দেশ রূপান্তর
‘অর্থাভাবে লোডশেডিং লাগামহীন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট। সরকারি হিসাবে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট। সরল হিসেবে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি রয়েছে ১১ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে লোডশেডিং কেন হচ্ছে?
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর পেছনে মূল কারণ অর্থ সংকট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একদিকে উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে বকেয়া বিল পরিশোধ করছে না, অন্যদিকে তেল কেনার টাকাও দিচ্ছে না। এতে ঘুরছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাকা।
জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সে সময় কমিশন জানায়, দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বিপুল এই অর্থের জোগান দিতে পিডিবি হিমশিম খাচ্ছে। পিডিবির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত সময়ে ভর্তুকির অর্থ ছাড় না করায় তারা বিল পরিশোধ করতে পারছেন না। এখানে তাদের কোনো দায় নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি উদ্যোগেদের অন্তত ছয় মাসের বিল বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানিগুলোর ১৮ মাসের বিল বকেয়া রেখেছে পিডিবি। কখনো অনুরোধ করে, কখনো হুমকি দিয়ে বিল আদায় করছেন উৎপাদনকারীরা। বিদ্যুতের সংকট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বেড়ে চলছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ শুধু রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে না, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসও ভাঙচুর করেছে। বিশ্বকাপ ফুটবল চলার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে হুমকিও দিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। কোথাও কোথাও এসব বিষয় থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের দাবিতে এভাবে মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। সরকারও পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিদ্যুৎ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, আমরা সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বলা হয়েছে, যাতে দেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কোনো ঘটনা ঘটলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।’
জ্বালানি সংকট বাড়ছে: দেশে সব মিলিয়ে ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬৬টির পাশে লেখা রয়েছে ‘ফুয়েল শর্টেজ’ বা জ্বালানি সংকট। এনএলডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল তরল জ্বালানি নয়, গ্যাস ও কয়লারও সংকট রয়েছে। এতে চাহিদামাফিক উৎপাদন করা যাচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কোনো বিকল্প থাকছে না।
সরকারি একটি কোম্পানির একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্থ ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর থেকেই উৎপাদনকারীদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়তে শুরু করে। তখন কয়লা আমদানির টাকা না থাকায় বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। একই অবস্থা ছিল তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর। অন্তর্বর্তী সরকারও এই অবস্থার মধ্যেই ছিল। কোনো উৎপাদনকারীর পাওনা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও তাকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে জমতে জমতে এখন অনেক টাকা হয়ে গেছে, যা একবারে সরকারের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার যদি চিন্তা করে, তার কাছে সব মিলিয়ে যে টাকা বকেয়া রয়েছে তা পাঁচ কিংবা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করবে, তাহলে চলতি মাসের বিলের সঙ্গে একটি বকেয়া বিলও দিতে হবে। কিন্তু সরকার তো চলতি মাসের বিলই পরিশোধ করছে না। আবার তেল কেনার টাকাও দেয় না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র চালানোর বিষয়ে উদ্যোক্তারা আগ্রহী নন।’
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র বন্ধ রাখলে পিডিবির পক্ষ থেকে চালানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তেল কিনলে পিডিবি কেবল বিদ্যুতের দাম দেয়, ঋণের সুদ তো দেয় না। তাহলে কোম্পানিগুলো কীভাবে চলবে?’
বঞ্চনা বেশি গ্রামে: বিদ্যুৎ বিতরণে সরকারের একটি অঘোষিত নীতি রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে প্রথমে রাজধানী ঢাকার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর বিভাগীয় শহর, ক্রমান্বয়ে জেলা ও উপজেলা সদর এবং ইউনিয়ন সদর দপ্তরে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। সবশেষে গ্রামের কথা চিন্তা করা হয়।
এই বণ্টননীতি নতুন না হলেও সরকার কখনোই তা প্রকাশ্যে আনে না। সব জায়গায় বিদ্যুতের দাম এক হলেও গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই বিভক্তি অনেক আগে থেকেই বহাল রাখা হয়েছে। এজন্য ঢাকায় এক মিনিটের লোডশেডিং না হলেও গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ বঞ্চিত হচ্ছে। এই বঞ্চনা যেমন আওয়ামী লীগের সময় ছিল, তেমনি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও টিকে ছিল। এখনো তা রয়ে গেছে।
দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ বিতরণ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ রাজস্ব এবং ভ্যাট আদায়ের ৫৮ শতাংশ আসে গ্রাম থেকে। বাকি ৪২ শতাংশ আসে শহর থেকে।
আরইবির হিসাব বলছে, গড়ে এক-তৃতীয়াংশের মতো লোডশেডিং হয় আরইবি এলাকায়। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আরইবির সমিতিগুলোর পিক ডিমান্ড বা সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে আরইবিতে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল ২৩ শতাংশ।
বরাবরই দেখা যায়, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে গ্রামে লোডশেডিং বেশি করা হয়। গত জুনের শেষ দিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং করা হয়েছে। জানতে চাইলে আরইবির সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গরমের তীব্রতা বাড়লে আমাদের লোডশেডিংও বাড়ে। জুনের শেষ দিকে এসে প্রতিদিন তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এখন কমে তা এক হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।’
সহসা উন্নতির আশা নেই : গত ফেব্রুয়ারিতে জানানো হয়েছিল, বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়ার পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে পিডিবি জুন ক্লোজিংয়ের পর নতুন করে নতুন হিসাব প্রকাশ করেনি। সংস্থার সদস্য (অর্থ) অঞ্জনা খান মজলিশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণত ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো বকেয়া থাকে। এখনো তেমনই থাকতে পারে।’
পিডিবির অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, এখনো বকেয়ার পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো, যা সাড়ে চার মাসের বিদ্যুৎ বিলের সমান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ বকেয়া রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কঠিন, খুবই কঠিন।’ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় পিডিবি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি।’
তবে বিদ্যুতের ভর্তুকি না কমালে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয় বলেও মনে করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।
প্রথম আলো
‘পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ মৃত্যু’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার দিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে এ অঞ্চলের তিন জেলায় ২২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গতকাল বুধবার মারা গেছে সাত শিশু।
ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানি জমেছিল। রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চট্টগ্রামে এবার যে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যাবে না। তবে আবার স্বাভাবিকও নয়। কেননা এবার আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন প্রায় বৃষ্টি হয়নি। তাই এখন একসঙ্গে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বর্ষাকালে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে এ ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। এখন তা–ই হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টি হচ্ছে চার দিন ধরে। গতকালও সকালে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এই বৃষ্টি চলবে আরও দুই দিন।
গতকাল বেলা তিনটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা ছিল ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেন, এবার আষাঢ়ের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি। এখন অতি বৃষ্টির প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ। তবে গত ৪৩ বছরে এত ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। সে হিসাবে এবারের বৃষ্টিকে অস্বাভাবিক বলা যায়।
এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা রয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক অলক পাল বলেন, বর্ষার শুরুতে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে রকম প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, প্রশাসন সেভাবে অনেক সময় নেয় না। শুরু থেকে সমন্বয় থাকলে অনেক প্রাণহানি কমানো যেত।
তবে আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে এমনিতেই বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়। এ সময়ে দেশের উপকূলে কিংবা উপকূল ঘেঁষে কোনো লঘুচাপ সৃষ্টি হলে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এবার সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ মৃত্যু
টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে তিন দিনে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। গত রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জন, জেলা সদরে ১ জন, পেকুয়ায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ গতকাল কক্সবাজারে ৫ জন ও চট্টগ্রামে ২ শিশু নিহত হয়।
কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ও মাটিচাপার ঘটনায় পাঁচ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে।
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চার ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলো ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) এবং মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।
গতকাল বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু ছিল। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আশ্রয়শিবিরের কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তিন শিশু-কিশোরীকে। তারা হলো ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল নয়টায় জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় একটি পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম মারা যায়। শিশুটির মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। দুপুরে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামের এক শিশু মারা যায়।
টানা দ্বিতীয় দিন ডুবেছে চট্টগ্রাম
টানা ভারী বৃষ্টিতে আগের দিনের মতো গতকালও নগরের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার, তিন পোলের মাথা, চান্দগাঁও, শমসেরপাড়া, খরমপাড়া, খাজা রোড, সুন্নিয়া মাদ্রাসা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, উত্তর আগ্রাবাদ, রামপুরা, হালিশহর, আকবরশাহ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের রামপুরা এলাকায় সড়কে হাঁটুপানি জমেছিল। এর মধ্যে লোকজন চলাচল করছেন। এখানে নিচতলার বাসা, আধা পাকা বসতঘর, দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ সারতে হয় পরিবারের সদস্যদের। পানিতে ঘরের আসবাব ভিজে যায়।
নুরজাহান বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পানি জমে আছে ঘরে। বারবার পানি পরিষ্কার করতে হয়। আবার পানি উঠে যায়। কী যে কষ্ট হয়, তা বলার মতো নয়।’
নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারি কমার্স কলেজের পাশে একটি খাবারের দোকানে জমে ছিল পানি। এর মধ্যে চলছিল বেচাবিক্রি। দোকানি মো. রাশেদ অভিযোগ করেন, নালা-নর্দমাগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করলে এ অবস্থা হতো না।
কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরে চার কিলোমিটার রেলপথ প্রায় দুই ফুট পানিতে ডুবে আছে দুই দিন ধরে। নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ গতকাল সকালে ডুবে থাকা রেলপথ পরিদর্শন করেছেন। তিনি গ্যাংকারে (রেলওয়ের ট্র্যাক পরিদর্শন ও মেরামতের মালামাল পরিবহন করা হয়) করে ঘটনাস্থলে যান। ভবিষ্যতে যাতে রেললাইন পানিতে তলিয়ে না যায়, সে জন্য এটি পাঁচ ফুট উঁচু করার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন রেলপথের একটি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছিল। এ সময় পাথর ও মাটি সরে রেললাইন বেঁকে যায়। বন্যার পানিনিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে পানিনিষ্কাশনের জন্য নতুন করে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে ফেনী থেকে হাসানপুর পর্যন্ত রেললাইন বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় চার দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে করে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
ট্রেনের যাত্রা বাতিল নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামে এসে যাত্রা বাতিল হওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেসের যাত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, স্বামী ও দুই মেয়েসহ কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন। রাতে তাঁদের ট্রেন ছাড়ে। সকালে যাত্রা বাতিল করে। অথচ চট্টগ্রামের রেলপথ ডুবে যায় মঙ্গলবার দুপুরে। ঢাকা থেকে যাত্রা বাতিল করা হলে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এখন মাঝপথ থেকে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। দুই মেয়ে খুব আশা করেছিল, সমুদ্র দেখবে, কিন্তু তা আর হলো না।
রেললাইন ডুবে যাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক অলক পাল বলেন, রেললাইনগুলো সাধারণত যে উচ্চতায় থাকার কথা, এখানে হয়তো সেই স্বাভাবিক উচ্চতায় নেই এবং আশপাশে নিচু এলাকা হওয়ায় পানি জমে রেললাইনও ডুবে যাচ্ছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আবার সেই কান্না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণে বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসে সাত শিশু শিক্ষার্থীসহ আটজন মারা গেছেন। একইভাবে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও সীতাকুণ্ডে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদীর রায়পুরায় দেওয়ালচাপায় প্রাণ গেছে শিশুর। এর আগে সোম ও মঙ্গলবার কক্সবাজারে পাহাড়ধসে আরও ১১ জন মারা যান। প্রতিবছরই বর্ষার সময় পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বঙ্গোপসাগরে পাঁচ ট্রলার ডুবে গেছে। অন্য জেলেরা উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন। দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হাজারো মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। অতি ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের নদীর পানি বাড়ছে। কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্টাফ রিপোর্টার, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কক্সবাজার: উখিয়ায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে সাত শিশু শিক্ষার্থীসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অপর একজন মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পড়লে মুহূর্তেই ভবনটি মাটিচাপা পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কুরআন শিক্ষা নিচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঘটনার পরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা খালি হাতে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।
এ দুর্ঘটনার আগে সোম ও মঙ্গলবার জেলায় পাহাড় ও দেওয়াল ধসে ১১ জন মারা যান।
কক্সবাজারের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে। পাহাড়ঘেঁষা বসতি ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, লোহাগাড়া দক্ষিণ, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও চবি : চতুর্থ দিনের মতো বুধবারও ভারি বর্ষণ অব্যাহত ছিল। অতিবর্ষণে নগরীর আরও নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি। বেলা বাড়তে বাড়তেই পানিও বাড়তে থাকে। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে দিনটি অতিবাহিত করে নগরবাসী। সড়ক, মহাসড়ক অলিগলি আবাসিক এলাকায় গতকালও হাঁটু থেকে গলা সমান পানি ছিল। নগরীর পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া আক্তার নামে নামে ১১ বছর বয়সি এক শিশু মারা গেছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামের ১০ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারের ট্রেন যাত্রা বাতিল করে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। রেলপ্রতিমন্ত্রী বুধবার সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন করেছেন।
যুগান্তরের আরেক খবর ‘নিজের করা আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আ.লীগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের শিকার সিরাজ শিকদার থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ আমলের সব অপরাধ তদন্তের আওতায় আসছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আওয়ামী লীগেরই প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং দলটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করে। ২০১৩ সালে ২ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করে আওয়ামী লীগই। এখন এই আইনেই রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের করা আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আইনজ্ঞরা বলেছেন, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি বাহিনী নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিল। ১৯৪৫-৪৬ সালে নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে নাৎসি নেতৃত্ব ও বাহিনীর বিচার করা হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তারা বলেন, বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে দলটি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, এই বিচারের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে অথবা নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই বিচারের আয়োজন।
রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান আছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর) আনসার উদ্দিন খান পাঠান। তিনি বুধবার যুগান্তরকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। আবেদনটি তদন্ত সংস্থায় আসার পর সংস্থার একটি টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দ্বারা যত অপরাধ কর্মকাণ্ড হয়েছে তার তদন্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিনের ঘটনা, একটু সময় লাগতে পারে।
৮ এপ্রিল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করে জাতীয় সংসদ। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল।
কালের কণ্ঠ
‘প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মানুষ গিজগিজ করছে। বিশাল লাইন। বাইরে থেকে একজন এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, ‘সারা দিন দাঁড়ায়ে থাকলেও কাজ হবে না। আমারে কিছু দেন। দুই ঘণ্টার ভেতরে কাজ সেরে বাসায় চলে যেতে পারবেন।’
নিশ্চয়ই বুঝতে কারো অসুবিধা হচ্ছে না যে এটা সেই চিরপরিচিত দালালচক্র। হতে পারে এ দেশের যেকোনো সরকারি ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিসের মতো জরুরি সেবা কার্যালয়ের সামনের নিত্যদিনের একটা দৃশ্য। এমন দৃশ্যে এখন আর বিস্ময় জাগে না কারো। কিন্তু শুনে চমকে উঠবেন, যখন জানবেন এই দৃশ্যটা বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আরো ভয়াল হয়ে উঠেছে সৌদি আরবে। সেখানকার রিয়াদ দূতাবাস আর জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের সামনে যেকোনো কর্মদিবসে গেলেই এই দৃশ্য এখন চোখে পড়বেই।
দালাল আর কর্মকর্তাদের মাঝে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য চক্র। আর সেই চক্রে পড়ে নাস্তানাবুদ অবস্থা দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের সামনে কী ঘটে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য দুজন প্রবাসী সূত্রকে দুই দিন সেখানে অবস্থান করিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। রিয়াদ দূতাবাসের সামনে পর্যবেক্ষণ করা শরিফ মল্লিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওখানে যাওয়ার পরেই দেখি, কয়েক শ মানুষ পাসপোর্ট নবায়ন করতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। আমি নিজেও লাইনে গিয়ে দাঁড়াই আর কিছুক্ষণ পরে একজন এসে আমাকে ফিসফিস করে ওই পরামর্শ দেন।
ওই দালাল তাঁর কাছে ৩৫০ রিয়াল চেয়ে বলেন, দুই ঘণ্টার মধ্যে ফিঙ্গার (বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলা) দিয়ে বাসায় চলে যেতে পারবেন।’ শরিফ আরো বলেন, ‘এমন বেশ কয়েকজনকে আমি টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার অফার দিতে দেখি। তাঁরা হুটহাট করে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষে ঢুকছে-বেরোচ্ছে। অনেক সময় ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমেও তাঁদের কথাবার্তা বলতে দেখি।’
প্রবাসী শরিফ মল্লিক খোঁজ নিয়ে জানান, এই দালালদের বেশির ভাগই ফ্রি ভিসায় সৌদি এসেছেন। তাঁরা এখানে পার্মান্যান্ট কোনো কাজও করেন না; দালালিই তাঁদের কাজ। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দোকানের কর্মচারী, বিকাশের দোকান, হোটেলেও কাজ করেন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের সামনে একদিন অবস্থান করেন গাড়িচালকের কাজ করা শাহ আলম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানকার দালালরা বেশ চতুর। তাঁরা আগে থেকেই অনলাইনে তাঁদের ক্লায়েন্ট ঠিক করে অনলাইনেই আবেদন পাঠিয়ে দেন। একদিকে দেখা যায়, শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, অন্যদিকে মাঝে মাঝে কিছু গ্রাহক এসেই সরাসরি অফিস রুমে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিয়ে বেরিয়ে যান।’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যাঁরা সৌদিতে পাসপোর্টের দালালির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বেশির ভাগই অনলাইনে প্রবাসীদের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘এক দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক’, ‘আগে কাজ পরে টাকা’, ‘পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান’ ইত্যাদি স্ট্যাটাস/মেসেজ/কমেন্ট করে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রলোভন দেখান।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলা: ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের পানিতে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম ছিল দুর্ভোগের নগরী। বেশির ভাগ নিচু এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও। সেখানে নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। লোকজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সাজেকে আটকা পড়েছেন ছয় শতাধিক পর্যটক।
পানি ঢুকে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়। বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা করলেও বহির্নোঙরে গতকালও ব্যাহত হয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।
পণ্য খালাস ব্যাহত
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম গতকালও ব্যাহত হয়েছে। দুদিন ধরে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বহির্নোঙরে আসা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে। এসব ছোট জাহাজ নৌপথে পণ্য নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামা করার কাজ টানা দুই দিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বন্দরের মূল জেটিতে কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আগের দিন একই সময়ে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা তিন দিন ধরে এমন বৃষ্টির কারণে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, বেপারীপাড়া, মুহুরীপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দেওয়ান বাজার, কাপাসগোলা, প্রবর্তক, শান্তিবাগ, পাঠানটুলি, পুলিশ লাইন্স, এয়ারপোর্ট, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরপানি জমে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলা পানিতে তলিয়ে চলে যায়। এসব এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
‘ঘরের ভেতর হাঁটুপানি’
নগরের হালিশহর এল ব্লক এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ। সন্দ্বীপ সাজেদা জুয়েলার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তিনি। টানা বৃষ্টিতে তাঁর নিচতলার ঘরে জমেছে হাঁটুপানি। তিনি বলেন, ‘ঘরের ভেতর হাঁটুপানি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। মঙ্গলবার দোকান খুলতে পারিনি। বাসায় জমা পানি বের করতেই দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার বুধবারও পানি ঢুকেছে। আমাদের এলাকার নিচতলায় থাকা কোনো বাড়ি রেহাই পায়নি পানির হাত থেকে।’
বহদ্দারহাটের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা মোজাহের সুজন বলেন, ‘ঘরের সামনে পানি আর পানি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সড়ক থেকে পানি কমেনি। গত বছরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আমাদের। এ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?’
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, ‘টানা বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে পানি। কিন্তু বৃষ্টি থেমে গেলে আবার পানি নামছে। আগে পানি আটকে থাকলেও এখন সেই সময় কিছুটা কমেছে। বৃষ্টি না থাকলে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে।’
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দুদিন ধরে বন্ধ
চট্টগ্রামে পানিতে তলিয়ে আছে রেললাইনও। বিশেষ করে, নগরীর মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় গতকালও প্রায় দেড় ফুট থেকে দুই ফুট পানির নিচে ছিল রেললাইন। এ কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করেনি। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নগরীর ষোলশহর এলাকায় পানিতে আটকা পড়ে এবং রাত ১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় রেলওয়ে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন পর্যটক এক্সপ্রেসের হাজারখানেক যাত্রীর।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
এদিকে জলাবদ্ধতা এড়িয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নগরীর ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনের বিদ্যমান রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। গতকাল সকাল ১০টায় রেলের গ্যাংকারে করে নগরীর জলাবদ্ধ রেললাইন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সৈকত এক্সপ্রেসের। কিন্তু ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সেই ট্রেনটি বিকেলে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামে আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রেললাইনটি দিয়ে ঢাকা থেকে পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন দুটি চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এরপর কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু ট্রেন দুটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি কক্সবাজার যেতে না পারায় বিকেলে আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
ইত্তেফাক
‘নতুন অর্থবছরেও সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি নিচ্ছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কেনা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহূত মোটরযান ছাড়া অন্য সব নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক চালিত যানবাহন হতে হবে।
পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন স্থাপনা-নির্মাণও বন্ধ থাকবে। তবে চলমান কোনো নির্মাণকাজের অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সেই কাজে ব্যয় করা যাবে।
এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। একইভাবে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থের সংরক্ষিত বরাদ্দও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সরকারের দেওয়া বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে। এছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে।
পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন এবং কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু জটিল প্রকৃতির পণ্য অথবা যেখানে এ ধরনের পরিদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে এক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির দাবি’। খবরে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের চরম অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের জমানো টাকা দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে ব্যাংক ‘লুটেরা’ ও ‘ব্যাংকখেকো’ মালিকদের কঠোর শাস্তি এবং তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার জোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।
সংসদে উত্থাপিত এ দাবির জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সঙ্কটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের সম্পূর্ণ আমানত সুদসহ ফেরত দেয়া হবে। আমানতকারীদের জন্য কোনো ধরনের ‘হেয়ার কাট’ (আমানতের অর্থ কর্তন) প্রযোজ্য হবে না। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি সংসদকে জানান এবং দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এর আওতায় ‘জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশ’-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এমপি রেহানা আক্তার রানুর মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশ
মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘দেশের কয়েকটি ব্যাংকের ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লাখ লাখ আমানতকারী নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছেন না। এই টাকা কোনো বিলাসিতার টাকা নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর টিকে থাকার মূলধন, কিংবা কারো সারা জীবনের জমানো সঞ্চয় বা পেনশনের টাকা। ব্যাংক হচ্ছে মানুষের গভীর আস্থার জায়গা; ব্যাংক থেকেই যদি টাকা লুট হয়ে যায়, তবে মানুষ কোথায় যাবে? মানুষ ব্যাংকে টাকা না রাখলে দেশে বিনিয়োগ কমে যাবে, অর্থের প্রবাহ থমকে দাঁড়াবে এবং পুরো অর্থনীতি চরম সঙ্কটে পড়বে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। সময়মতো চিকিৎসা করাতে না পেরে অনেকে মৃত্যুবরণও করছেন। অন্য দিকে, লুটেরা মালিকপক্ষ বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের দিকে আশার চোখে তাকিয়ে আছে এবং তাদের এই করুণ আর্তনাদ ও কান্নার প্রতিকারে রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছে।
রেহানা আক্তার রানু এসব লুটেরা ও ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সমুদয় সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রীর জবাব ও ‘ব্যাংক রেজুলিউশন আইন ২০২৬’
নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং একটি নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে কোনোভাবেই নীরব ভূমিকা পালন করতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত এই আর্থিক খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক ‘রেজুলিউশন কাঠামো’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনি কাঠামো: এই ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলিউশন আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় মারাত্মক সঙ্কটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক- এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে একীভূত করে নতুন সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটি সরকারের রেজুলিউশন কৌশলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নবগঠিত নতুন ব্যাংকে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমানত সুরক্ষা তহবিলের অধীনে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির আইনি অধিকার আগে যেখানে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ছিল, তা বাড়িয়ে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীরা আমানত সুরক্ষা আইনের আওতাভুক্ত ছিলেন না, কিন্তু বর্তমান সরকার তাদেরও এই আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলিউশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের জমানো অর্থ ফেরত পাচ্ছেন।
বণিক বার্তা
‘ইসলামী ব্যাংকিং কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিংয়ের সর্বজনস্বীকৃত মূলমন্ত্র হলো ‘বিশ্বাস’। আমানতকারী বিশ্বাস করেন, ব্যাংকে তার অর্থ নিরাপদ থাকবে এবং প্রয়োজন হলে তিনি তা ফেরত পাবেন।
গ্রাহকের এ আস্থার ওপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে গোটা বিশ্বের ব্যাংকিং ব্যবস্থা। যদিও বাংলাদেশে তা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিপর্যয় ব্যাংক খাতের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
গত কয়েক বছরে অনেক বিতর্কিত ঘটনা, অনিয়ম ও বিপর্যয় দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সংকোচনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চার বছর আগেও দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২৭ শতাংশ ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ অংশীদারত্ব কমতে কমতে চলতি বছরের মার্চে ২৩ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। আর রেমিট্যান্স সংগ্রহসহ বৈদেশিক বাণিজ্যে অংশীদারত্ব আরো গুরুতর মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু এ অংশীদারত্ব এখন মাত্র ২০ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে এ ব্যবস্থার ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের স্থিতি ও হার।
চলতি বছরে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানতের স্থিতিও কমতে শুরু করেছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানত ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।
তিন মাস পর, চলতি বছরের মার্চে আমানতের এ স্থিতি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। যদিও আশির দশকে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর থেকে এতদিন আমানত স্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাশাপাশি বিস্তৃত হয়েছিল এ ধারার ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্যও।
অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি সহসা কাটিয়ে ওঠা কঠিন। এ ধারার বেশির ভাগ ব্যাংকই এখন দেউলিয়াত্বের মুখে রয়েছে। এসব ব্যাংকের অনেক গ্রাহক এখন নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান বা অর্থ জমা রাখার উৎস খুঁজছেন। ইসলামের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলা গ্রাহক সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যাবেন না। এ পরিস্থিতিতে অনেকে ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়লে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
অনেক গ্রাহক যে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের উৎস খুঁজছে, সেটির বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুকুকের নিলামে। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি (২৭৩ দিন) ইজারা সুকুক বন্ডের নিলাম আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে লক্ষ্যমাত্রার ১০ গুণের বেশি বিড জমা পড়ে। ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সুকুক কেনার আবেদন পড়েছিল ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার।
সুকুকের প্রতি এ আকর্ষণকে শরিয়াহভিত্তিক ফাইন্যান্স ব্যবস্থায় মানুষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সাবেক অর্থ সচিব এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হওয়া সত্ত্বেও মানুষ সেটি কিনছে না। কিন্তু সুকুক কেনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তার মানে দেশের মানুষের বড় একটি অংশ শরিয়াহভিত্তিক ফাইন্যান্স ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। এখানে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিপুল ভোক্তা আছে। ব্যাংকগুলোর দুরবস্থার কারণে তারা আস্থাহীনতার মধ্যে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হবে দ্রুত ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। অন্যথায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাংকিং ব্যবস্থাবিমুখ হয়ে যাবে। সেটি দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক ব্যবস্থার জন্য আরো বড় বিপদ ডেকে আনবে।’
বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং ধারণাটির বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়েছিল আরব রাষ্ট্র মিসরে। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে দেশটিতে গড়ে ওঠে বেশ কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে মিসরে বিকাশ ঘটেছিল বিশেষ পুঁজিপতি শ্রেণীর। আর তাদের বিনিয়োগেই দেশটিতে শিল্প খাতের ভিত গড়ে ওঠে।
সত্তর ও আশির দশকে ইসলামী ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ে পুরো মুসলিম বিশ্বে। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে চালু হয় ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির হাত ধরে দেশে গড়ে উঠেছিল কয়েক লাখ নতুন উদ্যোক্তা। একেবারে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর পর এ উদ্যোক্তাদের অনেকে দেশের কনগ্লোমারেটে রূপান্তর হয়েছিল। কিন্তু অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকটি।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ব্যাংকিং সংস্কার: খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন আইন’। খবরে বলা হয়, খেলাপি ঋণের ভারে বিপর্যস্ত দেশের ব্যাংক খাত। আদালতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, সম্পদ বিক্রিতে জটিলতা এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে গঠন করা হবে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), যা ব্যাংকের মন্দ ঋণ কিনে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ঋণ আদায়ে বছরের পর বছর লেগে যায়। এর মধ্যে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্যও কমে যায়। ফলে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারে না। নতুন আইন কার্যকর হলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ দ্রুত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট থেকে খেলাপি ঋণের চাপ কমবে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়বে। আইনটির খসড়া এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মন্দ ঋণ নিষ্পত্তিতে এক্সিট পলিসির আওতায় বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো দেশে কার্যকর হয়েছে।
গভর্নর বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ব্যাংকের টক্সিক বা খারাপ ঋণ ব্যালান্স শিট থেকে সরিয়ে নিতে পারবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ ধরনের কোম্পানি কার্যকরভাবে কাজ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গভর্নর আরও বলেন, অযথা মন্দ ঋণ ব্যালান্স শিটে রেখে দেওয়া একধরনের ভুল উপস্থাপন। তাই ব্যাংকগুলোকে রাইট-অফে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে রাইট-অফ করা হলেও ঋণগ্রহীতারা দায়মুক্তি পাবেন না; ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, বর্তমানে খেলাপি, অবলোপন করা ও নন-পারফর্মিং ঋণ পুনরুদ্ধার বা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির জন্য সমন্বিত কোনো আইন নেই। নতুন আইন কার্যকর হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এসব সম্পদ বিক্রি, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ডিএএমইউ) গঠন করা হবে। তবে প্রশাসনিকভাবে আইন প্রয়োগে স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা ভোগ করবে। প্রধানের পদমর্যাদা হবে ডেপুটি গভর্নরের সমান; যাঁর ব্যাংকিং বা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলে দায়িত্ব পালন করা যাবে না।
আইনে এক বা একাধিক ট্রাস্ট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ব্যাংক থেকে কেনা খেলাপি সম্পদ কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ হবে না; আলাদা ট্রাস্টে রাখা হবে। ফলে কোম্পানি দেউলিয়া হলেও ট্রাস্টের সম্পদের ওপর পাওনাদারেরা দাবি করতে পারবেন না। এ ছাড়া খেলাপি সম্পদ শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ উদ্ধার ও আইনি সমন্বয়ের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি হিসেবে কাজ করতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে এবং নির্ধারিত মূলধন, দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখতে হবে।
অর্থ পাচার, প্রতারণা বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। তবে আপিলের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ, শেয়ার ও বন্ড ইস্যু এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হলেও স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ফের যুদ্ধ শুরু মধ্যপ্রাচ্যে’। খবরে বলা হয়, যুদ্ধরিবতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গতকাল নতুন করে ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। হামলার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইসলামাবাদ চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইরানের সিরিক বন্দরনগরী, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং খারগ দ্বীপসহ কৌশলগত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে গাইডেড ‘নিখুঁত অস্ত্র’ দিয়ে আঘাত হানার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সবশেষ দফার হামলা করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরনগরী, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং খারগ দ্বীপসহ কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হামলা বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং সিরিক বাণিজ্যিক জেটিতে একটি প্রজেক্টাইলের টুকরোয় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ৮৫ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, হরমুজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্টেশনগুলোয় মার্কিন আকাশ হামলার জবাবে এটি তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করেছে তারা। ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন এ হামলাগুলোকে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঐতিহাসিক শোক ও বিদায় শোভাযাত্রার ঐতিহাসিক ঘটনাকে ম্লান করার চেষ্টা বলেও অভিযোগ করে আইআরজিসি।
পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইসলামাবাদ চুক্তির ব্যর্থতার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) শেষ হয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করা কেবল সময়ের অপচয়। আমরা গত রাতে ইরানের ওপর খুব কঠোর আঘাত করেছি। তাদের বলেছিলাম, প্রতিবার যখন তোমরা আঘাত করবে, আমরাও পাল্টা আঘাত করব এবং অবশ্যই তারা নোংরা খেলোয়াড়, তাই তারা সবার পেছনে লাগে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের পছন্দ করি না। তারা মন্দ লোক এবং এটি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়। আর আমরা একে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করব।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান বাঘের গালিবাফ জানান, আমরা পিছু হটা বা আত্মসমর্পণ করার পাত্র নই। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, দাদাগিরি এবং ব্ল্যাকমেলের দিন শেষ। আপনারা কোথাও পৌঁছাতে পারবেন না।
গালিবাফ দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, নতুন করে সামরিক হামলার ক্রমাগত হুমকি, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আক্রমণ, তেল খাতের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও হামলা-এর সবই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতার লঙ্ঘন।
গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, নিহত সাত : গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দখলদার ইসরায়েলের হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদলু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণের সাবরা এলাকার বার্সেলোনা পার্কের পুবদিকে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় আরও নয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মধ্য খান ইউনিসের জোরাত আল-আক্কাদ এলাকায় ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। একই এলাকার বির জানুন ও আল-শায়ের এলাকায় পথচারীদের লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ড্রোন হামলায় ৩০ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে চার শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাফাহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুয়াবিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে গাজা সিটির বন্দরের কাছে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় ৪৬ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর ইরানের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনার জন্য তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
