বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মিশর, মেসির দিকে পক্ষপাতের অভিযোগ

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মিশর, মেসির দিকে পক্ষপাতের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

স্বাভাবিক সময়ের আর মাত্র ১২ মিনিট বাকি থাকতে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল মিশর।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ‘ফারাওরা’। ফুটবলপাগল আফ্রিকান দেশটির সামনে হাতছানি দিচ্ছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। কিন্তু এরপরই সবকিছু দ্রুত বদলে যায়—ভয়াবহভাবে।
৭৯তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমিয়ে দিলে মিশরের জন্য লক্ষ্য ছিল কোনোভাবে শেষ বাঁশি পর্যন্ত লিড ধরে রাখা। কিন্তু চার মিনিট পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি আর কে হতে পারেন! স্কোরলাইন ২-২ করে ফেললে মিশরীয়দের মধ্যে স্পষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ হেড থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন। তাতে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
অন্যদিকে মিশর ছিটকে যায় টুর্নামেন্ট থেকে, কিন্তু ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কারণ, তারা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় মোস্তফা জিকোর দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে দেয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)।
রায়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, গোলের সূচনা মুহূর্তে মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া সামান্যভাবে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে পা দিয়েছিলেন। যা ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত মিশরের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
মিশরীয়দের দাবি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে সালাহকে ফাউল করা হয়। কিন্তু রেফারি তাতে কোনো শাস্তি দেননি।

ফরাসি রেফারি ল্যাতিজিয়ার শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই হতাশা আর অবিশ্বাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিশরের অনেক খেলোয়াড়। কিছুক্ষণ আগেও যারা ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না কীভাবে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে গেল।
ম্যাচ শেষে বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে মিশরের কোচ হোসাম হাসান। অভিযোগ করেন, তার দলকে "অন্যায্য আচরণের" শিকার হতে হয়েছে এবং তারা "বিচারবঞ্চিত" হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি স্পোর্টস।

হাসান বলেন, “মাঠের ভেতরে ও বাইরে অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে। চারপাশে নেতিবাচক বিষয়ই বেশি দেখা গেছে। পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “হয়তো তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন বিশ্বকাপের দৌড়ে টিকে থাকেন।”
মিশরের কোচ বলেন, “বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব পর্যায়েই সমর্থন পেয়েছে। এই ফল নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কোনো না কোনো চাপ ছিল বলেই মনে হচ্ছে।”
এই ম্যাচে যেন সব নাটকীয় উপাদানই ছিল—পেনাল্টি সেভ, বাতিল হওয়া গোল, লাল কার্ড এবং রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা একটি দল অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন ছাড়াই ম্যাচ জিতে নিয়েছে যা বিশ্বকাপের মঞ্চে বিরল এক ঘটনা।
এখন বিবিসি স্পোর্টস ফিরে দেখছে সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচটি, যেখানে হতাশায় ডুবে যাওয়া মিশর এবং উল্লাসে ভাসা আর্জেন্টিনা মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় এক অধ্যায়।

‘খেলাধুলায় ন্যায়বিচার কোথায়?’
বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন মিশরের কোচ নিজের দেশের হতাশাজনক বিশ্বকাপ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, “বিশ্বকাপে আমাদের আরও ভালোভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে।”
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে মিশর এসেছিল ‘আন্ডারঅ্যাচিভার’ তকমা নিয়ে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের তিনটি অংশগ্রহণেই হতাশা ছিল সঙ্গী; সাত ম্যাচ খেলে একটিও জয় পায়নি তারা।
অবশেষে ২২ জুন ভ্যাঙ্কুভারে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় ‘ফারাওরা’। এরপর তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তারা এগিয়ে যায়, যখন ১৫তম মিনিটে হেড থেকে গোল করেন ইয়াসের ইব্রাহিম।
ঘটনাবহুল সেই ম্যাচে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর দুর্দান্ত এক সেভ করে ঠেকিয়ে দেন মেসির নেওয়া পেনাল্টি। পরে মিশর আরেকটি গোলও করেছিল বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

এরপর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল মিশরীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, সেই আক্রমণের আগে সালাহর ওপর ফাউল হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করে মিশর। উত্তেজনার মধ্যেই মিশরের বেঞ্চে থাকা কোচিং স্টাফের একজন লাল কার্ডও দেখেন।
ম্যাচ শেষে মিশরীয় শিবিরে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—“খেলাধুলায় ন্যায়বিচার কোথায়?”
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মিশরের প্রধান কোচ হলুদ কার্ড দেখেন। তিনি নিজের দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে ধরেছিলেন, যা ফিফার সমর্থিত একটি সংকেত; খেলোয়াড় ও কোচরা সাধারণত বর্ণবাদী ঘটনার অভিযোগ জানাতে এই প্রতীক ব্যবহার করেন।
তবে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওই অঙ্গভঙ্গির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি হাসান।
তিনি বলেন,
“আমরা সম্মান কিংবা ফেয়ার প্লে—কোনোটাই দেখিনি।
“আমাদের একটি পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, এমনকি VAR-এও সেটি পরীক্ষা করা হয়নি। আর আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও অবিশ্বাস্যভাবে, যে কারণই দেখানো হোক না কেন, বাতিল করা হয়েছে।
“আমরা সবাই দেখেছি জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল (ম্যাক অ্যালিস্টার), অথচ সেটিও VAR-এ পরীক্ষা করা হয়নি। জীবন অন্যায্য, স্বাভাবিক জীবনও অন্যায্য। কিন্তু খেলাধুলাতেও কেন ন্যায়বিচার থাকবে না?”
মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোও একই সুরে কথা বলেন।
তার ভাষায়,
“রেফারি সত্যিই অন্যায্য আচরণ করেছেন। অবিচারটা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের শুরু থেকেই আমাদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।”

বিশ্লেষণ
আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তগুলো
ডেল জনসন, ফুটবল ইস্যুবিষয়ক সংবাদদাতা

মাত্র গত সপ্তাহেই পিয়ারলুই কলনিয়া, যিনি ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান, ম্যাচ পরিচালনায় কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।
রেফারিদের বলা হয়েছে, স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শকে বেশি অনুমতি দিতে হবে, যাতে ম্যাচের গতি ও ছন্দ বজায় থাকে।
এ কারণেই এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি ফাউলের গড় সংখ্যা ২২.৬, যেখানে ২০২২ বিশ্বকাপে ছিল ২৫ এবং ২০১৮ সালে ছিল ২৭।

তাহলে মিশরের বাতিল হওয়া গোলের ক্ষেত্রে বিষয়টি কীভাবে প্রভাব ফেলেছে?
মিডফিল্ডার আত্তিয়া খুব সামান্যভাবে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনেছিলেন এবং হালকাভাবে তার পায়ের আঙুলে পা দিয়েছিলেন। কিন্তু VAR হস্তক্ষেপ করে জানায়, জিকোর দারুণ গোলটি ফাউলের কারণে বাতিল করতে হবে।
নিঃসন্দেহে এটিকে ফাউল হিসেবে দেখার সুযোগ আছে। তবে প্রশ্ন হলো, পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং হয়েছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
মাঠে যদি এমন ধরনের সংস্পর্শ খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো হিসেবে ধরা হয়, তাহলে VAR-এর ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে আলেকজেন্ডার পাভলোভিচের উঁচু বুট পেদ্রো ভিতের মুখে লাগার ঘটনাকে। সেই আক্রমণ থেকে লেরয় সানে গোল করলেও VAR হস্তক্ষেপ করেনি।
আরেকটি প্রশ্ন হলো, ফাউলটি কি গোলের সূচনার অনেক আগের ঘটনা ছিল?
VAR সাধারণত আক্রমণের সূচনা পর্যায়টি পরীক্ষা করে, বিশেষ করে কোন মুহূর্তে বলের দখল অর্জিত হয়েছিল তা দেখে। যেহেতু ওই চ্যালেঞ্জ থেকেই সরাসরি আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছিল, তাই ১৭ সেকেন্ড আগে ঘটলেও ঘটনাটি পর্যালোচনার আওতায় আসে।
তবে ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য আরও অস্বস্তিকর বিষয় ছিল আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনা।

আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে সালাহ পড়ে গেলে তিনি দাবি করেন, জুলিয়ান আলভারেজ তাকে ফাউল করেছিলেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, এটিও কি VAR-এ দেখা উচিত ছিল না?
ঘটনাটি অনেকটা আত্তিয়ার চ্যালেঞ্জের মতোই ছিল, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল।
সালাহ ছিলেন পেনাল্টি বক্সের ভেতরে। ফলে VAR-কে সম্ভাব্য পেনাল্টির বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়েছে, আর পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে ফাউল প্রমাণের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে কঠোর।
যদি ঘটনাটি বক্সের বাইরে ঘটত, তাহলে ধারাবাহিকতার স্বার্থে VAR-এর হস্তক্ষেপ করার সম্ভাবনা বেশি ছিল। কিন্তু পেনাল্টি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল বহাল রাখা হয়।

সালাহ কি আরেকটি বিশ্বকাপ খেলবেন?
যেখানে মেসি, হালান্দ এবং এমবাপ্পে এই বিশ্বকাপে নিয়মিত গোল করেছেন, সেখানে সালাহর ঝুলিতে রয়েছে মাত্র একটি গোল।
সেটি এসেছিল ২২ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মিশরের অধিনায়ক কোনো শটই নিতে পারেননি, এমনকি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পাসও দিতে পারেননি।
পরবর্তী বিশ্বকাপ ২০৩০ সালে মরক্কো, পর্তুগাল এবং স্পেন যৌথভাবে আয়োজন করবে। তখন সালাহর বয়স হবে ৩৮ বছর। তাই প্রশ্ন উঠছে মিশরের এই তারকা কি আরেকবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা দেবেন?
যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১) এবং লুকা মদ্রিচ (৪০) ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, সেখানে চার বছর পর সালাহ আবার মিশরের জার্সিতে বিশ্বকাপে ফিরবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে মিশরের বিদায়ের পর এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে কেবল মরক্কোই টিকে আছে।
চার বছর আগে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই এবারও এগিয়ে চলেছে ‘আটলাস লায়ন্স’।
কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বোস্টন স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (বিএসটি রাত ৯টা)। মরক্কো জিতলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার কীর্তি গড়বে।

গর্বের পাশাপাশি হৃদয়ভাঙার বেদনা
শাইমা খলিল
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে BBC-এর উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা

আমি মাত্রই আমার নয় বছর বয়সী ভাতিজার সঙ্গে ফোনে কথা বলা শেষ করেছি।
সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলল, “মিশা, এটা একটা বিপর্যয়। আমাদের কাছ থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে!”
আমার ধারণা, আজ রাতে মিশরের অসংখ্য পরিবার এবং পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, যেখানে আমার পরিবারের মতো মানুষজন খেলা দেখছেন, এমন কথোপকথনই চলছে।
‘হৃদয়ভাঙা’ শব্দটিও হয়তো এই অনুভূতির গভীরতা পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারে না।
ম্যাচটি সমর্থকদের এক আবেগঘন রোলার-কোস্টারে চড়িয়ে নিয়ে গেছে—আশা থেকে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে উচ্ছ্বাস, তারপর ক্ষোভ এবং শেষ পর্যন্ত গভীর বেদনায়।
“মিশরীয় বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান হিসেবে আমি ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করেছি,” বলেন ৪১ বছর বয়সী স্বামী এলমানসৌরি।
তার ভাষায়,
“বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের পর মিশরকে আর্জেন্টিনার মতো দলের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করতে দেখা এমন একটি স্মৃতি, যা আমি কখনো ভুলব না। আজ এই খেলোয়াড়রা বিশ্বকে যা দেখিয়েছে, তা কোনো কিছুই ম্লান করতে পারবে না। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের পারফরম্যান্স স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
সম্ভবত আজ রাতে অনেক মিশরীয়র অনুভূতিও এমনই।

হৃদয়ভাঙার বেদনার পাশাপাশি আছে গর্ব। তারা আন্ডারডগের মতো খেলেনি; খেলেছে সমান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে।
এই দলটি এমন কিছু করেছে, যা এর আগে কোনো মিশরীয় দল করতে পারেনি। তারা পুরো একটি জাতি এবং একটি অঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগিয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের মূলমন্ত্র ছিল ‘মেকামেলিন’ (Mekameleen)—যার অর্থ, ‘আমরা এগিয়ে যাব’ বা ‘আমরা থামব না’।
তারা সেটিই করেছে—লড়াই চালিয়ে গেছে।
তবে আজ রাতে কাইরো, আলেকজান্দ্রিয়া এবং মিশরের অন্যান্য শহরের রাস্তাগুলো হয়তো সমর্থকদের প্রত্যাশামতো উৎসবে মুখর হবে না।
এই বিশ্বকাপ মিশরের জন্য শেষ হয়েছে হৃদয়ভাঙা এক পরিণতিতে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেশটির মানুষকে নতুন এক বিশ্বাসও উপহার দিয়েছে—এই দলটি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী জাতিগুলোর সঙ্গে একই মঞ্চে জায়গা পাওয়ার যোগ্য।
হয়তো ট্রফি জেতা হয়নি, কিন্তু মিশর প্রমাণ করেছে তারা আর কেবল অংশগ্রহণকারী নয়; তারা প্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেই উপলব্ধিই এই বেদনাদায়ক বিদায়ের মাঝেও মিশরীয়দের গর্বিত করে রাখবে।

সূত্র- বিবিসি

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন