শাহিনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা ছিল । পুলিশের সূত্র বলেছে , তারা আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন । পরে জামিনে বের হয়ে পুনরায় গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের ( জেএমজেবি ) কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন । ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট ( এটিইউ ) । ওই মামলায় চার নারীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ । তবে চার নারী বর্তমানে জামিনে রয়েছেন । প্রধান আসামি আল আমিন শেখকে গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । পুলিশ জানায় , তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিন পেয়েছিলেন । হাসনাবাদের ওই মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে তার স্ত্রী আছিয়া বেগম ও সন্তান আহত হয় । ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন । ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও এটিইউর পরিদর্শক শাহিদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন , আল আমিন শেখ গ্রেপ্তারের পর বোমা তৈরির বিষয়ে স্বীকার করেছেন । এটিউই সূত্র জানায় , ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে লাপাত্তা হওয়া ৩৭০ জনের মধ্যে অনেকে অপরাধে জড়িয়েছেন । তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে । পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী , জামিনে মুক্তির পর লাপাত্তা হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদস্য নিষিদ্ধ জেএমবির , ১৮৫ জন । এরপর রয়েছে হিযবুত তাহরীর জন , আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ( এবিটি ) ৫৮ জন , আনসার আল ইসলামের ২৫ জন , হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের ( হুজি - বি ) ১৬ জন , নব্য জেএমবির ১৬ জন , ‘ আল্লাহর দল ‘ - এর ৯ জন , জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার একজন এবং ইমাম মাহমুদের কাফেলার একজন সদস্য লাপাত্তা রয়েছেন । তাঁরা জামিনের পর আর আদালতে হাজিরা দেননি । বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে , এই ৩৭০ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬৩ জন , ঢাকা বিভাগের ৮৬ , রংপুর বিভাগের ৫২ , খুলনা বিভাগের ৩২ , রাজশাহী বিভাগের ২৪ , সিলেট বিভাগের ৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৬ জন পলাতক রয়েছেন । এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত নয়জন পালিয়ে যান । তাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ । সূত্র বলছে , নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব সদস্য পলাতক থাকায় অনলাইন ও অফলাইনে উগ্রবাদ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে । তাই এদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন , জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আদালতে হাজির না হওয়া এসব আসামির অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বা জারির প্রক্রিয়া চলছে । তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে । বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম , অনলাইন যোগাযোগ , অর্থের উৎস এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে । পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলেছে , জেল পলাতক ৯ জন এবং জামিনে মুক্তির পর পলাতক ৩৭০ জনের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে । একই সঙ্গে তারা যেসব মামলার আসামি , সেসব মামলার অগ্রগতি এবং আদালতে অনুপস্থিতির বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন , নিষিদ্ধ সংগঠনের বিচারাধীন বা তদন্তাধীন সদস্যদের দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বিষয় । কারণ , তারা আত্মগোপনে থেকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে । ৫ আগস্টের পর উগ্রবাদ নিয়ে একধরনের শিথিলতার কারণে এরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে । তাই পুলিশের বর্তমান তৎপরতা ভালো । সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন , যারা পলাতক রয়েছে , তাদের গ্রেপ্তারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । এখনই এ বিষয়ে বলা যাবে না । তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম ‘জাদুঘর-সার্কাসে আয় বেশি, নাটকে কম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, থিয়েটার, নাটক, সিনেমার মতো সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে গানের আয়োজন কিংবা মঞ্চনাটক বা থিয়েটার—এসব এখন মানুষ টাকা খরচ করে দেখছেন কম। এ কারণে এসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও কমে গেছে। এর বিপরীতে সার্কাস, ব্যান্ড শোর আয়োজন টাকা খরচ করে দেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। ফলে এসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের আয়ও নাটক, সিনেমা ও গানের আয়োজনের চেয়ে বেশি।

শিল্প ও বিনোদন মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ৩১৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ বা সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস। সংস্থাটির জরিপে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্কাস, ব্যান্ড শো বা অর্কেস্ট্রার মতো আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করেছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। সেখানে গান, নাচ, অপেরাসহ সৃজনশীল নানা লাইভ সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

বিবিএস শিল্প ও বিনোদন খাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও অবদানকে মূল্যায়নের জন্য এই সমীক্ষা করেছে। গত বছরের জুন-জুলাইয়ে এই সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষার জন্য ভিত্তি ধরা হয় ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪—এই দুই অর্থবছরকে। বিবিএস বলছে, এর আগে এসব খাত নিয়ে কখনো এ ধরনের সমীক্ষা করা হয়নি। সমীক্ষায় যত প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেওয়া হয়েছে, তা হয়তো পুরো খাতকে প্রতিনিধিত্ব করে না কিন্তু এসব খাত সম্পর্কে একটি ধারণা দেয় বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে। সমীক্ষায় সিনেমা নিয়ে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, দেশের নাটক, থিয়েটারসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি ও বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে। বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া এই খাত থেকে আর্থিক মূল্যে দৃশ্যমান বড় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে সাংস্কৃতিক এসব কর্মকাণ্ডের আর্থিক মূল্যের চেয়ে অন্যান্য মূল্য সংযোজন অনেক বেশি, যা সমাজ ও জাতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। এ খাতের আর্থিক মূল্য বাড়াতে হলে সবার আগে দরকার সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিনিয়োগ।

সামিনা লুৎফা বলেন, সমীক্ষায় এই খাতের আয়ের তথ্য উঠে এলেও বিনিয়োগের কোনো  তথ্য নেই। তাই কত অর্থ বিনিয়োগে কত আয় হচ্ছে, সেই তুলনা করা যাচ্ছে নাা 

নয়া দিগন্ত 

নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বন্যা বাড়ছে ১৮ জেলায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্যাঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে অন্তত ১৮ জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে।

এদিকে, টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম।

পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতেও জলাবদ্ধতা নাগরিকদের ভুগিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ফেরার পথ খুলল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
দৈনিকটির সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনতে হবে শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালত রায় দিলেও জাতীয় সংসদে সংবিধানের কিছু পরিবর্তন পাস হওয়া ছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরবে না।

এই সরকারব্যবস্থা ফেরাতে হলে পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৯৯, ১২৩, ১৪৭, ১৫২ এবং তৃতীয় তফসিলে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা সংশোধন করতে হবে।

টাইমস অব বাংলাদেশ
টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার শিরোনাম PutulÕs secret divorce deal; অর্থাৎ বিবাহবিচ্ছেদে পুতুলের গোপন চুক্তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্বমঞ্চে অটিজম আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ।

২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি আদালতে বিবাহ-বিচ্ছেদের চুক্তির মধ্য দিয়ে স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ করেছেন।

এই বিচ্ছেদের জন্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পান নগদ আড়াই লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুটি বাড়ি, যেগুলোর বর্তমান বাজারদর প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি-সংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের নথি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে এই সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

এসব সম্পত্তির বাইরে পুতুলের বিয়েতে পাওয়া উপহার, বিয়ের সামগ্রী, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কারসহ যাবতীয় স্মারকচিহ্নও ফেরত দেবেন খন্দকার মাশরুর হোসেন।

শেখ হাসিনার কন্যা পুতুল আর খন্দকার মাশরুর দুজনেই কানাডার পাসপোর্টধারী, সে দেশের নাগরিক। তবে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় তাদের বিয়ে হয়। শেখ হাসিনা তখন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী।

খন্দকার মাশরুরের বাংলাদেশে কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা বা পেশাগত কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদেশেও তিনি কোনো ব্যবসা বা চাকরিতে যুক্ত ছিলেন, এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি।

এ কারণে বিদেশে এই সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাপ্ত নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘ঢল ও পাহাড়ধসে ৫ দিনে ৩৩ মৃত্যু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়ছে নদ-নদীর পানি। তাতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু বাড়ছে।

পাহাড়, দেয়াল ধসে ও পানিতে ডুবে পাঁচ দিনে কক্সবাজার জেলায় ২২ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় পাঁচজন, রাঙামাটি জেলায় একজন এবং বান্দরবান জেলায় পাঁচজন নিহত হয়। এই নিহতদের ১৫ জনই রোহিঙ্গা।

এছাড়া, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় দুজন নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটির সাজেকে দুই দিন আটকে থাকার পর ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় ১৫০ জন পর্যটককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সিলেটেও পাহাড় ও টিলা ধসের শঙ্কা বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তত্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের প্রভাবে আগামী দুয়েকদিন সারাদেশেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস হতে পারে। আর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।

দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘আকাশভ্রমণের সীমা বাড়ানোর ফাঁকা বুলি’!। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের আটটি বিমানবন্দর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলো সংস্কার করে দ্রুত চালু করা হবে, এমন আশ্বাস গত দুই বছর ধরে আবার শোনা যাচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শীর্ষ কর্তাদের মুখে।

তারা বলছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বিকাশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে আটটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের হাঁকডাকেই আটকে আছে প্রতিশ্রুতি।
মাঠপর্যায়ে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। প্রাথমিক ‘সম্ভাব্যতা যাচাই’ বা টেকনিক্যাল সার্ভের উদ্যোগও নেই; সংস্কারের বাজেট, রানওয়ের সীমানা নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ তো আরও অনেক পরের কথা।

বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘সড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতি, ক্ষতির মুখে সিলেটের পর্যটন বাণিজ্য ও শিল্পায়ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস, চা, পাথর, বালি ও পর্যটন— অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অনেক উপাদানই রয়েছে সিলেট অঞ্চলে।

কিন্তু রাজধানীর সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রধান সংযোগপথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দীর্ঘদিনের দুরবস্থা এবং চার লেনে উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির কারণে সেই সম্ভাবনার বড় অংশ অধরাই থেকে যাচ্ছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, একটি মহাসড়কের সীমাবদ্ধতা এখন পুরো অঞ্চলের শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে সড়কটির অনেক অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে ৪-৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৮-১০ ঘণ্টা। এতে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন