নিউইয়র্কের মসজিদে জুমার খুতবা চলাকালীন এক আগ্নেয়াস্ত্রধারী যুবকের প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। তবে উপস্থিত মুসল্লিদের তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাশিংয়ে অবস্থিত ‘মুসলিম সেন্টার অফ নিউইয়র্ক’-এ জুমার নামাজের খুতবা চলাকালীন এক যুবক মাস্ক পরিহিত অবস্থায় মসজিদের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সে তার পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করার চেষ্টা করলে বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে উপস্থিত মুসল্লিদের। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সাহসী কয়েকজন মুসল্লি সাথে সাথে ওই যুবককে জাপটে ধরেন এবং তাকে নিরস্ত্র করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদটিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আতঙ্কের জেরে মসজিদের নারী সেকশনের বাতি নিভিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজন ওই যুবককে আটক করে হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে পুলিশের তল্লাশিতে ওই যুবকের কাছে থাকা অস্ত্রটিকে একটি ‘বিবি গান’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এটি প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্র না হলেও জনসমাগমপূর্ণ একটি উপাসনালয়ে এমন অস্ত্রসদৃশ বস্তু নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত মুসল্লিদের সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় সময় রাত ১১টায় নিউ ইয়র্ক সিনেটর চ্যাক শুমার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান কুইন্সের মুসলিম সেন্টারে উপাসনালয়ের ভেতরে সহিংসতার আরও একটি সম্ভাব্য ঘটনা সম্পর্কে খুবই মর্মাহত। তবে কোনো বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই তাকে প্রতিহত করায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন বলেও জানান। তিনি বলেন নিউ ইয়র্কে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
