জ্বালানি সংকট, ওষুধের অভাব আর দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীনতার মাঝেও কিউবার জাতীয় চিড়িয়াখানায় চারটি বেঙ্গল টাইগার শাবকের জন্ম হয়েছে। বিরল প্রজাতির এই বাঘের জন্মকে দেশটির চিড়িয়াখানা কর্মীরা একটি ‘ছোটখাটো অলৌকিক ঘটনা’ ও বড় ধরণের প্রজননগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন। চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া এই চারটি শাবকের মধ্যে একটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির সাদা বেঙ্গল টাইগার। কিউবার ইতিহাসে সাদা বাঘের জন্ম নেয়ার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। তীব্র গরম আর অন্তহীন সমস্যার মধ্যেও এই সাফল্যের অংশ হতে পেরে চিড়িয়াখানার কর্মীরা অত্যন্ত গর্বিত।
৪৪ বছর ধরে এই চিড়িয়াখানায় কাজ করা অভিজ্ঞ কর্মী অ্যাঞ্জেল কর্ডেরো জানান, আমেরিকার তেল অবরোধের পর থেকে বাঘ ও সিংহের খাঁচাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই বাঘের ছানাগুলোর আগমন চিড়িয়াখানার কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে, যারা প্রতিদিন প্রায় এক হাজার পশুর খাবার জোগাতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। ৩৭৫ হেক্টরের এই বিশাল চিড়িয়াখানায় মহিষ, জেব্রা, গন্ডার ও জলহস্তীসহ নানা প্রজাতির প্রাণীদের খাবার বিতরণের জন্য প্রতিদিন যেখানে ২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে কর্তৃপক্ষ মাত্র ৫ লিটার বরাদ্দ দিতে পারছে। এই তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কর্মীরা এখন চিড়িয়াখানার ভেতরে যাতায়াত এবং খাবার পরিবহনের জন্য গাড়ি ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা এখন ঘোড়ার গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভর করছেন।
চিড়িয়াখানার পরিচালক হুয়ান কার্লোস সান্তোস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এত বড় সংকটের পরও কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ছোট ছোট বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে নতুন অংশীদারিত্বের কারণে পশুদের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পশুদের বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করছে। এছাড়া কর্মকর্তারা আশা করছেন, কিউবার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জন্য যে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে চিড়িয়াখানায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদান ও নতুন রসদ পাওয়ার পথ সুগম হবে।
