অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিশে এ নির্দেশ দেয়া হয়। নোটিশটি অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশক্রমে জারি করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়া চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন- মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন), মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মুহাম্মদ মাসুদ রানা ও মো. আশিকুজ্জামান (নজরুল)।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মানবজমিনকে বলেন, অফিসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, রোববার বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ওই চার কর্মকর্তা তার অফিস কক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় বিচারপ্রার্থী ও কার্যালয়ের অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের সামনেই তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অসংযত আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের কথিত কর্মকাণ্ড কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ গুরুতর অসদাচরণের পাশাপাশি সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির শামিল। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আইন দপ্তরে এমন ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় আইনজীবী মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) মানবজমিনকে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ওখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয় আমাদেরকে একজন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে ডেকে ছিলেন। আমরা তার কার্যালয়ে দেখা করার জন্য যাই। তিনি আমাদের কাছে কিছু বিষয়ে জানতে চান। আমরা তাকে জানাই। পরে আমাদের চারজনের পক্ষে ডিএজি মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু) কোর্টে আমাদের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন। এরপর আমরা চলে আসি।
