আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লা পেন। তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল আছে। তবুও তিনি নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই দণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার আপিল আদালত লা পেনের সরকারি পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে দেয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দেন। যদিও আদালত ইইউর অর্থ আত্মসাৎ করে তার দলীয় কর্মীদের বেতন পরিশোধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রেখেছে। রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লা পেন তার নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট চালু করেন এবং ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন। এর ফলে ফ্রান্সে এক বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত একজন শীর্ষ প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। টিএফ১ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লা পেন বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী। শেষ কথা বলবেন ফরাসি জনগণ।
জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ৫৭ বছর বয়সী এই নেতা জানান, তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত কুর দ্য ক্যাসাসিওঁ-এ আপিল করবেন। তার দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। ২০২৫ সালের মার্চে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিজের অভিবাসনবিরোধী দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন)-এর কর্মীদের বেতন দিতে ব্যবহার করার অভিযোগে লা পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আরএন ৩০ বছর বয়সী তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জর্দান বারদেলা’কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করতে শুরু করে। তবে মঙ্গলবারের রায়ে আদালত সরকারি পদে থাকার নিষেধাজ্ঞা ৬০ মাস থেকে কমিয়ে ৪৫ মাস করেছে। এর মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত রাখা হয়েছে। গত বছরের রায়ের পর থেকেই নিষেধাজ্ঞার সময় গণনা শুরু হওয়ায় কার্যকর ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
আপিল আদালত বলেছে, লা পেনের দোষ প্রমাণিত হলেও তারা ভোটারের স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি বেছে নেয়ার অধিকার বিবেচনায় নিয়েছে। এটা গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্বশর্ত। আগামী এপ্রিলের নির্বাচন নিয়ে জনমত জরিপে আরএন এগিয়ে রয়েছে। গত ১৫ বছরে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়া লা পেন এবার জিতবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, এখন আর এমন কোনো পরিস্থিতি নেই, যাতে আমি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নেব না।
কয়েক মাস ধরে লা পেন বলে আসছেন, যদি তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির অ্যাঙ্কল ট্যাগ পরতে হয়, তাহলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কারণ এতে নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হবে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে। তবে মঙ্গলবার তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করায় আপাতত তাকে ওই ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরতে হবে না। এছাড়া কুর দ্য ক্যাসাসিওঁ আগেই জানিয়েছে, আপিল করা হলে তারা নির্বাচনের আগেই লা পেনের মামলার নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে।
বর্তমানে ন্যাশনাল র্যালি ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের একক বৃহত্তম দল। তবে দেশটির পার্লামেন্ট এখনও তিনটি প্রধান রাজনৈতিক জোট- কট্টর ডানপন্থী, কট্টর বামপন্থী এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে বিভক্ত। সবুজ দলের নেতা মেরিন টন্ডেলিয়ে বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, যদি আরএনের ন্যূনতম নৈতিকতাবোধও থাকত, তাহলে লা পেন সরে দাঁড়াতেন। কারণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নির্বাচনে অংশ নেয়া শোভন নয়।
