যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্বকাপে হস্তক্ষেপ করেও যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে পারলেন না। আগের ম্যাচে লাল কার্ড খেয়ে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ মার্কিন খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে অনুরোধ করেন ট্রাম্প। তার অনুরোধ মেনে নেন ইনফান্তিনো। ফলে শুধু বিশ্বকাপেই নয়, সারা বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক হয়। বৃটিশ পত্রিকা অনলাইন ডেইলি মেইল এসব কথা লিখেছে।
তাদের সংবাদ শিরোনাম- ‘ইউএসএ’জ ওয়ার্ল্ড কাপ ড্রিম ইজ ওভার: বেলজিয়াম স্কোর ফোর টু ডাম্প ওউফুল হোস্টস আউট ইন সিয়াটল শকার ইন ফ্রন্ট অব স্টার-স্টাডেড ক্রাউড...ডেসপাইট ট্রাম্পস এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইনটারভেনশন’। সোমবারের ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ১-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয় যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেও যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারলেন না। সিয়াটলে ৯০ মিনিটের হতাশাজনক লড়াইয়ে তার সেই হস্তক্ষেপ কোনো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেনি। বরং বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শেষ ষোলোতেই বিদায় নেয় স্বাগতিকরা। ডি কেটেলারে দুটি গোল করেন এবং আরেকটি গোলে অবদান রাখেন। তবে তাকে কাজটি সহজ করে দেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরাই। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ফুটবল খেলা দলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভয়াবহ পারফরম্যান্স উপহার দেয়। বালোগান গোলশূন্য থাকেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ে। কয়েক সপ্তাহের রূপকথার মতো যাত্রার এমন হতাশাজনক সমাপ্তি হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বদলাতে পারতেন না। শেষদিকে রোমেলু লুকাকু যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি রক্ষণভুলের সুযোগ নিয়ে বেলজিয়ামের ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। তবে এই ম্যাচের আগে শুধু উত্তেজনাই ছিল না, ছিল তীব্র ক্ষোভও।
অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন, ট্রাম্প কেন এভাবে হস্তক্ষেপ করলেন। আবার মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে খেলতে দেয়ায় ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। অনেকের মতে, আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসে রাজনীতি ও খেলাধুলার সীমারেখা এতটা জটিলভাবে আর কখনও মিশে যায়নি। তবে এসবের জন্য বালোগান বা পোচেত্তিনোর খেলোয়াড়দের দায়ী করা যায় না। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বিশৃঙ্খলা তাদের মানসিকতায় কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা বলা কঠিন। অধিনায়ক টিম রিম অবশ্য দাবি করেন, এতে দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
কিন্তু তাহলে এমন বাজে পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা কী?এমন রাতের জন্যই কি যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন বিপুল অর্থ ব্যয় করে পোচেত্তিনোকে দায়িত্ব দিয়েছিল। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার একটি বাক্যই সবার মুখে মুখে ফিরেছে- ‘কেন আমরা নই?’ কিন্তু যখন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, তখনই ভেঙে পড়ে পুরো দল। এই পরাজয়ের ফলে ২০০২ সালের পর আর কোনোবারই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলে ভিআইপি গ্যালারিতে লরা সানচেজ, জেফ বেজোস ও মার্কওয়েইন মুলিনের পাশে বসে ম্যাচ দেখছিলেন ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বালোগান বিতর্কের জেরে তার নিজের অবস্থানও এখন চাপে। যদিও ডি কেটেলারের অসাধারণ পারফরম্যান্স অন্তত সাময়িকভাবে সেই বিতর্ককে আড়াল করে দেয়।
