অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশের ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন পার্কেস আসনের এমপি ও শ্যাডো মিনিস্টার।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সুমনের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ‘এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বেগের বিষয়টি দেশটির একটি অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় এবার ফেডারেল পার্লামেন্টেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।’
আইনজীবী লিটন জানান, পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে জেমি চ্যাফি বলেন, বিশ্বের যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হোক না কেন, সে বিষয়ে কথা বলা এবং তা তুলে ধরা সভ্য মানুষের দায়িত্ব। ডাব্বোসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ব্যারিস্টার সুমনের বিষয়টি তার নজরে আনেন। তাদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন।
লিটন আহমেদ আরও বলেন, ‘পার্লামেন্টে ব্যারিস্টার সুমনসহ ২০২৪ সালের পর থেকে আটক থাকা কয়েকজন রাজনীতিবিদের কারাবন্দি অবস্থায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসুবিধা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশা করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সুমনের মামলার অগ্রগতির বিষয়েও তথ্য তুলে ধরে তার আইনজীবী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সব মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করলেও দুটি মামলায় চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেছেন।’ বাকি মামলাগুলোর রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত রুল নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তার আইনজীবী।
উল্লেখ্য, জেমি চ্যাফি তার বিবৃতিতে বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ব্যারিস্টার সুমন দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন। এমপি চ্যাফি আরও বলেন, ‘হেফাজতে থাকা ব্যারিস্টার সুমনসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আচরণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নির্যাতন, চরম অপুষ্টি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থকদের অনেকেই তার নিরাপত্তা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ তাদের দাবি, পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার পক্ষে সবসময় অবস্থান নেয়।’ এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার কী ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সরকারের অবস্থান জানতে চান।
আইনজীবীর দাবি
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে ব্যারিস্টার সুমনের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
৭ জুলাই (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১ঃ১০ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
