২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে মেক্সিকো সিটির উচ্চতা ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এবার যুক্ত হয়েছে এক ভিন্ন প্রসঙ্গ। তাহলো ভায়াগ্রা। বৃটিশ সংবাদপত্র দ্য সান জানিয়েছে, ভায়াগ্রার সক্রিয় উপাদান সিলডেনাফিল বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থার (ডব্লিউএডিএ বা ওয়াডা) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় নেই। এজন্য প্রয়োজনে ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা এটি বৈধভাবে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়াডার ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ পদার্থ ও পদ্ধতির তালিকা ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর। এই তালিকায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কোন কোন পদার্থ ও পদ্ধতি নিষিদ্ধ, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইংল্যান্ড দলের মেডিকেল স্টাফ মনে করেন যে, মেক্সিকো সিটির উচ্চতার প্রভাব মোকাবিলায় সিলডেনাফিল ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে, তাহলে ডোপিং বিধি লঙ্ঘন না করেই সেটি ব্যবহার করা সম্ভব। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা বাস্তবে ভায়াগ্রা গ্রহণ করবেন- এমন কোনো প্রমাণ বা তথ্য নেই।
কেন ভায়াগ্রা নিয়ে আলোচনা?
এই আলোচনার মূল কারণ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। এত উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে যেসব ফুটবলার এ ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত নন, তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হতে পারে। পুনরুদ্ধারে বেশি সময় লাগতে পারে এবং ম্যাচের শেষ দিকে শক্তি কমে যেতে পারে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এমন পরিবেশে সফরকারী দলগুলোর শারীরিক সক্ষমতা বিশেষ করে বারবার স্প্রিন্ট দেয়া এবং উচ্চগতি খেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
উচ্চতায় ভায়াগ্রা কীভাবে কাজ করতে পারে? ভায়াগ্রার সক্রিয় উপাদান সিলডেনাফিল ফুসফুসের রক্তনালিগুলো প্রসারিত করতে এবং পালমোনারি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ ভূমিতে শারীরিক সক্ষমতার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অতীতে কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত করার সুযোগ নেই। দ্য সানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে ৪ হাজার মিটারের কম উচ্চতায় সিলডেনাফিলের উপকারিতা খুবই সীমিত হতে পারে। আর মেক্সিকো সিটির উচ্চতা সেই সীমার অনেক নিচে।
২০২৬ সালে ওয়াডার নিয়মে ভায়াগ্রা কি নিষিদ্ধ?
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সিলডেনাফিল ওয়াডার ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ তালিকায় নেই। অর্থাৎ, ডোপিংবিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ ওষুধ নয়। তবে যেকোনো ওষুধের মতোই এটি দলের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থার নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াডা জানিয়েছে, তাদের নিষিদ্ধ তালিকায় এমন পদার্থ ও পদ্ধতির উল্লেখ থাকে, যেগুলো প্রতিযোগিতাকালীন, প্রতিযোগিতার বাইরে অথবা নির্দিষ্ট কিছু খেলায় নিষিদ্ধ।
ভায়াগ্রা বিতর্কের মূল তথ্য
ওষুধ
ভায়াগ্রা সক্রিয় উপাদান: সিলডেনাফিল প্রসঙ্গ: মেক্সিকো সিটির উচ্চতা
ম্যাচ: মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড
ভেন্যু: আজতেকা স্টেডিয়াম, মেক্সিকো সিটি
উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২০০ মিটারের বেশি
ডোপিং অবস্থা: ওয়াডার ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ তালিকায় নেই
ব্যবহার নিশ্চিত?: না। ইংল্যান্ড এটি ব্যবহার করবে- এমন কোনো প্রমাণ নেই।
দ্য সান কী লিখেছে?
প্রতিবেদনটি লিখেছেন দ্য সানের ক্রীড়া সাংবাদিক চার্লি গর্ডন। প্রতিবেদনের শিরোনাম- ‘ইংল্যান্ড স্টারস উড বি অ্যালাউড টু ইউজ ভায়াগ্রা টু হেলপ দেম রাইজ টু ওয়ার্ল্ডকাপ অলটিটিউড লেভেলস অ্যামিড মেক্সিকো ফিয়ারস’। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের তারকারা বিশ্বকাপে মেক্সিকোর উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভায়াগ্রা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিবেদনে কোথাও বলা হয়নি যে, ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, বর্তমান ওয়াডা বিধিমালা অনুযায়ী দলের চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সিলডেনাফিল ব্যবহার করা সম্ভব এবং এতে ডোপিং আইন ভঙ্গ হবে না। এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্য সান একটি বৃটিশ ট্যাবলয়েড, যা জনমনে আলোচনার জন্ম দিতে প্রায়ই আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ শিরোনাম ব্যবহার করে।
আজতেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা কি মেক্সিকোর বড় সুবিধা?
মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় সুবিধা কোনো ওষুধ নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মানিয়ে নেয়া। মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা আজতেকা স্টেডিয়ামের পরিবেশে অভ্যস্ত। সেখানে বলের গতি ও আচরণ কিছুটা ভিন্ন হয়। দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর চাপ বেশি অনুভূত হয় এবং প্রতিটি স্প্রিন্টের পর পুনরুদ্ধার করতে সফরকারী দলের খেলোয়াড়দের বেশি কষ্ট হয়। বিশেষ করে যারা ম্যাচের অল্প কিছুদিন আগে সেখানে পৌঁছায়, তাদের জন্য এই উচ্চতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইংল্যান্ড অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে। তবে ম্যাচটি তাদের জন্য শারীরিক, কৌশলগত এবং মানসিক- সবদিক থেকেই কঠিন পরীক্ষার হবে।
অন্যদিকে, মেক্সিকো নিজেদের মাঠের দর্শকদের সমর্থন এবং উচ্চতার সুবিধা নিয়ে মাঠে নামবে। উচ্চতা কোনো দলের জয় নিশ্চিত করে না। কিন্তু প্রতিপক্ষের জন্য প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি প্রেসিং এবং ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটকে অনেক বেশি কঠিন করে তুলতে পারে।
