বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার

সহযোগীদের খবর

বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার’। খবরে বলা হয়, সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণ নিতে চায়। সরকারি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে ‘সভরেন বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। কোন ধরনের বন্ড, কী পরিমাণ অর্থের এবং সুনির্দিষ্ট কোন বাজারে ইস্যু করা হবে–এসব বিষয়ে সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম নিতে চায়। অন্যদিকে, উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর মতো বিকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল ২০২৯ সালের দিকে। তবে আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে বিলম্বসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরেই বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, মুডিস এবং ফিচ প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং করে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর আগে অন্তত দুটি সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে রেটিং করাতে হবে। গত মে মাসে ফিচ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছে। যদিও দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমান ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে অর্থ বিভাগের এক উপস্থাপনায় বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পটভূমি, সম্ভাব্য সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক সুফল বন্ডের কুপন, স্প্রেড, ফিসহ মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। টেকসই অর্থায়নের জন্য এটিই মৌলিক শর্ত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার ছিদ্দিকী বলেন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। তাই আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইএমএফের কিছু উদ্বেগ থাকতে পারে, বিশেষ করে তাদের কাছ থেকে রেয়াতি ঋণ যোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ যদি চীনা মুদ্রায় ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অতীতে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল সুদে বন্ড ইস্যুর জন্য আগে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হবে বিধায় বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময়, মুদ্রা, পরিমাণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সভায় বলেন, প্রচলিত ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ডের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা রেনমিনবিতে ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। প্রথম ইস্যু তুলনামূলক ছোট হওয়া উচিত। পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বন্ড ইস্যু করলে বাজারের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে এবং ঝুঁকিও সীমিত থাকবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখা হয় না। ফলে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘স্প্রেড’ দিতে হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ করলে রেটিং সংস্থাগুলোর কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রথম বন্ডটি ডলারে ইস্যু করাই সমীচীন হবে। কারণ, অন্য মুদ্রার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা এবং ঋণ ধারণক্ষমতা মূল্যায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আগাম বার্তা দিতে সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত রাখারও সুপারিশ করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। হংকংভিত্তিক বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। সভার শেষে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও সুপারিশ দিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

দেশে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর আলোচনা প্রথম জোরালোভাবে শুরু হয় ২০১২ সালের শুরুতে। তবে সে সময় গ্রিসের সার্বভৌম ঋণ সংকট এবং ২০২২ সালে অতিরিক্ত সার্বভৌম ঋণের চাপে শ্রীলঙ্কার ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এ উদ্যোগ থেকে সরে আসে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) লন্ডনের বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রাভিত্তিক ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করে, যা ছিল বেসরকারি খাতের জন্য প্রথম বাংলাদেশি টাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্ড।

বিশেষজ্ঞ মত

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকার যদি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের উৎস কীভাবে আরও বহুমুখী করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুদের হার, বন্ডের শর্ত, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত মুনাফা এবং অর্থায়নের সামগ্রিক ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এমন একসময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণ ঝুঁকির মূল্যায়ন নিম্ন ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে উন্নীত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, দেশটি ব্যাপক হারে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে সেই ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তাই বাংলাদেশকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ডের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এর কাঠামো ও কার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তার ওপর। তাঁর মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারভিত্তিক বন্ড ইস্যু করলে বিনিময় হার ও সুদ পরিশোধের ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অনেক সময় অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই অর্থনীতিবিদের পরামর্শ, বন্ডটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইস্যু করা হলে তা দেশের জন্য বেশি উপকারী হবে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সুদ ও আসল টাকায় পরিশোধ করা গেলে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিও কমবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু করাই হবে অধিক কার্যকর কৌশল।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ ও বিদেশ থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।

প্রথম আলো

‘ক্যাডেট কলেজের আদলে হবে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ক্যাডেট কলেজের আদলে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে আবাসিক এবং তাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সরকারের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। ‘নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে।

দেশে এখন পুরোপুরি আবাসিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। অল্প কিছু পুরোনো স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে অনেক আবাসিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সেগুলোর সংখ্যা কত, সে হিসাব পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করছেন, সরকারিভাবে আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে স্বল্প ও সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে; কিন্তু কোথায় কোথায় এ ধরনের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, সেটির সমীক্ষা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের মতো হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকা এবং জনবহুল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আবাসিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, শিখনঘাটতি কাটিয়ে ওঠা, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জোরালো উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি পর্যায়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সে লক্ষ্যেও কাজ করা হবে।

বেসরকারি খাতের কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাতেও একই ধরনের মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরকারি পর্যায়েই উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।

জমি ৩ একর, ভবন ১০ তলা

মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ৬০০টি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ভবন হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং প্রতিটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। এ খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য মোট ৬০০টি হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটির ব্যয় ১০ কোটি টাকা হিসাবে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ৬০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে পাঁচ বছরে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। এ প্রকল্পের প্রশাসনিক খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, মূলধন ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণসহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

মাউশি বলছে, দেশের সব অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামীণ, অনগ্রসর ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় এখনো সমমানের আধুনিক শিক্ষাসুবিধা পৌঁছায়নি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকল্পের ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা ও বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বিচারের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগও’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেরা-না-ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও আপাতত সরকারের দিক থেকে কোনো ধরনের ছাড় পাচ্ছে না দলটি। শিগ্গিরই রাজনীতিতে দলটির ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ফেরা দূরের কথা, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষকে গুম-খুনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে দলটি। এরই মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য থেকেও তেমনই আভাস মিলেছে। রোববার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দলটি নিষিদ্ধ হবে। এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়ে শনিবার কড়া বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটিকে শিগ্গিরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সংবিধানের ৪৭ আর্টিকেল অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আইসিটি অ্যাক্টে রাজনৈতিক দল-সংগঠনের বিচার করা যাবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেখানে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ সংক্রান্ত আদেশে কিছু সংশোধনী এনে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন উসকানি দিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। জুলাই আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দোসররা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের জন্য অনলাইনে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। তিনি এবং তার দলের সিনিয়র অনেকেই দেশে ঢুকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ আওয়ামী শিবিরের বাইরের লোকজনকে নিঃশেষ করার হুমকি দিচ্ছেন। সেই উসকানি পেয়ে দেশের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা নিষিদ্ধ দলটির অনেকেই কোথাও কোথাও মিছিল বের করার অপচেষ্টা করে। কোথাও হামলাও চালায়। কোনো কোনো এলাকায় দলের বন্ধ কার্যালয় খুলে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। তারা পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ছক আঁকে। তাদের ‘কালচারাল’ দোসররা নানাভাবে জুলাইকে বিতর্কিত করার নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে আনার পাঁয়তারা শুরু করে।

এমন বাস্তবতায় সরকার দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা যায়। এরই অংশ হিসাবে দলটির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট সবাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, চব্বিশে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, গণহত্যার পরও আজ পর্যন্ত সেই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো রকমের অনুশোচনা নেই। তাদের মধ্যে দোষ স্বীকারের ইতিহাসই নেই। তারা উলটো বিদেশে বসে বাংলাদেশে এখন নাকি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করছে! আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে, দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।

কালের কণ্ঠ

সোনা চোরাচালানের ‘গডফাদাররা’ অধরা-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সোনা চোরাচালানের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে। এ কারবারের নেপথ্যের নায়ক বা ‘গডফাদাররা’ সবার নাকের ডগায় একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

কিন্তু সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল ‘কারিগররা’ পর্দার অন্তরালে ঠিকই বহাল তবিয়তে। ধরা পড়ছেন ‘চুনোপুঁটি’র মতো সাধারণ বাহকরা। আটক হয়, মামলা হয় কিন্তু বড় কোনো শাস্তি নেই। ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কোনো একটি চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের নায়করা পেছন থেকে আরো ১০টি চালান ঠিকই ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বিনা বাধায়।

জানা যায়, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। কিন্তু দুর্বল আইনের কারণে একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এমনকি ‘গডফাদাররা’ও সামনে আসেননি। ফলে থামছে না সোনা চোরাচালানের বেপরোয়া সিন্ডিকেট।

মামলার এজাহার, চার্জশিট (অভিযোগপত্র), সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহককে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রধান কারণ হলো—উপযুক্ত আইনে মামলা না করা। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় যেখানে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ মামলা হওয়ার কথা, সেখানে মামলা হচ্ছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এসব মামলায় চোরাচালানকৃত স্বর্ণের উৎস খুঁজে বের করা তথা দেশ-বিদেশে থাকা সম্পৃক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রায় অসম্ভব। গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, এর প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে।

মানি লন্ডারিং আইনের মামলা হলে ‘টাকার উৎস’ খুঁজে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু দুর্বল মামলাই নয়, এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, জব্দ তালিকায় গরমিল, উল্টো সাক্ষী দেওয়া ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশসহ নানা কারণে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বেশির ভাগ আসামিই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। ফলে জড়িতদের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়টি একটি বিশেষায়িত খাত। চোরাচালান প্রতিরোধে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থের মোহে না পড়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি কাজেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সৃষ্টি হলেই স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে। মামলার সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

সাবেক জেলা জজ মো. মঈদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা শুধু ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহকের কাছ থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেন তা খুবই সামান্য। আর এটি দৃশ্যমান যে বাহকরা কোথা থেকে স্বর্ণ এনেছেন—সেই উৎসর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে যান না। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বের দায় তদন্তকারী ও তদারককারী কর্মকর্তার। মামলায় ভালো ফলাফল পেতে হলে তদারককারী কর্মকর্তাদের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। তদারককারী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বর্ণ চোরাচালানের উৎসর দিকে যেতে পারবেন। সাধারণত দীর্ঘদিন পর এসব মামলার চার্জশিট হয়ে থাকে। তখন আরো অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু বহনকারীকে আসামি করে এবং চোরাচালানের উৎসর সন্ধান না করেই চার্জশিট দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেও খুব বেশি ফল হবে না। যদিও এমন নির্দেশনাও খুব একটা দেখা যায় না।

ইত্তেফাক

‘নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি—জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

অর্থাত্ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’ পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানা রকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারও অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’ সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ—এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে তত্কালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিটকে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।’

পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হূদয়বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহিদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।’ তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উত্সর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহিদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গুম নিরোধ আইনের খসড়া চূড়ান্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে একটি সম্পূর্ণ নতুন, স্বাধীন ও স্থায়ী আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গুমকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই স্থায়ী আইনটি করা হচ্ছে। নতুন আইনের খসড়ায় মূলত পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের কিছু বিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন আইনি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান ও উন্নয়ন সহযোগীদের উপস্থিতিতে খসড়া আইনের ওপর তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ নেয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন আইনের খসড়ায় তদন্তকারী সংস্থা, সাজার মেয়াদ এবং বিচারিক পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিয়ে আইনি মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন আইনের খসড়ায় মূলত পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের কিছু বিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন আইনি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া তৈরির সাথে যুক্ত আইন মন্ত্রণালয়ের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন আইনের খসড়ায় মূলত চারটি বিষয়কে গুমের সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে : ১. বলপূর্বক গুম; ২. গুমের কারণে মৃত্যু; ৩. গুমের আলামত নষ্ট করা; ৪. গোপন আটকখানা তৈরি ও পরিচালনা। এ ছাড়াও গুমের অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সায় দেয়া, উসকানি দেয়া কিংবা সহযোগিতা করার বিষয়টিকেও অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, প্রায় মাসখানেক আগে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রথম এই গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতাতেই গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনের খসড়ার ওপর বিস্তারিত ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। আজ কূটনৈতিকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠকের পর, প্রথমবার সিরডাপ মিলনায়তনে যাদের মতামত নেয়া হয়েছিল তাদের সাথেও আবার বসবে সরকার।

আগের পর্যালোচনা বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব খসড়া আইনের খুঁটিনাটি ধারাগুলো তুলে ধরলে বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মতামত দেন।

বিকল্প প্রস্তাব ১ (দণ্ড-বিধি সংশোধন): একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে কেউ কেউ পৃথক আইন না করে প্রচলিত দণ্ডবিধি সংশোধন করেই গুমের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি ছিল, ‘বলপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশন’-এ স্বাক্ষরকারী অনেক দেশই তাদের প্রচলিত ফৌজদারি আইন সংশোধন করে শাস্তি নিশ্চিত করেছে, নতুন করে পৃথক আইন করেনি।

বিকল্প প্রস্তাব ২ (গুচ্ছভিত্তিক অপরাধ আইন): অন্য একটি পক্ষ ‘হেফাজতে নিবারণ আইন’সহ সমপ্রকৃতির কিছু প্রচলিত আইনকে একত্রত করে একটি গুচ্ছভিত্তিক অপরাধ আইন তৈরির প্রস্তাব করেন। তাদের যুক্তি ছিল, যেসব অপরাধে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বা সরকারি বাহিনীর সদস্যদের অভিযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে (যেমন, হেফাজতে মৃত্যু বা বলপূর্বক তুলে নেয়া); সেগুলোকে একই আইনের অধীনে আনা সম্ভব।

তবে সার্বিক মতামতের ভিত্তিতে বৈঠকে গুমকে একটি স্বতন্ত্র ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আলাদা আইন করার বিষয়টিই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার পায়। তবে নতুন এই কাঠামোতে আলাদা কোনো ‘গুম কমিশন’ থাকছে না।

বণিক বার্তা

‘স্কুল ফিডিংয়ে মানহীন খাবার, সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৯৮ নং পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জুলাই অন্য দিনের মতোই শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম।

টিফিনের সময় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় সেদ্ধ ডিম। কিন্তু কিছু সময় পরই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একের পর এক শিশু পেটব্যথায় কাতরাতে শুরু করে। কারো বমি বমি ভাব, কেউ তীব্র অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকে। দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ঘটনাটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের সংকট নয়, বরং সারা দেশে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে প্রাথমিকের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দেয়ার কথা। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, ক্ষুধামুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশে শিশুরা আরো আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসবে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়বে ইতিবাচক প্রভাব। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন জেলা থেকে নিম্নমানের খাবার, কম ওজনের খাদ্যসামগ্রী, সংরক্ষণে অনিয়ম এবং খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনা অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি সরজমিনে কয়েকটি উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। কোথাও বনরুটি শক্ত ও বাসি, কোথাও ডিমের মান নিয়ে প্রশ্ন, আবার কোথাও দুধ বা বিস্কুটের মেয়াদ ও সংরক্ষণ নিয়ে রয়েছে অনিয়ম। অভিভাবকদের অভিযোগ, পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া কর্মসূচি উল্টো নিম্নমানের খাবারের কারণে সন্তানদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের ২৯ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করার কথা। প্রকল্পভুক্ত উপজেলার মধ্যে ১৩৫টি অতি উচ্চ ও উচ্চ দারিদ্র্যপ্রবণ, আর বাকি ১৪টি উপজেলা নিম্ন দারিদ্র্যপ্রবণ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ধাপে ধাপে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রকল্পটি চালু করার সময় সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ কোটি টাকা, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ১৬১ কোটি ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়।

কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, সপ্তাহে পাঁচদিন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেনু রয়েছে। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ১২০ গ্রাম বনরুটি ও ৬০ গ্রাম ওজনের সেদ্ধ ডিম, সোমবার ১২০ গ্রাম বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ, আর বুধবার ৭৫ গ্রাম ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও ১০০ গ্রাম মৌসুমি ফল সরবরাহের কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম খাবার দেয়া হচ্ছে। কোথাও বনরুটির ওজন কম, কোথাও ফল বা বিস্কুটের পরিমাণও নির্ধারিত মানের সঙ্গে মিলছে না। ফলে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত ব্যাহত হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বন্ধ ৪৪ কারখানা যাচ্ছে বেসরকারি মালিকানায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ধ ও লোকসানে থাকা ৪৪টি সরকারি কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই সব কারখানার জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সেখানে নতুন করে বিনিয়োগ করবেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। সরকারের আশা, এতে অর্থনীতি গতিশীল হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে।

সরকারের এই উদ্যোগকে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনে করলেও সঙ্গে সতর্কতার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সঠিক বিনিয়োগকারী নির্বাচন ও চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। বরং তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের উদ্যোগটা অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক নীতিমালার আলোকে যাঁরা মূলত উদ্যোক্তা, তাঁদেরই দেওয়া উচিত, এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

অর্থনীতিতে গতি ফেরানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বন্ধ কলকারখানা চালু করা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই কাজ দ্রুত করতে ও সমন্বয় বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের দুটি বিশেষ সমন্বয় সভাও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এই কমিটির সর্বশেষ সভায় ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, জমির পরিমাণ, অবকাঠামো, বন্দর ও মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের আওতায় থাকা ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত করে একটি এসওই (স্টেট-ওনড এন্টারপ্রাইজ) ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও তৈরি করছে সরকার। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে ১০ হাজার একরের বেশি জমি। সেখানে রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো। ইতিমধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব স্থাবর সম্পদের ব্যবসায়িক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। এরই অংশ হিসেবে ৪৪টি কারখানাকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

উদ্যোক্তারা আগ্রহ প্রকাশ করে পরিকল্পনা দিচ্ছেন। কারখানাগুলো চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সরকার বলছে, নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান কারখানা ও শিল্পভূমি ব্যবহার করে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। এ জন্য যৌথ উদ্যোগ (জেভি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), দীর্ঘমেয়াদি ইজারা কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে।

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, কোনো দেশের সরকার ব্যবসা করে না। সরকার ব্যবসা করলে লাভজনক হয় না। তার প্রমাণ এই কারখানাগুলো। ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীরা, সরকার নীতি সহায়তা দেবে।

পাঁচ করপোরেশনের ৪৪ প্রতিষ্ঠান

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ১২টি, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) ৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব শিল্পকারখানার বেশির ভাগই দেশের প্রধান শিল্প করিডরে অবস্থিত। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো বিদ্যমান রয়েছে কারখানার অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংযোগ, অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং শিল্পাঞ্চলভিত্তিক দক্ষ জনবল।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতই সবচেয়ে উপযুক্ত। সরকারের ভূমিকা ব্যবসায় প্রতিযোগিতা করা নয়; বরং বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।’

যেসব প্রকল্পে বেশি সম্ভাবনা

সরকারি উপস্থাপনায় কয়েকটি প্রকল্পকে বিশেষ সম্ভাবনাময় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পিআইএল) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড কারখানায় ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমির মধ্যে প্রায় ১০ একর অব্যবহৃত রয়েছে। বর্তমানে সেখানে সীমিত পরিসরে গাড়ি সংযোজন হলেও ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ অটোমোবাইল উৎপাদন কারখানা, আধুনিক বডি ও পেইন্ট শপ এবং বৈদ্যুতিক যান (ইভি) সংযোজন লাইন স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (জেমকো) ১২২ দশমিক ৯৬ একর জমির একটি বড় অংশ অব্যবহৃত। সরকার সেখানে আধুনিক পরিবেশবান্ধব ট্রান্সফরমার উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা দেখছে। বর্তমানে দেশে ট্রান্সফরমারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়।

অন্যদিকে টঙ্গীতে অবস্থিত এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের মোট ৯ দশমিক ৬২ একর জমির প্রায় ৬৪ শতাংশই খালি। দ্রুত বাড়তে থাকা বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজারকে সামনে রেখে সেখানে উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বগুড়ার ছয়পুকুরিয়ায় বছরে তিন লাখ টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক গ্রিন স্টিল মিল স্থাপনেরও প্রস্তাব রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটির অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (আইআরআর) ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ পাওয়া গেছে বলে সরকারি উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর

‘আ.লীগের বিচার নিয়ে আইনি অস্পষ্টতা, সংশয়’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না এবং দলটিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার ইস্যুটি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটিকে আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করলে প্রতিক্রিয়া সূদরপ্রসারী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে চলে যেতে পারে দেশ।

অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মত হলো, কোন আইনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে, তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তা রাজনীতির জন্য ভালো বার্তা দেবে না। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে অমোচনীয় সংকট ও ক্ষতের সৃষ্টি হতে। তারা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার হতে পারে। তবে এই কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের বিচার দেশ, গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য শুভ হবে না।

জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করার উদাহরণ টানা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ আর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের অপরাধ এক নয়। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হতে পারে। এ দিকে সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণহত্যার বিচারের কথা বলা হলে এ দেশে গণহত্যার জন্য সবচেয়ে বড় অপরাধ জামায়াতের। তাদের বিচার হয়নি। তারা এখন সংসদে বিরোধী দল। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করার ব্যাপারটিকে সামনে আনছে। কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে তা চিন্তার বিষয়। নাৎসি বাহিনীর উদাহরণ আমরা দিই, কিন্তু নাৎসি বাহিনীর অপরাধ ২০২৪ সালের অপরাধের সঙ্গে যায় না।’

সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কোনো দলকে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা অথবা বিচারের কাঠগড়ায় তোলার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘বিচারের আগে এসব কথা বলার অর্থ বিচারকাজকে প্রভাবিত করা। এ ধরনের কথা ভেবেচিন্তে বলা উচিত। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকে। আওয়ামী লীগের যারা অপরাধ করেছেন তাদের বিচার হতে পারে। কিন্তু আমরা দেখছি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে বিচারের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এমন সব মামলা দেওয়া হয়েছে অথবা আটক-বাণিজ্য করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, কোন আইনে কীভাবে আওয়ামী লীগের বিচার করা যাবে সেটি অস্পষ্ট। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত শুধু শুনেই আসছি আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে। অথচ কোন আইনে, কোন অপরাধে বিচার হবে সেটি স্পষ্ট করে কারও মুখে শুনিনি। নিয়মিত আইনে বিচার হবে, নাকি বিশেষ আইনে হবে সেটিও জানি না। পৃথিবীতে কোনো দলকে বিচারের মুখোমুখি করা ও আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার নজির আমার জানা নেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবারের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলের ও সংগঠনের বিচার করার জন্য সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩২ হাজার পৃষ্ঠার আইনের বই আছে। সব আইন তো মুখস্থ করে রাখাও সম্ভব নয়। যেসব আইনে নিয়মিত মামলা হয় সেগুলো আমি জানি, মনে থাকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যদি বিচার করা হয়, সেটি আরও ভালো করে জানতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েই যাচ্ছে’। খবরে বলা হয়, আস্থার সংকটে বেরিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের টাকা। মুদ্রাবাজারের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পর আবার দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে তহবিল সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে বড় নোটের প্রচলন বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও এখন চাহিদা সামাল দিতে ভল্ট থেকে বড় নোট ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে উল্টো নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ স্ট্র্যাটেজিক লিকুইডিটি রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৬-এর শেষ নাগাদ বাজারে মোট প্রচলিত মুদ্রা বা কারেন্সি ইন সার্কুলেশন (সিআইসি)-এর পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় উঠে গেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্টের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সিআইসির প্রাক্কলন বা সিলিং ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাণিতিক হিসাবকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ মানুষের হাতে বা ব্যক্তিগত সিন্দুকে আটকে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের (২০২৪-২৫ অর্থবছর) সংরক্ষিত পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যায়, মে/জুন ২০২৫-এর শেষ নাগাদ সিআইসি ছিল প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৩ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকায় উঠে যায়। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের মনে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থার সংকট যে কতটা গভীর এটি তারই প্রমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্কলনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার যে কোনো মিল নেই, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথগুলোতে। ব্যাংকিং খাতের দায়িত্বশীল সূত্র ও মাঠপর্যায়ের ব্যাংকাররা নিশ্চিত করেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বড় নোটের অবৈধ মজুত কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগে বাজারে নতুন ৫০০ ও ১০০০ টাকার উচ্চমূল্যের নোটের সরবরাহ একপ্রকার অলিখিতভাবে সংকুচিত বা বন্ধ রেখেছিল। লক্ষ্য ছিল মানুষকে ছোট নোট ব্যবহারে বাধ্য করা। কিন্তু মে ২০২৬ শেষে সিআইসি প্রাক্কলিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক ধাক্কায় ৬৭,০০০ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় ছোট নোট (১০০ বা ২০০ টাকা) দিয়ে এই বিশাল নগদ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ১ লাখ টাকা ১০০ টাকার নোটে দিতে গেলে এটিএম বুথের ক্যাসেটে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন, তা সরবরাহ করা লজিস্টিক্যালি অসম্ভব। ফলে প্রাক্কলনের এই বিশাল ধাক্কা সামাল দিতে এবং এটিএম বুথগুলো সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাধ্য হয়ে ভল্টে আটকে রাখা ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবিযুক্ত ৫০০ ও ১০০০ টাকার উচ্চমূল্যের নোটগুলোই আবার বাজারে সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ কীভাবে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বড় নোট বাতিল করার ঘোষণায় কি ব্যাংকে টাকা আসবে : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সম্প্রতি বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কাছে নগদ টাকা থাকার পরও আস্থা না থাকায় তারা সেটি ব্যাংকে রাখছেন না। ঘরে রাখা ওই অর্থ ব্যাংকে ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে বাতিল করার আগে পুরোনো নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর থেকেই বড় নোট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-বিতর্ক চলছে। একটি পক্ষের মতে, দেশের অনানুষ্ঠানিক বা ছায়া অর্থনীতিতে যে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা, হুন্ডি এবং জাল নোটের চক্র ঘুরপাক খাচ্ছে, তা ভাঙতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা যেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সৎ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পদক্ষেপের ‘টাইমিং’ বা ‘সময় নির্বাচন’ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তৃতীয় প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ‘আস্থার সংকট হোক, রাজনৈতিক অস্থিরতা হোক- বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের বাইরে রয়েছে।

আমাদের নীতিনির্ধারকরা আস্থার পরিবেশ তৈরি করে ওই অর্থ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিয়ে যদি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন- তবে এটি মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করবে। এই ‘শক’ সংকটকালীন অর্থনীতি নিতে পারবে না।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, বাজারে যে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার সিইসি আছে, এর মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হলো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের অর্থ কেবল এই দুটি উচ্চমানের নোটে রয়েছে। নগদ লেনদেননির্ভর এই অর্থনীতিতে একযোগে এ বিপুল পরিমাণ মুদ্রাবাজার থেকে তুলে নিলে পুরো সরবরাহ চেইন ও গ্রামীণ বাণিজ্য রাতারাতি অচল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক নোট বাতিলের প্রস্তাবটিকে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। দেশের অর্থনীতি এমনিতেই লাইফ সাপোর্টে আছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার নোট বাতিলের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলে তা আর্থিক ও মুদ্রাবাজারে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিআইডিএসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬ সালে পার্শ্ববর্তী ভারতে নোট বাতিলের ধাক্কা সামলানোর পেছনে তাদের শক্তিশালী ‘ইউপিআই’ (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস) নেটওয়ার্ক বড় ভূমিকা রেখেছিল, যা আমাদের ক্ষেত্রে এখনো প্রাথমিক স্তরে। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ‘বাংলা কিউআর’ বা ক্যাশলেস সোসাইটির যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, তার ডিজিটাল অবকাঠামো এখনো সর্বস্তরে কার্যকর হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বড় নোট বাতিল করা হলে মুদ্রাবাজার শূন্য হয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত হবে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন