উদ্বোধনের ৫ বছর পরও অব্যবহৃত রয়েছে ভৈরবের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। সোমবার ২১ কোটি টাকায় ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি। বা কোনো রকম ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সারা দেশে ভৈরবের মাছের আড়তের সুনাম রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে প্রয়োজন সব ধরনের কার্যক্রম শেষে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভৈরবের বিদেশগামী প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষাসহ ট্রেনিং সেন্টার করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। নদী বন্দর ভৈরবের নদী রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোত ভাঙন রোধে আপৎকালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভৈরব ও কুলিয়ারচরের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে যা অল্পদিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার উন্নয়নের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফর কার্যক্রম উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব বাজার-আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নাহিদ হোসেন, যুগ্ম পরিচালক (চ. দা.) মো. জসিম উদ্দিন, ভৈরব মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মারুকী শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. সাইফুল হক ও মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ।
জানা যায়, ভৈরবে পুরাতন মেঘনা ফেরিঘাটে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ২০ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২১ সালের ১৩ই অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অবতরণ কেন্দ্রটি ২৭ শতাংশ ভূমির উপর নির্মিত। ভবনের চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর, অকশন শেড, প্যাকিং শেড, ৩৫টি আড়ত ঘর, ১টি আইসপ্লান্ট, সোলার প্যানেল, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, গভীর নলকূপ, আইস ক্রাসার ও জেনারেটর ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের প্রায় ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ব্যবসায়ী অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসা করতে আসেননি।
