পশ্চিম থাইল্যান্ডের একটি নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খননকাজ চলাকালীন প্রায় ২,০০০ বছর পুরোনো দুটি সোনার আংটি আবিষ্কৃত হয়েছে। থাই সরকারের ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে ফেতচাবুরি প্রদেশের ‘দোন ইয়াই থং’ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় মানুষের হাড়গোড়ের সাথে এই আংটি দুটি উদ্ধার করা হয়। এ খবর দিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। উদ্ধারকৃত আংটি দুটির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পাওয়া একটি আংটিতে প্রাচীন ভারতীয় লিখন পদ্ধতি ‘ব্রাহ্মী লিপি’ খোদাই করা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, লিপিতে লেখা রয়েছে পুসারখিতাসা যার অর্থ পুষ্যা নক্ষত্র দ্বারা সুরক্ষিত ব্যক্তি। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় পুষ্যা নক্ষত্রকে অত্যন্ত শুভ একটি রাশি বা চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই কঙ্কালের অবশিষ্টাংশের সাথে পাওয়া দ্বিতীয় আংটিটি ছিল সম্পূর্ণ নকশাহীন সাধারণ একটি সোনার আংটি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আংটি দুটির মালিক প্রাচীন ভারতীয় জাতিভেদ প্রথার উচ্চ শ্রেণীর কোনো ব্যবসায়ী ছিলেন।
রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই দোন ইয়াই থং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি চলতি বছরের শুরুর দিকে আবিষ্কৃত হয়, যখন স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ধানক্ষেতে প্রাচীন ব্রোঞ্জের ড্রামের টুকরো খুঁজে পান। এই আবিষ্কারের পরই সেখানে বড় পরিসরে খননকাজ শুরু হয়। স্থানটিকে থাইল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষভাগ বা লৌহ যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ বছর পুরোনো।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখান থেকে আটটি মানুষের কঙ্কাল, ব্রোঞ্জ ও সোনার অলঙ্কার, মৃৎশিল্প এবং অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধার করেছেন। এসব নিদর্শন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি সমাজের কোনো ধনী বা উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আনুষ্ঠানিক সমাধি ছিল। ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই খননকাজ শেষ হবে এবং উদ্ধারকৃত প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
