প্যারাগুয়ের প্রতিশোধ নাকি ফ্রান্সের আধিপত্য

প্যারাগুয়ের প্রতিশোধ নাকি ফ্রান্সের আধিপত্য

ফন্ট সাইজ:

২৮ বছর কেটে গেছে। কিন্তু দুঃস্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন কার্লোস পারেদেস। ফ্রান্সের বিপক্ষে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলা প্রতিটি খেলোয়াড়ের নাম মনে করতে পারেন তিনি। মনে করতে পারেন, লরাঁ বঁ্লা’র সেই হৃদয় ভাঙা গোলের মুহূর্তটিও। অতিরিক্ত সময়ে বঁ্লা’র করা ওই গোল্ডেন গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল প্যারাগুয়েকে। দীর্ঘ সময় পর শেষ ষোলোর আরেকটি লড়াইয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় রাত ৩টায় শুরু হবে খেলা। ওই ক্ষতে কি এবার প্রলেপ দিতে পারবেন পারেদেসের উত্তরসূরিরা? বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে থামানোর মতো কোনো দলই যেন নেই। কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মুখোমুখি পাঁচ দেখায় তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। ড্র হয়েছে বাকি দুটি।

এর মধ্যে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ৭-৩ গোলের জয়ের রেকর্ডও রয়েছে। সাবেক ফরাসি তারকা ক্রিস্টোফ দুগারি মনে করেন, প্যারাগুয়েকে স্রেফ উড়িয়ে দেবে এমবাপ্পে অ্যান্ডং কোং। তিনি বলেন, ‘প্যারাগুয়ে লজ্জায় পড়তে যাচ্ছে। তারা ডিফেন্ড করবে। সামান্য কিছু আক্রমণ দেখাবে। কিন্তু এসব যথেষ্ট নয়।’ তবে পা মাটিতেই রাখছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ সামনে রেখে তিনি বলেছেন, ‘ওরা ভাগ্যে জেরে নকআউটে আসেনি!’ প্যারাগুয়েকে সমীহ জানাতেই হবে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে এসেছে গোস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা। দেশম মনে করেন ‘দক্ষিণ আমেরিকান ডিএনএ’র কারণে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা ওয়ান-ওয়ান ডুয়েলে শক্তিশালী। দেশম বলেন, ‘প্যারাগুয়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে আমরা সময় নেব।’ ফরাসি উইঙ্গার ব্রাডলি বারকোলাও মনে করেন ‘রক্ষণাত্মক’ প্যারাগুইয়ানদের বিপক্ষে লড়াইটা জমজমাটই হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওরা অনেক বেশি রক্ষণাত্মক। কিন্তু তারা ভালো ফুটবলও খেলতে পারে। জার্মানির বিপক্ষে সেটাই আমরা দেখেছি। ওরা ম্যাচটি জিতেছে, দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং পরের রাউন্ডে উঠেছে। কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ওদের বিপক্ষে ম্যাচটা তাই দারুণ হবে।’ প্যারাগুয়ের ‘লো-ব্লক’ ডিফেন্স ভাঙতে লিগ ওয়ানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করেন বারকোলা। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা বলেন, ‘আমরা জানি, এমন রক্ষণ ভাঙা কঠিন। তবে লিগ ওয়ানে নিয়মিতই এমন সব দলের বিপক্ষে খেলি, যারা নিচে নেমে রক্ষণ সামলায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে।’

বারকোলা আরও বলেন, ‘আমাদের বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে। কখনো একটু নিচে নেমে এসে পায়ে বল নিতে হবে। সেখান থেকে আবার আক্রমণ গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি তাহলে সবকিছুই ঠিকঠাক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

জার্মানিকে হারানোর পর থেকেই প্যারাগুয়ে জুড়ে উৎসব উৎসব আবহ। দলের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন মুহূর্তটা খুব উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল যখন ভালো খেলে, প্যারাগুইয়ানরা তাদের সমস্যা ভুলে যান। তারা তাদের ঋণ ভুলে যান। সবকিছুই ভুলে যান। ব্যাপারটা সত্যিই অসাধারণ। আমি হয়তো জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আর না-ও পেতে পারি।’

তবে প্যারাগুইয়ানদের পার্টি একাই ভেস্তে দিতে পারেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরই মধ্যে করে ফেলেছেন ৬ গোল। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৮ গোল। শেষ ৩২-এ সুইডেনের বিপক্ষে দু’বার জালে বল পাঠিয়েছেন। অভিষেকের পর একক খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোল এমবাপ্পেরই (১০)। তার চেয়ে বেশি গোল পেয়েছে কেবল দুটি দল- আর্জেন্টিনা (১৩) ও ক্রোয়েশিয়া (১১)। এমবাপ্পের সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দেজিরে দুয়ে মিলে গড়ে তুলেছেন এক বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। এদের সামলে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ হবে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারদের। জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে ‘হিরো’ বনে যান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরলান্ডো হিল। নিঃসন্দেহে আরেকটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। কোচ গোস্তাভো আলফারো হয়তো জার্মানি ম্যাচের একাদশটাই আজ মাঠে নামাবেন। তবে মাঝমাঠে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। দামিয়ান বোবাদিয়ার জায়গা নেবেন দিয়েগো গোমেজ। অন্যদিকে, ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লে’কিপ জানিয়েছে, ফ্রান্স সম্ভবত গত ম্যাচের একাদশ নিয়েই খেলতে নামবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন