বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচালো সুইজারল্যান্ড। আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৮৮ বছরের অপেক্ষার ফুরালো তারা। বিশ্বকাপের নকআউটে সুইসদের যন্ত্রণা ঘুচালেন দিলেন ব্রিল এম্বোলো ও দান এনদোয়েরা। সবশেষ ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জিতেছিল সুইজারল্যান্ড। সেবার জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল তারা। এরপর টানা সাত নকআউট ম্যাচে জয় দেখেনি তারা। সেই আধার কাটিয়ে আলোয় ফিরলো সুইসরা। ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে সুইসদের শেষ ষোলোয় উঠার পথে রচিত হলো একের পর এক ইতিহাস। আলজেরিয়াকে বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় পেল সুইজারল্যান্ড। এর আগে কোনো বিশ্বকাপের এক আসরে তিনটি ম্যাচ জেতার কীর্তি গড়তে পারেননি তারা। এবারের বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশ পর্যন্ত আট গোল করার বিপরীতে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে সুইজারল্যান্ড।
যেটি তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স। গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানোর পর সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন তার গোপন অস্ত্রের কথা ফাঁস করেছিলেন। সেই গোপন অস্ত্র ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বি। ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে ঘোষণা করা হয়, ‘এই ছেলেটির দিকে নজর রাখুন।’ সেই সর্তকবার্তা পেয়েও তাকে থামাতে পারেনি আলজেরিয়া। ১০ মিনিটে রুবেন ভার্গাসের পাস ধরে বল পান মানজাম্বি। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে কাটিয়ে বাইলাইনের কাছ থেকে নিখুঁত ক্রস করেন। সেখান থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রিল এম্বোলো। স্কোরবোর্ডে গোলদাতার নাম এম্বোলো হলেও আসল কারিগর ছিলেন মানজাম্বিই। তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট মিলে মোট পাঁচ গোল সম্পৃক্ততায় বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০ বছর ২৬১ দিন বয়সে এই রেকর্ড গড়লেন মানজাম্বি। ২১ বছরের কম বয়সে কোনো খেলোয়াড়ের এই কীর্তির নজির আছে কেবল জার্মানির টমাস মুলারের। ২০১০ বিশ্বকাপে যিনি আট গোলে সম্পৃক্ত ছিলেন। আর মানজাম্বির ক্রস থেকে লিড এনে দেয়া ব্রিল এম্বোলো এবারের বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল করেন।
সুইজারল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে বেশি গোলের তালিকায় তার উপরে আছেন দুজন। ৬ গোল নিয়ে শীর্ষে ইয়োসেফ হুগি আর ৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় জের্দান শাকিরি। প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলজেরিয়াকে বড় ধাক্কা দেয় সুইসরা। বিরতি থেকে ফেরার মাত্র ৪৮ সেকেন্ড পর আলজেরিয়ার ক্লিয়ার করা বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার ঠিক বাইরে থেকে নিচের বাঁ কোণে শট মারেন দান এনদোয়ে। গোলরক্ষক লুকা জিদান হাত ছুঁইয়েও থামাতে পারেননি। ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার দাভোর সুকেরের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দ্বিতীয়ার্ধে এটি সবচেয়ে দ্রুত গোল। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সুইসদের হাতে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ১১টি শট নিয়েছে। বিপরীতে ৫৬ শতাংশ বল দখলে নিয়ে আলজেরিয়া শট নিয়েছে ৮টি। সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকার জন্য আলজেরিয়া ম্যাচটি ছিল বিশেষ। এ ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ১৫০তম বার মাঠে নামার কীর্তি গড়েন। শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া-ঘানা ম্যাচের জয়ী দল।
