বালু-মাটি দস্যুদের আগ্রাসনে ঐতিহ্য হারাচ্ছে মুরাদনগরের গোমতী নদী

বালু-মাটি দস্যুদের আগ্রাসনে ঐতিহ্য হারাচ্ছে মুরাদনগরের গোমতী নদী

ফন্ট সাইজ:

মুরাদনগরে গোমতী নদীর প্রায় ১০টি স্পট পাড়ে অর্ধশত ভেকু লাগিয়ে দিনে-রাতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। এতে এককালের স্রোতস্বিনী গোমতী নদী একদিকে যেমন নাব্য হারিয়ে প্রাণহীন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে মাটি বালুবাহী ট্টাক-ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে নদীরক্ষা বাঁধ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। মাটি ও বালু দস্যুদের আগ্রাসনে পড়ে দিনে দিনে গোমতী নদী যৌবন হারালেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এ নদীকে পুঁজি করে রাতারাতি শূন্য থেকে বিলাসবহুল বাড়ি গাড়ি ও অঢেল ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন অনেকেই। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, যখন যেই দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের স্থানীয় নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় সিন্ডিকেট করে প্রভাবশালীরা গোমতী নদীর বালু ও মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছে। মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের দৈলারচর, বোড়ারচর মসজিদ পাশে গোমতী নদী তীরে ডা. আলী ভূঞা ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করে মজিব ভূঁইয়ার ইটখলায়। ডা. আলী ভূঞা ওই ১০ শতাংশ জমির পাশে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড গোমতী নদীর ১শ’ ৫০ শতাংশ জমি। ওই ১শ’ ৫০ শতাংশ জমির মাটি পাশের অবৈধ ইটভাটা নিয়ে যাচ্ছে। জাহাপুর ইউনিয়ন হানিফার চার ও শুশুন্ডা চরসহ গোমতী নদীর ১০টি স্পট দিয়ে বালু ও প্রায় শতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বেহালে পরিণত হয়েছে। এসব মাটি সাবেক ইউপি’র সদস্য মজিবুর রহমান অবৈধ ইটভাটা বিক্রি করা হয়।
নাম না প্রকাশের শর্তে বিভিন্ন পেশার অন্তত অর্ধশতাধিক জন জানান, আপনাদের সঙ্গে কথা বললে আমাদের পরিবার পরিজনকে বিপদে পড়তে হবে। তবে পাউবোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র গোমতী নদীর বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। বিগত সময়ে সরকারের আমলে অবৈধভাবে নদী বালু ও মাটি বিক্রি করে শূন্য থেকে রাতারাতি কোটি কোটি টাকা, অঢেল সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি গাড়ির মালিক হয়েছে অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো কুমিল্লার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা বন্ধ করে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধরক্ষার জন্য পাউবোর পক্ষ থেকে নদীসংশ্লিষ্ট থানা উপজেলা নির্বাহী অফিসার একাধিক অভিযোগ করেও এসব কর্মকাণ্ড ঠেকানো যাচ্ছে না। উল্টো হুমকির শিকার হয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থানায় জিডি করেছেন। সংঘবদ্ধ চক্র মাটি আনা-নেয়ার নম্বরবিহীন ট্রাক্টর ব্যবহার করে থাকে, এ কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) কুমিল্লা শাখা সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খাঁন বলেন, গোমতী নদীর বালুমাটি কাটার বিরুদ্ধে সুজন বহুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনকারী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। যদি আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এই গোমতী নদীর বালুমাটি কাটা বন্ধ হবে না। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা বন্ধে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আমি লোক পাঠাচ্ছি সরজমিন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন। কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মাটি স্বাভাবিক উর্বরতা কমেছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গোমতী নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটিকাটার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে গোমতীর এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে কাটতে দেয়া যাবে না। গোমতীর মাটিরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন