তরুণ ওজের-আলিরাসিমকে হারিয়ে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে ‘বুড়ো’ জকোভিচ

পাঁচ ঘণ্টার মহাকাব্যিক লড়াই

তরুণ ওজের-আলিরাসিমকে হারিয়ে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে ‘বুড়ো’ জকোভিচ

ফন্ট সাইজ:

৩৯ বছর বয়সে এসে নোভাক জকোভিচ টেনিস কোর্টে যা করছেন, তাকে আর যাই হোক ‘স্বাভাবিক’ বলা চলে না। নিজের চেয়ে ১৪ বছরের ছোট, শক্তি ও গতিতে এগিয়ে থাকা কানাডিয়ান তারকা ফেলিক্স ওজের-আলিরাসিমের বিরুদ্ধে সেন্টার কোর্টে যে মহাকাব্যিক যুদ্ধ তিনি লড়লেন, তা টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে টিকে থাকবে। ঘাসের কোর্টে ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে ৭-৬ (১২-১০), ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭ (৪-৭), ৭-৬ (১০-৪) ব্যবধানে জিতে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পা রাখলেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড সø্যামজয়ী এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি। এই জয়ের মাধ্যমে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড সø্যামের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ক্লান্ত কিন্তু উচ্ছ্বসিত জকোভিচ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি এই ম্যাচটা জিতেছি শুধু একটা র‌্যাকেট আর বুকভরা হৃদয় নিয়ে।

এই বয়সে এসেও আমার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট এই তরুণদের সঙ্গে কোর্টে লড়াই করতে পারছি, একদম শেষ মুহূর্তের নিখুঁত স্কোরে তাদের হারাতে পারছিÑ এটা একদিক থেকে দারুণ এক বিস্ময়। তবে একইসঙ্গে আমি সব সময় নিজের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা আশা করি। আমি নিজের প্রতি খুব বেশি সমালোচনামূলক এবং কঠোর। তবে এই ধরনের মুহূর্তগুলো আমি এখন উপভোগ করার চেষ্টা করছি।’
ম্যাচটি কেবল টেনিসের দক্ষতার ছিল না, ছিল জকোভিচের শরীর ও মানসিকতার এক চরম পরীক্ষা। প্রথম সেটে ৪-৪ গেম চলাকালীন ব্যাকহ্যান্ড মারতে গিয়ে বাঁ পায়ের কাফে চোট পান জকোভিচ।

তৎক্ষণাৎ মেডিকেল টাইমআউট নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় তাকে। চোট নিয়ে লড়েই প্রথম সেটের স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার ১২-১০ ব্যবধানে পকেটে পুরেন নোভাক। তবে ধকল কাটিয়ে দ্বিতীয় সেট ৩-৬ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান ওজের-আলিরাসিম।
এরপরই শুরু হয় অন্য নাটক। দ্বিতীয় সেট শেষে টুর্নামেন্ট রেফারি ডেনিস পার্নেল কোর্টে এসে জানান, আলোর স্বল্পতার কারণে ছাদ বন্ধ করা হবে। দুই খেলোয়াড়ই খোলা মাঠে খেলতে চাইলেও রেফারির এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান জকোভিচ। রেফারিকে উদ্দেশ্য করে ক্ষুব্ধ জকোভিচ বলেন, ‘আপনারা নিজেদের নিয়ম নিয়ে খুব গর্ব করেন, অথচ নিজেরা কোনো নিয়ম মেনে চলেন না।’ তবে ছাদ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত জকোভিচের খেলায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি, তৃতীয় সেট তিনি জিতে নেন ৬-৩ ব্যবধানে। চতুর্থ সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওজের-আলিরাসিম টাইব্রেকারে জিতলে ম্যাচ গড়ায় পঞ্চম সেটে।

পঞ্চম সেটের লড়াই যখন আরও তীব্র, তখন সেন্টার কোর্টের গ্যালারি মেতে ওঠে ‘নো-লে, নো-লে’ চিৎকারে। শেষ সেটের সুপার টাইব্রেকারে ওজের-আলিরাসিমের একটি ভলি ভুলের সুযোগ নিয়ে ১০-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন জকোভিচ। ম্যাচ শেষে গ্রেট বৃটেনের ড্যাভিস কাপ অধিনায়ক লিওন স্মিথ বিবিসিকে বলেন, ‘এই বয়সে এসে কোর্টে এই লেভেলের টেনিস খেলা... এটা স্বাভাবিক নয়। এটা সত্যিই স্বাভাবিক নয়। আমি জানি ও সারা জীবন নিজের শরীরের পেছনে সময় দিয়েছে। তবে পর্দার আড়ালে ও যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ও সবটুকু সম্মানের যোগ্য।’

সেমিফাইনালে জকোভিচের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শীর্ষ বাছাই ইয়ানিক সিনার। গত বছর এই সিনারের কাছেই ইনজুরি ও ক্লান্তির কারণে স্ট্রেইট সেটে হেরে বিদায় নিয়েছিলেন জকোভিচ। এবার সিনার মাত্র এক সেট হারিয়ে সেমিফাইনালে এসেছেন, যেখানে জকোভিচকে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন ম্যাচ খেলে আসতে হয়েছে।
পরের ম্যাচ নিয়ে জকোভিচ বলেন, ‘আগামীকাল কী হবেÑ আমি জানি না। আমি আরও একটা ধাপ অন্তত সামনে যেতে চাই। তবে এই ম্যাচটা আমার কাছে একটা ফাইনালের মতোই ছিল। আমার যা কিছু দেয়ার ছিল, তার সবটুকু আমি এই ম্যাচে ঢেলে দিয়েছি।’

অন্যদিকে, ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর উইম্বলডনেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে এমন হৃদয়বিদারক বিদায়ের পর বিধ্বস্ত ওজের-আলিরাসিম বলেন, ‘টেনিস ক্যারিয়ারের এমন একটা জায়গায় আছি যা মেনে নেয়া কঠিন। আজ আমি কিছুটা ভেঙে পড়েছি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন