যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘নাথানস ফেমাস হট ডগ ইটিং কনটেস্টে’ আবারও শিরোপা জিতেছেন কিংবদন্তি প্রতিযোগী জোয়ি চেস্টনাট। ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ খেয়ে তিনি পুরুষ বিভাগে ১৮তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। প্রতিযোগিতাটি নিউইয়র্কের কনি আইল্যান্ডে নাথানস ফেমাস রেস্তোরাঁর মূল শাখার সামনে অনুষ্ঠিত হয়। নারী বিভাগে মিকি সুদো ৩৮ দশমিক ৭৫টি হটডগ খেয়ে রেকর্ড ১২তম বারের মতো শিরোপা জিতেছেন। চেস্টনাট বলেন, ৪ঠা জুলাই এখানে খাওয়া আমার স্বপ্ন।
এখানকার পরিবেশ বিদ্যুতের মতো প্রাণবন্ত। পৃথিবীতে এর চেয়ে ভালো জায়গা নেই। এই জয়ের জন্য তিনি প্রতীকী ‘মাস্টার্ড ইয়েলো বেল্ট’ এবং ১০ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছেন। এটি তার টানা দ্বিতীয় শিরোপা। আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রচারিত এই প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত ২১ বার অংশ নিয়ে ১৮ বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চেস্টনাট। এবার তিনি দ্বিতীয় হওয়া প্যাট্রিক বার্তোলেত্তিকে বড় ব্যবধানে হারান। প্যাট্রিক ৫১টি হটডগ খেতে সক্ষম হন। তবে চেস্টনাট নিজেরই ২০২১ সালের বিশ্বরেকর্ড- ১০ মিনিটে ৭৬টি হটডগ ও বান খাওয়ার কীর্তি ভাঙতে পারেননি। চেস্টনাট জানান, প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রার গরম তার স্বাভাবিক গতিতে খাওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, সাধারণত এত জায়গা খালি থাকে না।
পরে হয়তো ঠাণ্ডা কিছু খাব। সত্যিই কঠিন ছিল। প্রতিযোগিতার আগে আমি নিজেকে বলতে চাইনি যে গরম আমাকে প্রভাবিত করবে। বরং নিজেকে বোঝাতে চেয়েছি যে আমি এটা সামলে নিতে পারব। তিনি আরও বলেন, আমি চাইনি এটা আমাকে বিরক্ত করুক। খুব বেশি জোরও দিইনি। কারণ বেশি চাপ দিলে খাবার গলায় আটকে যেতে পারত। তাই শান্ত থেকে খাওয়া চালিয়ে গেছি।
নারী বিভাগের চ্যাম্পিয়ন মিকি সুদোর নিজের বিশ্বরেকর্ড ৫১টি হটডগ, যা তিনি ২০২১ সালে গড়েছিলেন। নিজের প্রতিযোগিতা শেষে তিনি গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে তার স্বামীকে উৎসাহ দেন। ২০২১ সালে সুদোর স্বামী মাত্র তিন মিনিটের কিছু বেশি সময়ে ৫০টি সিদ্ধ ডিম খেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর সেখানেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সুদো বলেন, আমি নিজেকে বলেছিলাম, পেশির স্মৃতির ওপরই ভরসা করতে হবে। আর দর্শকদের উৎসাহই আজ আমাকে আরেকটি বেল্ট জিততে সাহায্য করেছে।
নাথানস ফেমাস হট ডগ ইটিং কনটেস্টের সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে নিউইয়র্কের কনি আইল্যান্ডে নাথানস ফেমাস রেস্তোরাঁর মূল শাখার সামনে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত প্রতিযোগিতামূলক খাওয়ার আয়োজনগুলোর একটি।
