ফিলিস্তিনিদের জন্য যার কষ্ট হয় না, সে মানুষই না: মিশর কোচ

ফিলিস্তিনিদের জন্য যার কষ্ট হয় না, সে মানুষই না: মিশর কোচ

ফন্ট সাইজ:

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগের মিশরের সংবাদ সম্মেলন রূপ নিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে। আলবিসেলেস্তে দল বা লিওনেল মেসিকে নিয়ে কৌশলের আলোচনার চেয়েও সেখানে বড় হয়ে উঠলো গাজার নিপীড়িত মানুষের কান্না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াইয়ের রণপরিকল্পনা একপাশে সরিয়ে রেখে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে এক আবেগঘন ও দীর্ঘ বক্তব্য দিলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।

বিশ্বকাপের মঞ্চকে ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের আওয়াজ হিসেবে বেছে নিয়ে হোসাম হাসান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের জন্য পৃথিবীর যে প্রান্তেরই হোক না কেন- কোনো আরব, ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান- যার মনে কষ্ট হয় না, সে আসলে মানুষই না।’

সংবাদ সম্মেলনে চার মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেয়া তার এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেই করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। গত শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো হয়। সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মিশরীয় কোচ এটিকে স্রেফ একটি ‘মানবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পৃথিবীর দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে হাসান আরও বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে, এমনকি ইউরোপ বা আমেরিকাতেও যদি কোনো পশুর ওপর আঘাত করা হয়, তবে আমরা দেখি পশু অধিকার নিয়ে সারা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে ওঠে। অথচ আজ একটা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একদিনে দুই-তিন হাজার মানুষ মারা যাওয়াটা পৃথিবীর কাছে ডালভাত হয়ে গেছে।’

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ থেকে যুদ্ধ বন্ধের আকুতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যা-ই হোক না কেন... আরবের আগে আমি একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা এটাই। ফিফার স্লোগানে যেমন আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার কথা বলা হয়, আমি আশা করি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রতিও যেন সেই সম্মানটুকু দেখানো হয়।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন