হামে আক্রান্ত শিশু মরিয়ম দিশাহারা বাবা

হামে আক্রান্ত শিশু মরিয়ম দিশাহারা বাবা

ফন্ট সাইজ:

মরিয়ম আক্তার। বয়স মাত্র ৩৮ দিন। বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে দুনিয়ায় আসে মরিয়ম। এখন বাঁচার জন্য হামের সঙ্গে লড়াই করছে শিশুটি। তাকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন বাবা-মা। এরইমধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন পাঁচটি হাসপাতালে। একদিকে সন্তানকে সুস্থ করতে দিনরাত এক করে ফেলছেন মা জেসমিন। অন্যদিকে সন্তানের চিকিৎসা খরচ মেটাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রিকশাচালক বাবা ইয়াসির। নিজের জমানো সবকিছু খরচ করেছেন। কাঁধে ঋণের বোঝা। দিন দিন বাড়ছে এ বোঝা। তবুও মেয়ের মুখে দেখতে চান একটুখানি হাসি। কিন্তু প্রতিদিনের চিকিৎসা খরচ আকাশছোঁয়া। যা মেটাতে দিশাহারা বাবা। প্রতিদিন ওষুধ, ইনজেকশন আর টেস্ট করতেই চলে যায় ৪-৫ হাজার টাকা। ধার করা ছাড়া উপায় থাকে না ইয়াসিরের। চিকিৎসার বাইরে হাসপাতালে থাকায় স্ত্রী ও মায়ের খাওয়া-দাওয়ার খরচে চলে যায় অনেক টাকা। এ অবস্থায় সন্তানের পাশে থাকাই কঠিন হয়েছে এ যুবকের। শুক্রবার সরজমিন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এ চিত্র দেখা যায়।

সুখেই ছিলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জেসমিন ও ইয়াসির দম্পতি। নিজ এলাকায় বাবা-মাকে নিয়ে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন ইয়াসির। গত ২৫শে মে কন্যাসন্তান জন্মের পর আনন্দে আত্মহারা বাবা-মা। কিন্তু তা বেশিক্ষণ থাকেনি। জন্মের এক সপ্তাহ পরই কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয় ছোট্ট শিশুটি। এরপর ভর্তি করান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। রাখা হয় সিসিইউতে। সেখানে পাঁচদিন চিকিৎসা চলে। মেয়েকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরেন ইয়াসির। খরচ হয়ে যায় ২৫ হাজার টাকা। কয়েকদিন না যেতেই ফের অসুস্থ মরিয়ম। এবার হামের হানা। কিশোরগঞ্জে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে জানানো হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে হবে ঢাকায়। নিয়ে আসেন মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলে সাতদিন। আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ। অবস্থার উন্নতি না হলে নিয়ে আসেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে এসে হাম ইউনিটে সিট পাননি তারা। পরে নিয়ে যান মিরপুরের একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে। সেখানে তিনদিনেই খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। চিকিৎসা খরচ মেটাতে না পেরে নিয়ে আসেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে। এখানেও পাঁচদিন হয়ে গেছে তাদের।

সরজমিন দেখা যায়, ২৯ নম্বর বেডে মেয়েকে নিয়ে বসে আছেন জেসমিনের শাশুড়ি। পাশেই নিশ্চুপ বসে আছেন জেসমিন। ১৪-১৫ দিন ধরে ঘুম নেই। ২-১ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ হয়। এ সময় জেসমিন মানবজমিনকে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী রিকশা চালায়। সম্পত্তি বলতে শুধু বাড়িভিটা। আর কিছুই নাই আমাদের। মেয়েটার জন্মের পর থেকে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হাসপাতালের খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে গেছে। কীভাবে আইসিইউ’র খরচ মেটাবো আমরা? তিনি বলেন, চারটি হাসপাতাল বদলেছি। এখন পর্যন্ত লাখ টাকার উপরে খরচ হয়ে গেছে। পুরো টাকাটাই ধার করা। এখনো প্রতিনিয়ত খরচ হচ্ছে। একটা ইনজেকশনের দাম ২-৩ হাজার টাকা। ধার করতে করতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। সামনে কোথায় টাকা পাবো, তাও জানি না। এ সময় মুঠোফোনে ইয়াসির বলেন, দিনে ১৪-১৫ ঘণ্টা করে রিকশা চালাচ্ছি। চিকিৎসার খরচটা ধার-দেনা করেই জোগাড় করছি। কিন্তু এর বাইরেও অনেক টাকা খরচ লাগে। রিকশা না চালালে আমার মা ও স্ত্রীকে না খেয়ে থাকতে হবে। এই টাকার জোগান দিতে সন্তানের মুখটাও দেখতে পারছি না। শুধু চাই আমার সন্তান সুস্থ হোক।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন