এবার ফ্রান্স কি অপ্রতিরোধ্য?

যা বলছেন বিবিসির বিশেষজ্ঞরা

এবার ফ্রান্স কি অপ্রতিরোধ্য?

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপে আমি যত দল দেখেছি, তাদের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম স্পষ্ট ফেভারিট- এভাবেই বর্তমান ফরাসি দলকে মূল্যায়ন করেছেন আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট।
তবে শুধু ইয়ান রাইটই নন, ফুটবল বিশ্লেষক, সমর্থক এবং বুকমেকারদের বড় একটি অংশও মনে করছে, দিদিয়ের দেশমের দলই এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। এমন বিশ্বাসের পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে ফ্রান্স, আর পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের জালে ১৪ বার বল জড়িয়েছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি গোল। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একবারই তারা তিনটির কম গোল করেছে।
আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে সহায়তা করছেন মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলা। এই চারজনের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ বিশ্বের যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর বাইরে বেঞ্চে রয়েছেন ডিজায়ার দুয়ে ও রায়ান শেরকির মতো প্রতিভাবান ফুটবলার, যা ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতাকেও আরও শক্তিশালী করেছে।
এমন পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠেছে- আসলে কে থামাতে পারে ফ্রান্সকে?
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিবিসি স্পোর্টের একাধিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।
তারা আলোচনা করেছেন, ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্সকে হারানোর সামর্থ্য আদৌ কোনো দলের আছে কি না।

‘ফ্রান্স প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেয়’
বিবিসি রেডিও ৫ লাইভের সিনিয়র ফুটবল প্রতিবেদক ইয়ান ডেনিসের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে তার কাছে ফ্রান্স নয়, স্পেনই সবচেয়ে বড় ফেভারিট।
তিনি বলেন, দুই দলের খেলা দেখার পর তিনি নিজের মত বদলেছেন।
ইয়ান ডেনিসের ভাষায়, স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেক ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। রক্ষণে তারা প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দেয় এবং এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম করেনি।

তার মতে, ফ্রান্সের সব গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দেখলেও তিনি স্পেনের মতো একই মাত্রার নিয়ন্ত্রণ দেশমের দলের মধ্যে দেখেননি। বরং ফ্রান্স প্রতিপক্ষকে সুযোগ তৈরি করার সুযোগ দেয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেনেগাল প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারত। এমনকি তুলনামূলক দুর্বল নরওয়েও বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
ইয়ান ডেনিসের বিশ্বাস, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোও ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। তবে যদি ফ্রান্স শেষ চারে ওঠে, তাহলে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্পেন। সেক্ষেত্রে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, যেখানে স্পেন ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।

‘অনেক দলেরই বিশ্বাস, ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব’
বিবিসি স্পোর্টসের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টির মতে, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও প্রভাবশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলের নেতৃত্বে তাদের আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
তবে তার মতে, ফ্রান্স অজেয় নয়।
তিনি বলেন, কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলে সেমিফাইনালে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স। আর সেটিই হবে দিদিয়ের দেশমের দলের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ফিল ম্যাকনাল্টি উল্লেখ করেন, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, কঠিন পরিস্থিতি থেকে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয়, সেটিও তারা ভালোভাবে জানে। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে স্পেন তার প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি ফ্রান্স স্পেনের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে ওঠে, তাহলে সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড।
ম্যাকনাল্টির মতে, বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে ফ্রান্স অবশ্যই অন্যতম প্রধান ফেভারিট। তবে স্পেন, আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ড—প্রতিটি দলই বিশ্বাস করবে যে তারা ফ্রান্সকে হারাতে সক্ষম। কারণ, এই বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে এখানে কোনো ফলই আগে থেকে নিশ্চিত নয়।

ফ্রান্সকে হারানোর যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে স্পেনের- এলিজাবেথ কনওয়ে
বিবিসি স্পোর্টসের সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ের মতে, এবারের বিশ্বকাপে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও ফ্রান্সকে হারানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে স্পেনের ।
তার মতে, এর অন্যতম কারণ হলো স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা লামিন ইয়ামাল এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকায় তিনি টুর্নামেন্টের অন্যান্য তারকা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মতো প্রভাব এখনো রাখতে পারেননি।
এলিজাবেথ কনওয়ে বলেন, যেখানে অন্য অনেক দল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করেছে, সেখানে স্পেন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুসংগঠিত দলগত ফুটবল খেলে মুগ্ধ করেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র এবং এরপর টানা চারটি জয়- এই পাঁচ ম্যাচে তারা একটিও গোল হজম করেনি। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন কিশোর সেন্টার- ব্যাক পাও কুবারসি এবং অভিজ্ঞ আয়মেরিক লাপোর্তের দুর্দান্ত রক্ষণজুটি।

তিনি আরও বলেন, মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলায় স্পেন লামিন ইয়ামালের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করতে পারে, যা গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মাঝমাঠে রদ্রি ও পেদ্রি বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কনওয়ে মনে করিয়ে দেন, ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে স্পেন। তার বিশ্বাস, যদি গোলের সামনে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ফ্রান্সকে হারানো স্পেনের পক্ষেও সম্ভব।

‘সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দলও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে’
বিবিসি রেডিও ৫ লাইভের সিনিয়র ধারাভাষ্যকার জন মারের মতে, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দেখার মতো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল ফ্রান্স। একই সঙ্গে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবলও খেলেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অনেক দল রয়েছে যারা দারুণ নান্দনিক ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৮২ সালের ব্রাজিল, ১৯৮৬ সালের ‘ড্যানিশ ডায়নামাইট’ খ্যাত ডেনমার্ক, ২০০৬ সালের ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের জার্মানি এবং ২০১৪ সালে নিজ দেশে বিশ্বকাপ আয়োজক ব্রাজিল দলের কথা উল্লেখ করেন।
জন মারের মতে, যদি সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয় স্পেন, তাহলে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছেন।

‘ভয়ের বিষয়, ফ্রান্সের এখনও সেরাটা দেখা বাকি’
বিবিসি স্পোর্টসের সাংবাদিক নিল জনস্টনের মতে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা থেকে ফ্রান্সকে থামাতে হলে প্রতিপক্ষকে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে।
তিনি বলেন, শেষ আটে উঠতে গিয়ে ফ্রান্স একের পর এক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। ফিলাডেলফিয়ায় দুই ঘণ্টার ঝড়ের কারণে ম্যাচে বিলম্ব, কোচ দিদিয়ের দেশমের এক ম্যাচে অনুপস্থিতি (মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল) এবং প্যারাগুয়ের কঠিন ও কৌশলী ফুটবল—সব বাধা পেরিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে লে ব্লুরা।
নিল জনস্টনের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের খেলা ছিল চোখ জুড়ানো। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে সুইডেনের বিপক্ষে তারা ২৫টি শট নিয়ে নিজেদের আক্রমণাত্মক সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

তার মতে, প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—ফ্রান্স এখনও তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখায়নি। দলের আরও উন্নত পর্যায়ের খেলা দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলেই নয়, এই তিনজন মিলে ইতোমধ্যে ২০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েনি ফ্রান্স। রক্ষণেও তারা ছিল দারুণ দৃঢ।

পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে ফ্রান্স। একটি আসে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময়, আর অন্যটি নরওয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়। আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবা এবং বায়ার্ন মিউনিখের ডায়ো উপামেকানোর নেতৃত্বে গড়া রক্ষণভাগও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নিল জনস্টন প্রশ্ন তোলেন, ফ্রান্সকে থামাবে কে?
তার মতে, মরক্কোকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। গোল না খাওয়া স্পেন অবশ্যই কঠিন পরীক্ষা নেবে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেন, প্যারাগুয়ে যেমন ফ্রান্সকে কিছুটা ভোগালেও তারা জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছিল। একইভাবে স্পেনের বিপক্ষেও দেশমের দলের আক্রমণভাগের শক্তি এবং বেঞ্চের অসাধারণ গভীরতা তাদের এগিয়ে রাখবে।

‘লে ব্লুকে থামাতে পারে থ্রি লায়ন্স’ - অ্যালেক্স হাওয়েল
বিবিসি স্পোর্টসের ইংল্যান্ড প্রতিবেদক অ্যালেক্স হাওয়েলের মতে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেভারিট মনে হয়েছে।
তার ভাষায়, ফ্রান্স নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ দল, তবে তারা অজেয় নয়।
হাওয়েলের বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। আর সেই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের ‘থ্রি লায়ন্স’ ফ্রান্সের ‘লে ব্লু’দের থামাতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও জুড বেলিংহামকে নিয়ে গড়া ইংল্যান্ডের মাঝমাঠ শারীরিক লড়াইয়ে ফ্রান্সের মিডফিল্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার সক্ষমতা রাখে।

এছাড়া মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের মাধ্যমে থমাস টুখেলের দল কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে।
হাওয়েলের মতে, ফ্রান্সকে হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে লড়াকু মানসিকতা ও সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। যদি তারা সেটি করতে পারে, তাহলে সেটিই হবে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।

‘ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তিই কি দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে?’
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাংবাদিক জন বেনেটের মতে, ফ্রান্সের দুর্বলতা খুঁজে বের করা সহজ নয়। কারণ, যখন তাদের চারজনের আক্রমণভাগ ছন্দে থাকে, তখন তা দেখলে বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে না।
তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বড় দলের বিপক্ষে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তিই কি শেষ পর্যন্ত তাদের দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে?

তার মতে, মাইকেল অলিসেকে ১০ নম্বর পজিশনে খেলানোর ফলে ফ্রান্সের আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়েছে। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এতে মাঝমাঠে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জন বেনেট বলেন, যদি অলিসে নিয়মিত নিচে নেমে রক্ষণে সহায়তা না করেন বা মাঝমাঠে প্রয়োজনীয় প্রেসিং না করেন, তাহলে বলের দখল ধরে রাখতে সক্ষম কোনো প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

তার ধারণা, মরক্কো এই জায়গাটিকেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। আর সেমিফাইনালে যদি স্পেনের মুখোমুখি হয় ফ্রান্স, তাহলে বল দখলভিত্তিক ফুটবল খেলা স্প্যানিশরা এই দুর্বলতাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।
‘মরক্কোকেও খাটো করে দেখবেন না’
বিবিসি স্পোর্টের সাংবাদিক গ্যারি রোজের মতে, কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম এবং মাইকেল অলিসের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে এই মুহূর্তে ফ্রান্স যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ।
তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বে। এই পর্যায়ে যেকোনো দলই যেকোনো দলকে হারাতে পারে।

তার মতে, মরক্কোর জন্য ফ্রান্সকে হারানো অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, মাত্র চার বছর আগেই ‘আটলাস লায়ন্স’ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল এবং সেই দলের তুলনায় বর্তমান মরক্কো আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গ্যারি রোজ বলেন, মরক্কো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে তারা শক্তিশালী রক্ষণ গড়তে পারে এবং প্রতিপক্ষকে হতাশ করতে জানে। যদি তারা ফ্রান্সের বিপক্ষেও সেটি করতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
এমনকি তিনি মনে করেন, মরক্কোর পুরো টুর্নামেন্ট জয়ের সম্ভাবনাও একেবারে নাকচ করে দেয়া যায় না।






কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন