বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা-ফাঁড়ি নির্মাণ করছে ভারত

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা-ফাঁড়ি নির্মাণ করছে ভারত

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা পুলিশ রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নতুন থানা, দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং একটি বিদ্যমান পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাবে।
রোববার মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং সংবাদমাধ্যমকে এ প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তিনি বলেন, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা, কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচন্ডি পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হবিবপুর থানার জাজইল এবং বামনগোলা থানার জগদলা এলাকায় দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজবাজার থানার অধীন মহদীপুর পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
অনুপম সিং বলেছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে জেলায় পুলিশের জনবলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ভারতের মালদা জেলা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু পাচার এবং মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশটির সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে সহায়তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটির সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে।
অনুপম সিং জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এবং অনুপ্রবেশ রোধে জেলা পুলিশ বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে হবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকার দীর্ঘ অনাবৃত সীমান্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে একটি নতুন থানা এবং দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় গবাদিপশু পাচার, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে এবং এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন