ক্রয়ক্ষমতা কমছে ৫৩ মাস ধরে

সহযোগীদের খবর

ক্রয়ক্ষমতা কমছে ৫৩ মাস ধরে

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘ক্রয়ক্ষমতা কমছে ৫৩ মাস ধরে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, টানা সাড়ে চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি বাড়েনি। প্রতি মাসে যত মূল্যস্ফীতি হয়, তার চেয়ে কম হারে মজুরি বাড়ে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এমন পরিস্থিতি চলছে। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের বাজার থেকে জিনিসপত্র কেনার সামর্থ্য কমে গেছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশের ৮৬ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনানুষ্ঠানিক খাতে হওয়ায় মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি হার না বাড়লে শ্রমিকশ্রেণি বা নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি ও কষ্ট বাড়ে।

এদিকে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল সোমবার মাসিক মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন অবস্থায় চলতি জুলাই মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় মূল বেতন পেতে শুরু করবেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর বেতন বাড়বে। ফলে বাজারে আরেক দফা জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে, যা আবারও মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। সরকারি চাকুরে নন এমন সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিপাকে পড়বে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা নেই। তার ওপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলবে। এত দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মানুষের প্রকৃত আয় দ্রুত কমেছে, খরচ করার সামর্থ্য সীমিত হয়েছে। মানুষ সংসার খরচ কাটছাঁট করতে গিয়ে বিনোদন, পর্যটনসহ নানা খাতে কম ব্যয় করছেন, যা ব্যবসা–বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মানুষের প্রকৃত আয় কমছে

২০২২ সালের জানুয়ারির পর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি মজুরি বৃদ্ধির হার। প্রতি মাসে গড়ে যত মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে বেশি।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর তখন গড় জাতীয় মজুরি হার ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপরে কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতির হারকে ছুঁতে পারেনি মজুরি হার। অর্থাৎ ৫৩ মাস ধরে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। সর্বশেষ জুন মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, আর মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে ২০২২ সালের আগে বেশির ভাগ সময়েই মূল্যস্ফীতির চেয়ে জাতীয় মজুরি হার বেশি ছিল।

দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৩ ধরনের মজুরিসংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করে মজুরি হার গণনা করে বিবিএস। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, নির্মাণ, কলকারখানা, পরিবহনসহ সব খাতের মজুরি ও বেতন দিয়ে আয় বাড়ল কি না, তা দেখা হয়।

বিবিএসের হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৮৬ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে হয়। দেশের ৫ কোটির বেশি নারী–পুরুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। ফলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি না বাড়লে তাঁদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।

মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো। ধরুন, আপনার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সেই অনুযায়ী আয় না বাড়লে আপনাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করতে হবে।

বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন জাকির হোসেন। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর কাওলা এলাকায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাঁর কোনো বেতন বাড়েনি। ২০২৬ সালে বেতন ৫ হাজার টাকা বেড়ে ৪৫ হাজার টাকা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত তিন বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে তিনবার। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তিন–চার বছর আগে মাসে চার–পাঁচ হাজার টাকা জমাতে পারতাম, এখন পারি না। উল্টো মাসের শেষ দিকে টানাটানি পড়ে। কোনো মাসে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়।’ জাকির হোসেনের মতো এমন অসংখ্য সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে দু-তিন বছর ধরে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেই


২০২১ সাল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে (৭ শতাংশের নিচে) ছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে শুরু করে। বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে। দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

ওই বছরের আগস্টে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ ৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়। তখনই মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এরপর মূল্যস্ফীতির চাকার গতি আর থামানো যায়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তেমন জোরালো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে। তখন অর্থমন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকেরা বলেছিলেন, এই মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী বিশ্ববাজার।

২০২২ সালে ডলারের দামও বেড়ে যায়। ডলার–সংকটে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে। মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে বড় সংকট হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা এই সংকটকে স্বীকৃতি দেননি এবং বড় কোনো পদক্ষেপও নেননি। অর্থনীতিবিদেরা অভিযোগ করেন, সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি ৭–৮ শতাংশে থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বছরের জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। আর ওই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা আগের ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংকোচন মুদ্রানীতি, সুদের হার বাড়ানো, কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে হয় সাড়ে ৮ শতাংশ। তবে শেষ দিকে আবার মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ে। নতুন সরকার আসার পর তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৩ পরামর্শ


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। এক. সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাসাভাড়া, পরিবহন খরচ বাড়বে। এতে সরকারি খাতের বাইরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই বেসরকারি খাতের মজুরি বা বেতন বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দিতে হবে।

দুই. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড প্রচলন করা হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিন. বাজার সিন্ডিকেটসহ সার্বিক বাজার ব্যবস্থাপনায় তদারকি বাড়াতে হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘অপচয়-অনিয়মের পাহাড়’। খবরে বলা হয়, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। দেশের প্রথম নদীতল টানেল হিসাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় বলা হয়েছিল, এটি চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এবং অর্থনীতিতে যোগ করবে নতুন গতি। কিন্তু এটি এখন আক্ষরিক অর্থেই শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প চালুর পর প্রত্যাশিত যানবাহন চলাচল নিশ্চিত হয়নি। ফলে টোল আদায় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই মেটানো যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যেই আইএমইডির মূল্যায়নে উঠে এসেছে হরিলুটের চাঞ্চল্যকর তথ্য। নথিপত্রে অস্তিত্ব না থাকলেও ল্যান্ডস্কেপিং ও বাগানের নামে ৪৯ কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় বাংলো নির্মাণে ৫০৩ কোটি টাকা ব্যয়, ঠিকাদারকে কয়েকশ কোটি টাকার অনৈতিক সুবিধা দেওয়া এবং ভুয়া বিলে অর্থ উত্তোলনসহ প্রকল্পটিতে অন্তত ৪৪টি গুরুতর অডিট আপত্তি ঝুলছে।

সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ২০২৬ সালের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি প্রকৌশলগতভাবে সফল হলেও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। অনেক খাতে ব্যয়ের পর্যাপ্ত নথি নেই, আবার অনেক ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অনিয়মগুলোর একটি হলো ল্যান্ডস্কেপিং ও বৃক্ষরোপণ (বাগান) ব্যয়। আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে ৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) কিংবা প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এমন কোনো কাজের উল্লেখই নেই। কোথায় গাছ লাগানো হয়েছে, কতটুকু এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হয়েছে কিংবা কীভাবে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে-এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর প্রকল্পের নথিপত্রে পাওয়া যায়নি। অডিট কর্তৃপক্ষ এ ব্যয়কে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

টানেলের জন্য ৫০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সার্ভিস এরিয়া (৩০টি বাংলো)। কিন্তু আইএমইডির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এই স্থাপনার প্রয়োজনীয়তার যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অর্ধহাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও কেন এই স্থাপনা নির্মাণ করা হলো, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রকল্প নথিতে নেই। টানেলে যানবাহনের চাপ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় এই সার্ভিস এরিয়ার ব্যবহারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রকল্পে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতার আরেকটি উদাহরণ বিদ্যমান একটি বাংলো সংস্কার। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংস্কারকাজে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি বাংলো সংস্কারে এত অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে একাধিক। মূল্য সমন্বয়ের নামে বিধিবহির্ভূতভাবে ২২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি আপত্তিতে আরও ৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় না করে প্রভিশনাল সাম থেকে অতিরিক্ত ৯০ কোটি ২৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০০৮) লঙ্ঘনের শামিল বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্তও কার্যকর করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলেও আদায় করা হয়নি বিলম্বজনিত জরিমানা। অডিটে বলা হয়েছে, এতে এক ঘটনায় ২৪৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং আরেক ঘটনায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা লিকুইডেটেড ড্যামেজ থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ কাজে বিলম্ব হলেও তার আর্থিক দায় ঠিকাদারের ওপর আরোপ করা হয়নি।

প্রকল্পের প্রশাসনিক ব্যয়েও মিলেছে অসংগতির দীর্ঘ তালিকা। পৃথক সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ তদারকির নামে অতিরিক্ত ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুসরণ না করে পরামর্শককে আপ্যায়ন ব্যয় হিসাবে ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আবাসন ও রেন্টাল সুবিধার নামে আরও ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়কে অনিয়ম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিশেষজ্ঞদের খাবার ব্যয় এবং সফটওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জাল বিল-ভাউচার ব্যবহার করে ৪১ লাখ ৯ হাজার টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলনের তথ্যও উঠে এসেছে অডিটে। সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও সরকারি গাড়ি ফেরত না দেওয়ায় ১৪ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং পৃথকভাবে আরও ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘কর্মসংস্থান রক্ষায় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

গত রবিবারও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি ও বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো।

তবে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বড় অনেক শিল্পগোষ্ঠীও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।

এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।

আব্দুল মোনেম সুগারকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সংসদে নিষ্প্রভ জামায়াত, এমপিদের ভূমিকায় বিব্রত’। খবরে বলা হয়, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারছে না প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদ সদস্যদের কয়েকজন সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বাজেট আলোচনায়ও জামায়াত এমপিরা ছিলেন নিষ্প্রভ। অর্থ বিলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাবও দেয়নি তারা। সংসদ সদস্যদের অনেকের সংসদের রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালি বিধির বিষয়ে জানাবোঝার ঘাটতিও প্রকাশ পেয়েছে।

সংসদের বাইরে দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের (এমপি) কার্যকলাপে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে জামায়াত। এদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য দল থেকে কোনো কোনো এমপিকে সতর্কও করা হয়েছে। জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আবার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্বজনদের দেওয়ার ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত থাকলেও জামায়াত তাদের এমপির পক্ষ নিয়েছে।

অপ্রাসঙ্গিক, ভুল তথ্য নিয়ে বিতর্কিত


চলমান বাজেট অধিবেশনে গত ১৭ জুন দেওয়া বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি মু. মিজানুর রহমান এপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চান। তিনি বলেন, 'আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি।

সম্পূরক বাজেটও পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।'

এই বক্তব্যের কারণে প্রথমে সামাজিক মাধ্যম, পরে সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। বিএনপির জোট শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ টিপ্পনী কেটে বলেন, তিনি জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চান। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়া হলে সংসার সাজিয়ে দেওয়া হবে।

জামায়াতের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সমকালকে বলেন, মিজানুর রহমানের বক্তব্যটি ছিল অপ্রয়োজনীয়। এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের আসবাব সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা হয়। তিনি এসব আসবাব না পেয়ে থাকলে সংসদের হাউস কমিটিকে জানালেই সমাধান হয়ে যেত। হাউস কমিটিতে জামায়াতের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তাঁকে বললেও হতো। বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বক্তৃতায় বিষয়টি তোলায় মানুষের কাছে এই বার্তা গেল-জামায়াতের এমপিরা ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নিতে চাইছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তা কাজে লাগিয়েছে।

সরাসরি এবং সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে জামায়াত জোটের এমপির সংখ্যা ৯০। তাদের ৮৬ জন এবারই প্রথম সংসদে গেছেন। সংসদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রথম অধিবেশনের আগে এমপিদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ দেয় জামায়াত। বাজেট অধিবেশনের আগেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

জামায়াত জোটের সংসদীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করা দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সমকালকে তিনি বলেন, প্রায় সবাই নতুন এমপি হওয়ায় সংসদীয় রীতিনীতি শিখতে কিছুটা সময় লাগছে।

গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, 'আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই; চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন; ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাইযোদ্ধা'

পরে জানা যায়, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। তাঁর বাবা জীবিত। এ বক্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হয়। এমপি পরে ভুল স্বীকার করে বক্তব্য সংশোধনের জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।

তবে একেক সংবাদ মাধ্যমকে একেক কথা বলেছেন এমপি মুনতাকিম। কোথাও বলেছেন, মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন। কোথাও বলেছেন, বক্তৃতার সময় অসুস্থ ছিলেন। এতে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা আরও বিব্রত হন। মুনতাকিমকে সংসদীয় দলের তরফ থেকে সতর্ক করা হয়।

সংসদীয় দলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য সমকালকে বলেন, 'ভুল বলার পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সময়ও ভুল করে জামায়াতকে আরও সমালোচনায় ফেলেছেন মুনতাকিম। তিনি যদি বলতেন, 'বাবা-দাদা বলতে সবার পূর্বপুরুষকে বুঝিয়েছি'; তাহলেও এত বিতর্ক হতো না। কিন্তু দলের সঙ্গে পরামর্শ না করে একেক জায়গায় একেক কথা বলেছেন। তাতে জামায়াত তাঁর পক্ষও নিতে পারেনি

ইত্তেফাক

‘ব্রাজিলের বিদায়, চোখ এখন আর্জেন্টিনায়’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফুটবল দুনিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করলে একদিকে ব্রাজিল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকের কাছেও একই। ব্রাজিলের বিদায়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের অর্ধেক শেষ। আজ আর্জেন্টিনার পরীক্ষা। বাঁচবে নাকি মরবে কে জানে। আতঙ্ক একেবারেই ঘোরাঘুরি করছে না হলফ করে বলা যায় না। তবে সবার চোখ আর্জেন্টিনার ওপর। মেসির আর্জেন্টিনা সালাহর মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের আলো ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

গতকাল রাতে শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে (২-১) কাঁদছে ব্রাজিল। কাঁদছে ব্রাজিলের কোটি কোটি সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে হালান্ডেরে নরওয়ে ভাইকিং রো উদ্যাপন করছে। হালান্ড ড্রামে আঘাত করছেন। আর মাঠে ঘাসে বসা দলের ফুটবলারদের সঙ্গে গোলপোস্টের পেছনে থাকা নরওয়ের হাজার হাজার দর্শক একসঙ্গে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে রো রো বলে আওয়াজ তুলছেন। অন্যদিকে মাঠে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের কান্না, নেইমার কাঁদছেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্যরা। কোচ আনচেলত্তিও মাঠে নেমে নেইমারদেরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। গ্যালারিতে হলুদ রঙের সমর্থকরাও কাঁদছিলেন। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে সিনিয়র সিটিজেনকেও কাঁদতে দেখা গেছে। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন কেউ। খেলাটা শেষ হওয়ার পরও অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল ব্রাজিলের বিদায়।

পাঁচ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইউরোপের নরওয়ের কাছে এভাবে বিদায় কল্পনাও করা যায় না। এক হালান্ডই জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ডুবিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপ জিতে এসেছিল ব্রাজিল। দুঙ্গা, বেবেতো, রোমারিও, কাফু, রোনাল্ডোরা দেখলেন তাদের ইতিহাস করা ব্রাজিল কতটা অসহায়। পরবর্তী প্রজন্মের নেইমার, ভিনিসিয়ুস, মার্কোনিয়ও, ডানিলো, ক্যাসিমিরো, ডগলাস, কুনহারা ষষ্ঠ ট্রফি দিতে পারেননি।

টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপের দলের কাছে হেরে বিদায় নিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ২০১০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানি, ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়াম, ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া এবং এবার ২০২৬ সালে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতি বারই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল আলাদা। এবার নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল পাঁচ বার খেলে এক বারও জিততে পারেনি। সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার গত পাঁচ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। এবার নরওয়ের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। ৩৬ বছর পর শেষ ষোলোয় উঠতে পারেনি ব্রাজিল। ৯০ ইতালি বিশ্বকাপে এভাবেই ব্রাজিলের বিদায় হয়েছিল।

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ব্রাজিল বার বার কোচ বদল করেছে। ২০০২ সালের পর বর্তমান কোচ আনচেলত্তিসহ এক ডজন কোচ ব্রাজিল দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কেউ একটা ছয় নম্বর ট্রফিটা এনে দিতে পারেননি। বার বার স্বপ্ন ভেঙেছে। কোচ আনচেলত্তি মেনে নিয়েছেন ব্রাজিল দলের নতুন ফুটবলার দরকার।

ব্রাজিল এখন ঘরের পথে। নতুন স্বপ্ন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে। আজ রাতে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে। ব্রাজিলের বিদায় দেখেছেন মেসিরা। মিশরকে নিয়ে খুব ভালোভাবেই কৌশল ডিজাইন করেছেন মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালনি।

৩২-এর নকআউটের ম্যাচে কেপ-ভার্দের বিপক্ষে জিততে গিয়ে ঘাম ছুটে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার। ২-২ ম্যাচটায় আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনা জিতেছে। এটাকে অনেকেই ক্রেডিট দিতে রাজি না। আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টাির বাহাদুরি কোথায়। কেপ-ভার্দের ম্যাচে এক মেসি ছাড়া আর বাকি সবাই হতাশ করেছে। কঠিন ম্যাচে পড়লে কী হয় কে জানে। কেপ-ভার্দের কোনো তারকা নেই। এবার প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসে কেপ-ভার্দের সবাই তারকায় পরিণত হয়েছিলেন। মিশরের বেলায় সেটি হবে না।

মিশর এই ‍নিয়ে দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলছে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে ১৬ দেশই খেলেছিল। তাতে ছিল মিশর। কোনো গ্রুপ পর্যায়ের খেলা তখন ছিল না। সেই অর্থে ৯২ বছর পরে যোগ্যতা অর্জন করে মিশর প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। মিশরের কোচ হোসেম হাসান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে যতটা না ভাবি, তার থেকে অনেক বেশি ভাবি, নিজেদের খেলা নিয়ে। আর্জেন্টিনা যেমন ভালো ছন্দে আছে, আমরাও আছি। ওদের মেসি থাকলে আমাদের আছে সালাহ।’

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘নীতিগত ভুলে আড়াই লাখ কোটি টাকার খেসারত’। খবরে বলা হয়, ২০১২ ও ২০১৪ সাল- আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) লাভ করে। চারপাশের সমুদ্রবক্ষে যখন প্রতিবেশী দুই দেশ দেদার গ্যাস তুলছে, তখন বাংলাদেশের অর্জিত এই বিশাল জলরাশিকে ধরা হয়েছিল দেশের আগামী শতাব্দীর ‘জ্বালানি নিরাপত্তার চাবিকাঠি’।

কিন্তু সমুদ্র বিজয়ের এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে ২০২৬ সালেও গভীর সমুদ্রের সেই গ্যাস ব্লকে একটিও কূপের শিখা জ্বলে ওঠেনি। যখন দেশের শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমদানিকৃত এলএনজির পেছনে ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ে জর্জরিত- তখন প্রশ্ন উঠেছে : বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কেন থমকে রইল এবং এর পেছনে নীতিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা ভয়াবহ?

নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ না করে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা এবং ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে টাকা দেয়া ছিল একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক অপরাধ। ৫০ হাজার কোটি টাকা সঠিক সময়ে অনুসন্ধানে খরচ করলে বাংলাদেশ আজ ছয় লাখ কোটি টাকার গ্যাসের মালিক হতে পারত। এক দশকের অবহেলা ও ভুল নীতির খেসারত দিচ্ছে আজকের দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণ। নীতিগত ভুলে আড়াই লাখ কোটি টাকার খেসারত দিতে হয়েছে দেশকে। আর বিশেষজ্ঞদের মত হলো, আমদানির আত্মঘাতী পথ সম্পূর্ণ পরিহার করে সমুদ্রের নিজস্ব সম্পদ উন্মোচনেই লুকিয়ে আছে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব।

দীর্ঘসূত্রতার এক দশক ও ত্রুটিপূর্ণ পিএসসি

সমুদ্রসীমা জয়ের পর বাংলাদেশ সমুদ্রবক্ষকে ২৬টি ব্লকে (অগভীর সমুদ্রে ১১টি এবং গভীর সমুদ্রে ১৫টি) ভাগ করলেও, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে পার করে দেয় এক দশকেরও বেশি সময়। কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং ভূরাজনৈতিক পরাশক্তিগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

এর চেয়েও বড় আঘাত ছিল আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) জন্য তৈরি ‘উৎপাদন বণ্টন চুক্তি’ বা মডেল পিএসসির জটিলতা। ২০০৮, ২০১২ এবং ২০১৯ সালের পিএসসিতে গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম প্রতি হাজার ঘনফুট সর্বোচ্চ ৭.২৫ ডলার বেঁধে দেয়া হয়েছিল। অথচ একই সময়ে মিয়ানমার বা ভারত আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১০ থেকে ১৪ ডলারের প্রস্তাব দিচ্ছিল। ফলে টোটাল এনার্জি বা কনোকোফিলিপসের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কাজ মাঝপথে রেখেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

পাশাপাশি, পুরো সমুদ্রসীমার তথ্য সংবলিত কোনো ‘ডেটা ব্যাংক’ বা থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে (ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ) না থাকায় বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের ব্লকে বিনিয়োগ করাকে ‘অন্ধকারে কোটি ডলারের জুয়া’ বলে মনে হয়েছে।

আমদানি লবি ও আড়াই লাখ কোটি টাকার খেসারত

বিগত বছরগুলোতে দেশের অভ্যন্তরে বা সমুদ্রে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির দিকেই নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ ছিল বেশি। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দেদার খরচ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় অর্থ।

বণিক বার্তা

‘চীন বাংলাদেশ ভারত যেভাবে নতুন করে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ লিখছে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আরাকান আর্মি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যা মিয়ানমারের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন থেকে তারা এখন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে অগ্রসর একটি রাজনৈতিক-সামরিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে।

তাদের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষা মিয়ানমারের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠনের সক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আরাকান আর্মি। এর পর থেকে কার্যকর আরাকান পিপলস রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট (এপিআরজি) প্রতিষ্ঠা এবং চিন ও কাচিন রাজ্য ছাড়াও মাগওয়ে, সাগাইং, আয়েয়ারওয়াদি ও বাগো অঞ্চলে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরাকান আর্মি আর কেবল একটি বিদ্রোহী সংগঠন নয়; বরং কার্যত একটি সার্বভৌম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আগামী এক দশকে মিয়ানমারের রূপান্তর অবশ্য শুধু আরাকান আর্মিকে ঘিরে আবর্তিত হবে না। এ সময়ে চীন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কীভাবে আরাকান আর্মির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেটা স্পষ্ট হবে। কনফেডারেশন প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন আরাকান আর্মি লালন করছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন বাস্তবতায় সফল হতে পারবে না। এটি নির্ভর করছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সূক্ষ্ম শক্তির ভারসাম্যের ওপর। ফলে এটি আর কেবল মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের সমীকরণ নয়; বরং একটি আঞ্চলিক দাবার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গা সংকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার।

কেবল একটি সামরিক গ্রুপ থেকে আরাকান আর্মির কার্যকর শাসন ব্যবস্থা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের গল্পটি বিরল ঘটনা। ২০২৫ সালের শুরুর দিকেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে যে আরাকান আর্মি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন গড়ে তুলেছে, কর আহরণ এবং নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও পরিচালনা করছে। এ রূপান্তরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো নিজেদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যার মাধ্যমে তারা জান্তা সরকারের কিয়াতনির্ভর আর্থিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছে। এ উদ্যোগ অনেকটা ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির মডেলের প্রতিফলন। তবে আরাকান আর্মিকে আরো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ তাদের আয়ের বড় একটি অংশ এখনো চোরাচালান ও মাদক পাচারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আরাকান আর্মি চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয়ভাবে ‘লাওং পাও’ নামে পরিচিত লটারি চালু করেছে। এ উদ্যোগকে তাদের অর্থনৈতিক কৌশলের এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা বলা যায়। এটি কোনো সাধারণ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণের একটি ব্যবস্থা। রাখাইনের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম ড্রয়ে কিয়াউকতাউ এলাকার এক বাসিন্দা প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫ কোটি কিয়াত পেয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল যথাক্রমে ৩ কোটি ও ২ কোটি কিয়াত। এছাড়া ৫০ লাখ থেকে শুরু করে ৫ লাখ কিয়াত পর্যন্ত আরো কয়েক ডজন পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কারের এ বিপুল অংক থেকে বোঝা যায়, আরাকান আর্মি স্থানীয় অর্থনীতিতে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য তারল্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। লটারির আয় থেকে অর্ধেক অর্থ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করার ঘোষণা দিয়ে আরাকান আর্মি কার্যত নিজেদের কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অর্থায়নের ভিত্তি তৈরি করছে। এ ব্যবস্থা বাইরের সহায়তা কিংবা অবৈধ বাণিজ্যের ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে পারে।

একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র ও পারিবারিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং অপরাধীদের পুরস্কার না দেয়ার হুঁশিয়ারির মাধ্যমে আরাকান আর্মি (এএ) বিচারিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। লটারি-সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ এএর আদালতেই নিষ্পত্তি হবে—এমন ঘোষণাও রাখাইনে তাদের একক আইনি কর্তৃত্বকে সুদৃঢ় করেছে। এত বড় পরিসরের একটি লটারি আয়োজন আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও একটি বার্তা বহন করে—এএ শুধু আর গেরিলা বাহিনী নয়, বৃহৎ পরিসরে জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় সক্ষম একটি পরিণত প্রশাসনিক কাঠামো হয়ে উঠেছে।

এ ধরনের আর্থিক উদ্যোগের পাশাপাশি এপিআরজি স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের নিয়োগ দিচ্ছে। জান্তা সরকারের ওপর নির্ভরতা কমানো, আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নিজেদের একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার জন্য এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ৩ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মূল্যস্ফীতির হার টানা তিন মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সর্বশেষ বিদায়ী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য তাতে বড় কোনো স্বস্তি আসেনি।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ এখনো বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) গতকাল সোমবার দেশের মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে এপ্রিল, মে ও জুন—টানা তিন মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকল।

জুনে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্য খাত। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।

গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব এখনো বাজারে রয়ে গেছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন করছাড়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো বা বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না।

দেশ রূপান্তর

এমপিদের ‘কর্মকান্ডে’ বিব্রত জামায়াত-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রেকর্ড ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এরপর কিছু সংসদ সদস্য ও নেতার স্বজনপ্রীতির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়েছে দলটি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন কয়েকটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে জামায়াত ইসলামী। পাশাপাশি কিছু জায়গায় ‘অতি রঞ্জিত’ করে প্রচারের অভিযোগও করেছে দলটি। এমন অবস্থায় দলের সব এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে জামায়াত ইসলামী। নির্দেশনা গেছে তৃণমূলেও।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) মেয়ের নাম থাকা নিয়ে সমালোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত সহকারীকে বরখাস্ত করেন এমপি। এ বিষয়ে দল থেকে সতর্ক করা হয় এমপিকে। অবশ্য বিষয়টি অগোচরে ঘটেছে দাবি করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আতাউর রহমান।

রংপুর-৬ আসনের এমপি মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণের কাবিখা প্রকল্পে সভাপতি করা হয় তার চাচাতো বোনের স্বামী ইয়াকুব আলীকে। অপর একটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয় ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফকে। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভগ্নিপতি-ভাগনে। এ ঘটনায় এমপি নুরুল আমিনকে সতর্ক করেছে জামায়াত। তবে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত হিসেবেও দেখছেন জামায়াত নেতারা। গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নকাজ করতে গেলে এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়স্বজনের নাম চলে আসবে। কেন না, তারাও সমাজেরই মানুষ।

এদিকে, সরকারি বরাদ্দের সাইকেল নাতিকে দিয়ে পদ হারিয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল জানান, নৈতিক পদস্খলন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাজুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচনার মুখে সাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনকে ফেরত দেওয়া হয় এবং তা অন্য একজন উপকারভোগীকে দেওয়া হয়। গেল ঈদুল আজহায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। উপকারভোগীর তালিকায় আহসান হাবিব নামে এমপির একজন ভাগ্নে এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু ওবাইদার নাম ছিল। আরেক এমপি সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে পর্দা, ওয়াশিং মেশিন ও ওভেন চান। স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ নিয়ে বলেন, বিষয়টি সংসদে না বললে ভালো হতো। তবে এটি বলা এমন কোনো অপরাধ হয়নি। এটি তিনি নিজের জন্য চাননি, সব সংসদ সদস্যদের জন্যই বলেছেন।

এসব ঘটনায় বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা এ নিয়ে বক্তব্য দেন। ঘটনাগুলো নিয়ে সভা-সেমিনার, টিভি টকশো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সব জায়গায় আলোচনা-সমালোচনার খোরাক জোগায়। এর মধ্যে দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েছে জামায়াত। সরকারি সাইকেল নাতিকে দেওয়া উপজেলা আমিরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আর নড়াইলের ঘটনায় এমপির পিএসকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি এমপিকেও সতর্ক করা হয়েছে। পর্দা, ওভেন চাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এমপিকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছে। তবে এটাকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে দেখেনি দলটি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন