আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’র যৌথ উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে এক সম্মলেনে তিনি একথা বলেন। মঞ্চের ব্যানারে লেখা আছে, জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬। এই সম্মেলনের মূল মন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারা দাবি করেছেন। তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে, সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সংবিধানের ৪৭ আর্টিকেল অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে রাজনৈতিক দলের সংগঠনের বিচার করা যাবে। সুতরাং অপেক্ষা করুন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজক তাদের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো, এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ইতিহাস কিন্তু তাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতো, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি গিয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের উৎখাত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মহান চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করবো, স্মৃতিকে ধারণ করবো। অনাগতকালে ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যেন দেখে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের পতন কীভাবে হয়েছিল? ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।

তিনি বলেন, কিছু পর্দার আড়ালের কথা আজকে অবমুক্ত করতে চাই। আমি ও আমার নেতা তারেক রহমান দু’জনেই আমরা নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কি মহিমা যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো একটা উত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দার অন্তরালের কথা। কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি। ২৪টা ঘণ্টা কো-অর্ডিনেশন করে আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে অর্গানাইজ করে, এই জুলাইযোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে, এই আন্দোলনকে একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসেছি। তিন তারিখ, চার তারিখে আমরা যখন নৈতিক সমর্থন প্রদান করি, তারপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটা আন্দোলন ছিল, সেখানে সমর্থন দিয়ে তারপর থেকে যেদিন আমরা ১৬ই জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দফা এক দাবি এক স্বৈরাচারের পদত্যাগ। অন্য কোনোভাবে সমস্যার সমাধান হবে না। বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে যারা জুলাইযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই।

আমাদের দাবি বৈষম্যহীন এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি, কোটা বৈষম্য দূর করতে হবেÑ সেটাই ছিল তাদের বক্তব্য। আমরা জানি, স্বৈরাচারকে গদিতে রেখে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদের আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন