টানা দ্বিতীয় রাতেও ইরানের বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও আবু মুসা দ্বীপসহ হরমুজ প্রণালি বরাবর শহরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গোছে। ওদিকে বাহরাইন ও কুয়েতে সাইরেন বাজানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ইরানের কথিত হামলার প্রতিশোধ নিতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। ওদিকে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোক অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ বৃহস্পতিবার নিজ শহর মাশহাদে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃতদেহ দাফন করার কথা।
পাশাপাশি গাজা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে- হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টাকে আরও বিপর্যস্ত করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই নতুন দফার হামলা চালানো হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ড সেন্টকম এক্সে লিখেছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে সেন্টকম বাহিনী। তারা আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।
মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কয়েকটি শহর কেঁপে ওঠে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালায় ইরান। দুটি দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। অন্যদিকে কাতার সাময়িকভাবে উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য যে এখন দিতে হয়, তা যুক্তরাষ্ট্র এখনও শিখতে পারেনি। পরিষ্কার করে বলছি- আপনি হামলা করলে পাল্টা হামলার মুখে পড়বেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে কেবল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায়, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয়।
সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ দেয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। বুধবার তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সমঝোতা স্মারকটি কি এখন শেষ হয়ে গেছে? জবাবে তিনি বলেন, এটি খুবই আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয়, এটি শেষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। পরে তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তিও করি, সেটি টিকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। আমি তাদের খুবই অসৎ মানুষ হিসেবে পেয়েছি।
তবে অতীতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে পরে সরে আসার নজির থাকা ট্রাম্প বলেন, তিনি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হবে বলে মনে করেন না। স্থায়ী চুক্তির আলোচনা চলবে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। একই দিনে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় না যুদ্ধ আবার শুরু হবে। যা-ই ঘটুক, খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এবং তেলসহ সবকিছুর জন্যই এটি আরও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে।

লিমা
১ ঘন্টা আগেইরানের উচিৎ মধ্য প্রাচ্যের বড় সবগুলো ইমারত আগে ধ্বংস করে দেওয়া।