পুনরাবৃত্তি না প্রতিশোধ

পুনরাবৃত্তি না প্রতিশোধ

ফন্ট সাইজ:

২২শে জুন, ১৯৮৬। এস্তাদিও কুয়াউতেমোকে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় রাতের সাক্ষী হয়  বেলজিয়াম। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে স্প্যানিশদের বিদায় করে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে ‘রেড ডেভিলস’রা। প্রায় চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ আটে মুখোমুখি দুই দল। লস অ্যানজেলেসে কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে বেলজিয়াম, নাকি এবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে স্পেন।
কাগজে-কলমে ফেভারিট স্পেনই। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি ‘লা রোহা’ খ্যাত স্প্যানিয়ার্ডরা। বলের দখল ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে অন্য সব দলের চেয়ে এগিয়ে। তাই অনেকের চোখেই স্পেন সেমিফাইনালের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। আর বেলজিয়ামের সঙ্গে হেড টু হেডেও স্পেনের দাপট। ২৩ ম্যাচে ১২টিতে জিতেছে তারা। বেলজিয়ামের জয় ৬টি। ড্র হয়েছে ৫ ম্যাচ।

সাবেক বেলজিক উইঙ্গার গার্ট ফারহেইয়েন মনে করেন, আন্ডারডগের তকমাই হতে পারে বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় শক্তি। সংবাদমাধ্যম স্পোরজাকে তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন আন্ডারডগ, তখন ম্যাচে নামাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেন যেভাবে খেলেছে, তাতে মনে হয় সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।’ বেলজিয়ামের আত্মবিশ্বাসের রসদ ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়া আমাদু ওনানাকে ঘিরে পুরো দলের আবেগ, বেঞ্চে বসা খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা কিংবা হতাশ জেরেমি ডোকুকে কোচ রুডি গার্সিয়ার সান্ত্বনা- সবকিছুই দলীয় ঐক্যের প্রতিচ্ছবি। টুর্নামেন্টের আগে রোমেলু লুকাকুও বলেছিলেন, জাতীয় দলে এটাই তার দেখা ‘সর্বকালের সেরা পরিবেশ।’ অথচ বেলজিয়াম দল নিয়ে বরাবরই একটা কথা প্রচলিত ছিল যে খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগাযোগ নেই। কেভিন ডি ব্রুইনা ও থিবো কুর্তোয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছিল ড্রেসিংরুমে।

দলের এই পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বিশ্লেষক এভার্ট উইঙ্কেলমানসও। তিনি বলেন, ‘সবাই বন্ধু। ওনানার ঘটনাতেও সেটা দেখা গেছে। ছোট ছোট বিষয়গুলোই আসলে পার্থক্য গড়ে দেয়।’ একই সুর লেরয় ডেলতুরের কণ্ঠেও, ‘খারাপ খেললে আমরা যেমন বলি, ভালো খেললেও সেটি স্বীকার করা উচিত।’ তবে আবেগ দিয়ে স্পেনকে হারানো যাবে না। সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েসলি সঙ্ক মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘বল পায়ে স্পেন অসাধারণ। তারা খুব কম গোল খায়, আর এই বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোলই হজম করেনি।’ তাই সঙ্কের মতে, বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে শুরুতেই পিছিয়ে না পড়া এবং যে ক’টি সুযোগ মিলবে, সেগুলো নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো।

এ ম্যাচে আলোচনায় থাকবেন ডোডি লুকেবাকিও। বিশ্বকাপ শুরুর আগে জেরেমি ডোকুকে বেলজিয়ামের এক্স-ফ্যাক্টর ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু ডোকুকে ছাপিয়ে গেছেন লুকবাকিও। বেনফিকার এই খেলোয়াড় শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আটটির মধ্যে ছয়টি ড্রিবলেই সফল হন। তাকে সামলাতে রীতিমত ঘাম ছুটে গেছে প্রতিপক্ষের। স্পেনের বিপক্ষে তাই ডোকুর জায়গায় লুকেবাকিওর থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তার সঙ্গে চার্লস ডি কেটেলারের ও লিয়াদ্রো ট্রসার্ডকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজাবেন গার্সিয়া।

স্পেনের একাদশে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইউরো ২০২৪ থেকে যে ছন্দে দল গড়ে তুলেছেন, বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখছেন। ডান প্রান্তে নিশ্চিতভাবেই শুরু করবেন লামিন ইয়ামাল। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৭টি সফল ড্রিবল করেছেন। অ্যাডাক্টর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় নিকো উইলিয়ামসের পরিবর্তে বাঁ প্রান্তে আলেক্স বায়েনাকে দেখা যেতে পারে। স্ট্রাইকার হিসেবে টুর্নামেন্টে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকেল ওইয়ারসাবালই এগিয়ে আছেন। পর্তুগালের বিপক্ষে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও রদ্রি ও দানি ওলমোর সঙ্গে মাঝমাঠে দেখা যেতে পারে পেদ্রিকে। ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো বেঞ্চ থেকে শুরু করবেন। রাইট-ব্যাকে পেদ্রো পোরো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মার্কোস ইয়োরেন্তে জায়গার জন্য লড়াই করছেন। আর গোলপোস্টে থাকবেন উনাই সিমন। বিশ্বকাপে রেকর্ড টানা ৬০৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন