জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে নিয়ে ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এমন অভিযোগ তুলেছে দেশটির বিরোধী জোট। শুক্রবার নোভা’র বুশ ডিপ পডকাস্টে অংশ নিয়ে আলবানিজ তাকাইচির অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় দেয়া সরকারি উপহার ‘রয়েল মেলন’ নিয়ে কথা বলছিলেন। অস্ট্রেলিয়া জাপানি তরমুজ আমদানির বাজার পুনরায় খুলে দেয়া উদ্যাপন হিসেবে শিজুওকায় উৎপাদিত দুটি বিশেষ মেলন আলবানিজকে উপহার দেন তাকাইচি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নিকি ওসবোর্ন মজা করে জানতে চান, তাকাইচি কি কাস্টমস ফাঁকি দিয়ে তরমুজগুলো এনেছিলেন? এ সময় তিনি হাতে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ভঙ্গি করেন এবং অভিনেত্রী পামেলা অ্যান্ডারসনের প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে আলবানিজও একই ধরনের হাতের ভঙ্গি করে বলেন, ‘কয়েকটা মেলন এনেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দুটি এনেছিলেন, যেমনটা সাধারণত করা হয়। আর সেগুলো খুবই সুন্দর।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
বিরোধী দলের যোগাযোগবিষয়ক মুখপাত্র সারা হেন্ডারসন বলেন, পডকাস্টে দেয়া মন্তব্যের জন্য আলবানিজের উচিত সানায়ে তাকাইচি এবং সব নারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তার ‘অশালীন লকার রুমের কথাবার্তায়’ নারীদের টেনে এনেছেন। এর আগে একটি বিতর্কিত খেলায় অংশ নেয়ার কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েন আলবানিজ। সাক্ষাৎকারে তাকে পপ তারকা কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান এবং শিল্পী রোন্ডা বার্চমোর- এই তিনজনের মধ্যে কাকে তিনি যৌন সঙ্গী, কাকে বিয়ে এবং কাকে ডেটে নিয়ে যেতে চাইবেন, তা বেছে নিতে বলা হয়।
জবাবে আলবানিজ বলেন, ‘আমি তো সবে বিয়ে করেছি। মাত্র ছয় মাস হলো।’ তখন উপস্থাপক ওসবোর্ন মজা করে বলেন, ‘কিন্তু যদি সম্পর্কটা ভেঙে যায়?’ আলবানিজ জবাব দেন, ‘কাইলি, অবশ্যই।’ ওসবোর্ন আবার প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কাইলিকেই বিয়ে করবেন? ডেটে যাবেন? আর যৌন সঙ্গীও করবেন?’ আলবানিজ হেসে উত্তর দেন, ‘সবই। তিনি দারুণ।’
পডকাস্টের আরেক পর্যায়ে আলবানিজ ও তার নতুন স্ত্রী জোডি হেইডনকে নিয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেন ওসবোর্ন। তিনি জানতে চান, তারা কি ‘খরগোশের মতো ঘন ঘন যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন?’ আলবানিজ উত্তরে বলেন, ‘সময় পেলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল খেলা শেষ হওয়ার পর। আমাদের প্রিয় এনআরএল দল সাউথস জিতলে সেটা বেশ রোমান্টিক আবহ তৈরি করে।’
সমালোচনার মুখে আলবানিজের পক্ষে অবস্থান নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং সমাজসেবামন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক। তারা বলেন, নারীদের অধিকার ও সমর্থনে আলবানিজের দীর্ঘদিনের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও বিবেচনায় নেয়া উচিত।
স্বতন্ত্র এমপি জালি স্টেগল অবশ্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্পূর্ণ অনুচিত ছিল। তিনি বলেন, তার শেখা উচিত কীভাবে এমন প্রশ্ন প্রতিহত করতে হয়, উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয় এবং স্পষ্টভাবে বলতে হয় যে এটি নারীবিদ্বেষী আচরণ। ওয়ান নেশন দলের এমপি বার্নাবি জয়েসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আলবানিজের বক্তব্য তার মর্যাদার নিচের পর্যায়ের ছিল।
সোমবার সানরাইজ অনুষ্ঠানে জয়েস বলেন, অনেক মানুষ মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খুবই হতাশাজনক হয়েছে। তাই তার এমন হাস্যকর খেলায় অংশ নেয়ার প্রয়োজন ছিল না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, একই প্রশ্ন করা হলে তিনি কী করতেন। জয়েস জবাব দেন, প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতাম, যেমনটা অধিকাংশ মানুষই করে। পরবর্তীতে অ্যান্থনি আলবানিজ তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
