হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। যে-ই এসব অপকর্মে জড়িত থাকবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বুধবার দুপুরে মাধবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য বলেন, “মাধবপুর ও চুনারুঘাটের প্রায় ৬ লাখ মানুষ আমাকে বিপুল আশা-ভরসা নিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের স্বার্থ সবার আগে প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও আমি পিছপা হবো না।” তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় কেউ সাময়িকভাবে অসন্তুষ্ট হলেও দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি মানুষের সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের প্রথম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের সেবা করে যেতে চান।
চা বাগান এলাকার শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন এমপি ফয়সল। তিনি বলেন, চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। তাদের ন্যায্য অধিকার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। অন্যায় আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।”
মাদকবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। একটি প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই অভিশাপ। মাধবপুর-চুনারুঘাটকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, সহসভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু। বক্তারা এলাকার উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণসংবর্ধনা শেষে নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার নেতৃত্বে মাধবপুর-চুনারুঘাটকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
