এদিন মেসির কোনো কিছুই যেন হচ্ছিল। পেনাল্টি মিসের পর একের পর এক বল হারাচ্ছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। এরইমধ্যে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সবাই যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের প্রহর গুনছিলেন তখন সেই মেসিই আবার সবকিছু ওলট-পালট করে দিলেন। এক গোল আর এক অ্যাসিস্টে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ের রাতেও নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডের। অঝোরে কেঁদেছেন ম্যাচ শেষে। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে মিশর এগিয়ে যাওয়ার পর দ্রুতই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
২১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলের দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তাতে করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টাইব্রেকারের বাইরে পেনাল্টিতে চারটি গোল মিস করে বাজে রেকর্ডে নাম উঠে যায় মেসির। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে কান্নার কারণ জানিয়ে মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে এখনই বিদায় নিতে চাইনি’। আটলান্টায় গত রাতে মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পরও মেসি তার হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচ জিতে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বলেন, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর খুবই রাগ হয়েছিল। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি আমি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেতো।’ ২-০ থেকে ৩-২ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা যে মাঠ ছেড়েছে, তাতে মেসির অবদানই বেশি।
৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। পরবর্তীতে ৮৩ মিনিটে অসাধারণ এক গোল করে সমতায় ফেরান মেসি। আর ৯০ মিনিটের পর ৩ মিনিটে গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ ম্যাচ থেকে মিশরকে এক রকম ছিটকে দেন। রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর মেসি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। সৌভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত আমি সুযোগ পেয়েছি। যা ঘটেছিল তারপরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’ মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয়ে আর্জেন্টিনার হার না মানা মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন মেসি। আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমরা যেভাবে যোগ্যতা অর্জন করেছি, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আবারো অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই এমন হয়।
প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই কাছাকাছি থাকে। আমি খুবই খুশি। এটি আমাদের গর্ব। দৃঢ় চরিত্র এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার ইচ্ছাশক্তির আরেকটি উদাহরণ। আমি এই দলকে নিয়ে খুবই গর্বিত।’ মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়ে গেছেন মেসি। এর মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড আরও বড় করেছেন তিনি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ১৯টি। শুধু গোলই নয়, রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যাও ৯-এ নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ছাড়িয়ে গেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার ৮ অ্যাসিস্টকে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন তিনি। ৭ গোল নিয়ে তার পেছনে আছেন আর্লিং হালান্দ ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। একইসঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন মেসি।
