বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মাঠে নামার আগেই এক অন্যরকম মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে নামতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে শেষ ১৬-র ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে থ্রি লায়নরা। তবে টমাস টুখেলের মূল দুশ্চিন্তা এখন মেক্সিকান সমর্থকদের অতি-উৎসাহী হুংকার। একইসঙ্গে তাদের ভাবাচ্ছে মেক্সিকো সিটির মাত্রাতিরিক্ত উচ্চতা বা অল্টিটিউড। মেক্সিকানরা যাতে খেলোয়াড়দের রাতের ঘুম হারাম করতে না পারে, সেজন্য বিশেষ গোপন ডেরা বানিয়েছে ইংল্যান্ড। একইসঙ্গে তারা প্রযুক্তির সাহায্যও নিচ্ছে। এর আগের রাউন্ডে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ছিল ইকুয়েডর। ম্যাচের আগের রাতে তাদের হোটেলের বাইরে মেক্সিকান সমর্থকেরা ব্যাপক হট্টগোল জুড়ে দেয়। তারা লাউডস্পিকার, হর্ন এবং মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ এমনকি আতশবাজিও ব্যবহার করে। এতে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের সারা রাতের ঘুম নষ্ট হয়।
তারা পরে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও জমা দেয়। ইংল্যান্ড সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চায় না। তাই মেক্সিকো সিটিতে থ্রি লায়নরা কোন হোটেলে উঠছে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। আর তাই ফুটবলার ও স্টাফদের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ কান-ঢাকা ‘স্লিপ ব্যান্ড’ ও ইয়ার প্লাগ। সঙ্গে থাকছে সাদা শব্দের বিশেষ অডিও মেশিন (হোয়াইট নয়েজ মেকার) এবং প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ। তবে মেক্সিকানদের এই হট্টগোল পরিকল্পনার চেয়েও বড় বাধা মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই শহরটি প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এখানকার বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশ কম, যা খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো দল সুবিধাই পাচ্ছে। তারা তাদের আগের চারটি ম্যাচও এখানেই খেলেছে। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল অকপটে স্বীকার করেছেন, এই কন্ডিশনে তার দল বড় ধরনের অসুবিধায় পড়বে। তিনি বলেন, ‘উচ্চতার এই বিষয়টা আমাদের জন্য মস্তবড় একটা অসুবিধা তৈরি করবে। আমাদের শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। মাত্র চারদিনের মধ্যে এটা শারীরিকভাবে একদম অসম্ভব।’ তবে প্রতিকূলতা মেনে নিয়েই লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। টুখেল আরও বলেন, ‘মেক্সিকো এখানে বিশাল একটা হোম অ্যাডভান্টেজ পাবে, সেটা আমরা আগেই জানতাম। এর মাঝেই আরও অনেক বাধা আসতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুত।’
