বরিশালে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ব্লাংক চেক ও স্ট্যাম্পে সই, গ্রেপ্তার ২

বরিশালে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ব্লাংক চেক ও স্ট্যাম্পে সই, গ্রেপ্তার ২

ফন্ট সাইজ:

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)কে অণ্ডকোষ চেপে ধরে মারধর এবং জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকায় অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চেকে স্বাক্ষরের ঘটনাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। শনিবার আদালতের নির্দেশে এফআইআর গ্রহণের পর রোববার বিকালে নগরের ‘টপ টেন’ এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার তাকে অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জোর করে ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ৭০ লাখ টাকার একটি চেকে সই করতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের অনেকে লিটুকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন। কিন্তু বরিশাল মহানগর যুবদল তা অস্বীকার করেছে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন জানান, লিটু কখনো কোনো পদে ছিলেন না এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। লিটুর ভাই বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, ঘটনাটি ‘যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেভাবে ঘটেনি’। এ বিষয়ে লিটুর কাছ থেকে সরাসরি বক্তব্য জানার পরামর্শ দেন তিনি। বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ব্যক্তি এ ঘটনায় আদালতে একটি অভিযোগ করেছেন। আদালত কোতোয়ালি মডেল থানাকে সেটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে লিটুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর ভিত্তিতে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাংবাদিকদের আবদুল আজিজ হাওলাদার বলেন, লিটু আগে তাদের আবাসন কোম্পানির ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। ২০২৩ সালে লিটুর শেয়ারের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সব আর্থিক পাওনা চুকিয়ে ফেলা হয়। ওই সময় তাদের মধ্যে আর কোনো দেনা-পাওনা নেই মর্মে লিখিত ঘোষণাপত্রও দেয়া হয়। তিনি জানান, সবকিছু মিটিয়ে ফেলার পরও গত কয়েক মাস ধরে লিটু তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করছিলেন। কিন্তু হিসাবনিকাশ মিটে যাওয়ায় তিনি এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এ জন্য বৃহস্পতিবার তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়। আবদুল আজিজ হাওলাদার জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা চেক ভাঙাতে ব্যর্থ হন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অফিসের ভেতরে আবদুল আজিজের ওপর চড়াও হন। একজন তাকে আটকে রাখেন। এ সময় তারা কক্ষে থাকা অন্য কর্মীদের বের হয়ে যেতে বলেন। এমনকি ওই কোম্পানির এক কর্মী বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ফুটেজে আবদুল আজিজকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং তার সামনে স্ট্যাম্প ও চেক রেখে তাতে জোর করে সই নিতে দেখা যায়। এদিকে পুলিশ প্রশাসন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

Alam

১০ দিন আগে

সে দলীয় পরিচয়ের সাহসে এমন জঘন্য কাজ করেছে। গ্রেফতারের পর তার সাথে পুলিশের যে সখ্যতা দেখলাম, এতে তার কিছু হবে বলে বিশ্বাস হয়না ।

মোঃ আবুল বাসার

১০ দিন আগে

দেশটা যাচ্ছে কোথায়? দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেন অন্যদের শিক্ষা হয়।

MD.Hafiz uddin

১০ দিন আগে

How notorious litu & gong ! Their political party must should be rectified.

মন্তব্য করুন