কি অবিশ্বাস্য, অসাধারণ ম্যাচই না দেখলো গোটা বিশ্ব । রাউন্ড অফ ৩২ এই ম্যাচে কখনো গোল করে এগিয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা । পরক্ষণেই সেই গোল শোধ দিয়ে দিচ্ছিলো কেপ ভার্দে । মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বার বার মেসির সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করছিলেন এই নীল হাঙর। দুটি ফ্রি-কিকও আটকে দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা দলটির। শেষ পর্যন্ত দম বন্ধ করা এই ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপে পথচলা থামে নবাগত কেপ ভার্দের। ম্যাচ হারলেও শেষ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে অসাধারণ এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে আফ্রিকান দেশটি। বিশ্ব মঞ্চে অভিষেকটা স্মরণীয় করে বিদায় নিচ্ছে ভোজিনিয়া বাহিনী।
এই ম্যাচেও গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ঘাবড়েও যায়নি। বারবার তারা আর্জেন্টিনার লিড কেড়ে নিয়ে ম্যাচটাকে নিয়ে আসে অতিরিক্ত সময়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটতে দেয়নি লিওনেল স্কালোনির শীষ্যরা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যায় শেষ ষোলতে। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মিশর।
এদিন ম্যাচের ২৮তম মিনিটে আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দেন মেসি। তার উদ্দেশে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।
৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।
এরপর আবারও লিডে ফিরতে মরিয়া ছিলেন মেসি-আলভারেজরা। কিন্তু বারবার তাদের হতাশ করেছেন ভোজিনিয়া এবং কেপ ভার্দে ডিফেন্ডাররা। ৬৩ মিনিটে গোলরক্ষক একাই ছিলেন, তবে মেসিকে ঠেকাতে এগিয়ে এসে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভোজিনিয়া শরীর এলিয়ে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। এরপর একরাশ হতাশা উপহার দেন মিনিট দশেকের মাথায়।
আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক। ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন।
অবশ্য এর আগপর্যন্ত হালে পানি ছিল না আর্জেন্টিনার। তাদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে কেপ ভার্দের রক্ষণে। মেসির দুটি ফ্রি-কিক এবং একটি ওয়ান-অন-ওয়ান আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। তার বীরত্বেই ম্যাচ ৯০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিটে গিয়ে গড়ায়। সেখানে ৩-২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে উঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
