৫৮ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন জ্যাঁ ক্যারল

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মামলা

৫৮ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন জ্যাঁ ক্যারল

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ করা লেখিকা ই. জ্যাঁ ক্যারল অবশেষে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত তাকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। ২০২৩ সালের এক দেওয়ানি মামলায় জুরি ট্রাম্পকে ক্যারলের প্রতি যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী বলে রায় দেয়। ম্যানহাটানের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ লুইস কাপলান সাবেক এল ম্যাগাজিনের পরামর্শ বিষয়ক কলাম লেখিকা ক্যারলকে প্রায় ৫৮ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে মূল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ এবং তার সুদ। রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল করায় এই ক্ষতিপূরণ এতদিন এসক্রো হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। কোনো আইনি ক্ষেত্রে আর্থিক তহবিল যখন তৃতীয় পক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকে তাকে এসক্রো বলা হয়। তবে গত ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালতের নয়জন বিচারপতির কেউই, এমনকি ট্রাম্প মনোনীত তিন বিচারপতিও, এ সিদ্ধান্তে ভিন্নমত জানাননি।

বিচারক কাপলান বলেন, এসক্রো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্যারল এখন অর্থ পাওয়ার অধিকারী। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করার সাড়ে ছয় বছরেরও বেশি সময় পর তিনি এই অর্থ পাচ্ছেন। রায়ে কাপলান লিখেছেন, বিবাদী বছরের পর বছর ধরে এই মামলাটি বিলম্বিত করেছেন। এখন সময় এসেছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে রায় অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করার।

ট্রাম্পের আবেদন খারিজ
ট্রাম্প অর্থ বিতরণ স্থগিত রাখতে ম্যানহাটানের ফেডারেল আপিল আদালতে জরুরি আবেদন করেন। তবে বুধবার রাতেই আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ট্রাম্পের আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাদের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকার জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে রয়েছে। তারা ক্যারলকে ঘিরে ডেমোক্রেটদের অর্থায়নে পরিচালিত এই তথাকথিত উইচ হান্ট ও প্রতারণামূলক অভিযোগের অবসান চায়। অন্যদিকে ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেন, এটি মামলাটি দীর্ঘায়িত করার জন্য ট্রাম্পের আরেকটি ব্যর্থ চেষ্টা। 

অভিযোগ কী ছিল?
ই. জ্যাঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালের দিকে ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। ট্রাম্প বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে প্রতারণা ও ভুয়া গল্প বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি ক্যারলকে চিনতেন না এবং নিজের স্মৃতিকথার বিক্রি বাড়ানোর জন্যই ক্যারল এই অভিযোগ তৈরি করেছেন। তবে ২০২৩ সালে জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও জুরি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি জুরি ২০১৯ সালে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের ভিত্তিতে ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। ওই মন্তব্য ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে থাকাকালে করেছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাই তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটি আইনি সুরক্ষার অধিকারী। গত সেপ্টেম্বর ম্যানহাটানের ফেডারেল আপিল আদালত ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানায়। ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যদি ওই আপিলে তারা সফল হন, তাহলে ৫০ লাখ ডলারের রায়ের আইনগত ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন