স্থানীয় নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে সরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ(ইসি)। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠিতে থেকে এসব তথ্য জানায় ইসি। মঙ্গলবার স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন অনুমোদন করেছে।
কমিশন জানায়, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট। এছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।
ওদিকে, গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ নির্ধারণের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ভোটকক্ষে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণে চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে। গেজেটে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে ভোটকক্ষে আগে যেখানে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকতো, নতুন নিয়মে সেটি বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে।
আগে উপনির্বাচনে কোনো একটি পদে ভোটের জন্য ৫০০ জন পুরুষ এবং ৪০০ জন মহিলা ভোটারের বিপরীতে একটি কক্ষ ব্যবহৃত হতো। এখন সাধারণ নির্বাচন বা উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকবে। নতুন নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজনে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে।
এর আগে, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অক্টোবরকে সামনে রেখে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা মনে করি, নির্বাচন সঠিক সময় হবে। যদি অক্টোবরে নির্বাচন হয় তাহলে ৪৫ দিন ধরে নিয়ে শিডিউল ঘোষণা করতে হবে। আমরা সে ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

Mohammad Harun Rashid
১ ঘন্টা আগেশোনা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়া হবে! জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা আছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা উচিৎ!