‘অগ্নিকুণ্ডে’ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ

‘অগ্নিকুণ্ডে’ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু রাত ৩টায়। নকআউটের এ ম্যাচটি আলোচনায় এসেছে অন্য কারণে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উত্তপ্ত ও বিপদজ্জনক ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মাঠের ফুটবলার থেকে শুরু করে গ্যালারির হাজার হাজার দর্শকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (এনডব্লিউএস) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার যৌথ প্রভাবে শনিবার হিট ইনডেক্স ৩৭.৭ থেকে ৪৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এর আগে নিউ জার্সিতে সুইডেন-ফ্রান্স ম্যাচে ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ফরাসি খেলোয়াড়রা মাঠে পানি ছিটানোর যন্ত্র দিয়ে শরীর ঠান্ডা করে।
বর্তমানে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাসের গতিবেগের সম্মিলিত হিসাব ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে ম্যাচ স্থগিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই নীতিকে ‘অপ্রতুল’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। কানেকটিকাট ইউনিভার্সিটির কোরি স্ট্রিংগার ইনস্টিটিউটের সিইও ডগলাস কাসা বলেন, ‘৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এতটাই বিপজ্জনক যে, খোদ মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই তাপমাত্রা হলে ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ জারি করে সব ধরনের ট্রেনিং বাতিল করা হয়।’ খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ফিফপ্রো এবং আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন এরই মধ্যে দাবি জানিয়েছে, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা হলেই ম্যাচ পিছিয়ে দিতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির (ইউসিএলএ) হিট ল্যাবের পরিচালক ভরত ভেঙ্কট বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে ভারী ব্যায়াম বা খেলাধুলা করলে শরীর নিজে থেকে ঠান্ডা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে দেখা দিতে পারে চরম ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান এবং মারাত্মক ডিহাইড্রেশন।

সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, অ্যাথলেটদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ এই ‘হিট স্ট্রোক’। এই অসহনীয় গরমের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে সরাসরি দায়ী করেছে বিশ্ব আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)। জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা বার্কলে আর্থ জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন শেষবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তার চেয়ে বর্তমান বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেড়ে গেছে। এই গরমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দলগুলো বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ব্রাজিল দলের স্পোর্টস সায়েন্টিস্ট গুইলহার্ম পাসোস জানান, ‘খেলোয়াড়দের তাপের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য হট বাথ ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে খেলোয়াড়রা সাধারণত মাঠে বেশি দৌড়াদৌড়ি না করে তাদের টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল নিখুঁত পাসের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।’ ঝুঁকি শুধু মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের নয়। গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার দর্শকও একই বিপদে। বিশেষত যারা অ্যালকোহল পান করে দীর্ঘ সময় খেলা দেখেন, এই গরমে তাদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজক শহর ও স্টেডিয়ামগুলোতে ছায়ার ব্যবস্থা, ওয়াটার স্টেশন এবং বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন