নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার মূল্যায়ন ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে কমিশনার জানান, সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পর্যালোচনা ও সংস্কারের কাজ চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নও সম্পন্ন করেছে কমিশন এবং সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় তারা।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশ পর্যালোচনা করে আসন্ন নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী সংলাপ শুরু করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে পর্যবেক্ষক দল এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপ থেকে নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে কার্যকর সুপারিশ আসবে বলে আমরা আশা করছি।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। দুই দিনের এ সংলাপে উঠে আসা নতুন সুপারিশও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা ছিল। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এ কর্মশালার আলোচনার মাধ্যমে আরও কার্যকর সুপারিশ উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সুপারিশগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করা জরুরি। একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে অংশীজনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) মাইকেল লিডাউয়ার বলেন, বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। সবার অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ একত্রিত করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কারের একটি কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নে এ সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এসব সুপারিশ কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অংশীজনসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আলোচনায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতবিনিময় হচ্ছে।
